স্বাস্থ্যকেন্দ্রে দেরিতে আসেন চিকিৎসক-কর্মকর্তারা, বাড়ি যান তাড়াতাড়ি

তৃণমূল মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠিত কুষ্টিয়ার কুমারখালীর চাপড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটিতে মিলছে না নিয়মিত সেবা। অভিযোগ রয়েছে, সময় মতো স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসেন না কোনো চিকিৎসক-কর্মকর্তারা। আবার সময় শেষ হওয়ার আগের বাড়ি ফিরে যান তারা। সোমবার (১৫ জুন) সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত কেন্দ্রটি তালাবদ্ধ ছিল। চিকিৎসক ও ফার্মাসিস্টের অনুপস্থিতিতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের ফিরে যেতে হয়েছে। সকাল ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে দরজার তালা খুলতে দেখা গেছে উপসহকারী কমিউনিটি স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (এসএসিএসও) শারমিন আক্তার। তবে তখনও কেন্দ্রে আসেননি ফার্মাসিস্ট নাসির উদ্দিন। জানা গেছে, সকাল ৮টার মধ্যে তাদের কেন্দ্রে উপস্থিত থাকার কথা। স্থানীয়দের অভিযোগ, জনবল সংকটের পাশাপাশি দায়িত্বে অবহেলার কারণে দীর্ঘদিন ধরেই কার্যকর সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। তাদের অভিযোগ, চিকিৎসকরা সকাল ১০টা-১১টায় আসেন। আর ১২টা বাজলেই চলে যান। ঠিকঠাক ওষুধ দেন না। নোংরা আবর্জনায় ভরা কেন্দ্রটি। কোনো সেবা নেই হাসপাতালে। মানুষ এসে এসে ফিরে যায়। সেবা না দিয়েই মাস গেলেই বেতন তুলে নিচ্ছেন। কর্মকর্তাদের কোনো

স্বাস্থ্যকেন্দ্রে দেরিতে আসেন চিকিৎসক-কর্মকর্তারা, বাড়ি যান তাড়াতাড়ি

তৃণমূল মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠিত কুষ্টিয়ার কুমারখালীর চাপড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটিতে মিলছে না নিয়মিত সেবা। অভিযোগ রয়েছে, সময় মতো স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসেন না কোনো চিকিৎসক-কর্মকর্তারা। আবার সময় শেষ হওয়ার আগের বাড়ি ফিরে যান তারা।

সোমবার (১৫ জুন) সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত কেন্দ্রটি তালাবদ্ধ ছিল। চিকিৎসক ও ফার্মাসিস্টের অনুপস্থিতিতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের ফিরে যেতে হয়েছে।

সকাল ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে দরজার তালা খুলতে দেখা গেছে উপসহকারী কমিউনিটি স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (এসএসিএসও) শারমিন আক্তার। তবে তখনও কেন্দ্রে আসেননি ফার্মাসিস্ট নাসির উদ্দিন। জানা গেছে, সকাল ৮টার মধ্যে তাদের কেন্দ্রে উপস্থিত থাকার কথা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, জনবল সংকটের পাশাপাশি দায়িত্বে অবহেলার কারণে দীর্ঘদিন ধরেই কার্যকর সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা।

তাদের অভিযোগ, চিকিৎসকরা সকাল ১০টা-১১টায় আসেন। আর ১২টা বাজলেই চলে যান। ঠিকঠাক ওষুধ দেন না। নোংরা আবর্জনায় ভরা কেন্দ্রটি। কোনো সেবা নেই হাসপাতালে। মানুষ এসে এসে ফিরে যায়। সেবা না দিয়েই মাস গেলেই বেতন তুলে নিচ্ছেন। কর্মকর্তাদের কোনো মাথা ব্যাথা নেই।

হাসপাতালটির খোলার পর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দেখা যায়, কেন্দ্রের ফার্মাসিস্টের কক্ষটি ময়লা, আবর্জনা ও নোংরায় ভরপুর। জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে চেয়ার, টেবিল ও রোগীর জন্য রাখা একটি বেঞ্চ। এসবের উপরে থালাবাসন, প্লাস্টিকের বোতল, ছেড়া পলিথিন ও নোংরা কাগজপত্রাদি। এছাড়াও আরও দুইটি কক্ষে একভাবে ময়লার স্তূপে পরিণত হয়েছে।

স্বাস্থ্যকেন্দ্রে দেরিতে আসেন চিকিৎসক-কর্মকর্তারা, বাড়ি যান তাড়াতাড়ি

স্থানীয় বাসিন্দা মসলেম উদ্দিন বলেন, ডাক্তার ঠিকমতো আসেন না। ফার্মাসিস্ট নাসির মাঝেমধ্যে এসে হাসপাতাল খুলে পথে পথে ময়লা কাগজ টোকান। সেগুলো আবার নিয়ে হাসপাতালের কক্ষে রেখে ময়লার ভাগাড় বানিয়েছেন।

ভাড়রা গ্রামের বাসিন্দা সাইদুল ইসলাম বলেন, নাসির হাসপাতালে না থেকেই বেতন তুলছেন। আর নারী ডাক্তার বেলা ১১টায় আসেন, দুপুর ১২টায় চলে যান। এসব দেখার কেউ নেই। সরকারের লাখ লাখ টাকা অপচয় হচ্ছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে উপসহকারী কমিউনিটি স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শারমিন আক্তার বলেন, শারীরিকভাবে অসুস্থ হওয়ায় আজ একটু দেরি হয়েছে। তবে ফার্মাসিস্ট নিয়ে খুব যন্ত্রণায় আছি। ঠিকমতো আসেন না, থাকেন না। কক্ষগুলো ময়লার স্তূপে পরিণত হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষে জানিয়েও কাজ হচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, ফার্মাসিস্ট নাসির একজন মানসিক রোগী। বিষয়টি কর্মকর্তারা জানেন।

মানসিক রোগের কথা স্বীকার করে ফার্মাসিস্ট নাসির উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, ৬০ হাজার টাকার বেশি বেতন তুলি। তিন মাস পর শনিবার (১৩ জুন) বাড়ি এসেছি। শরীর খারাপ। সেজন্য আজ যাইনি।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা চিকিৎসক শামীমা আক্তার বলেন, জনবল সংকট ও ফার্মাসিস্ট অসুস্থ হওয়ায় চাপড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটির অবস্থা খুবই নাজুক। ব্যাহত হচ্ছে সেবা। বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষে জানানো হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার বলেন, এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আল-মামুন সাগর/এনএইচআর/এমএস

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow