স্বাস্থ্যখাতে আসছে একগুচ্ছ মেগা প্রকল্প: সংসদে মন্ত্রী
সরকার সাধারণ ও প্রান্তিক মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে একগুচ্ছ মেগা প্রকল্প ও সংস্কার উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে চলতি অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে রেকর্ড ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ খাতে বাজেট জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। সোমবার (১৩ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২৩তম দিনের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য সুলতানা আহমেদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান তিনি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ও নীতিমালায় স্বাস্থ্যখাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য চিকিৎসাব্যবস্থাকে ‘চিকিৎসা-কেন্দ্রিক’ থেকে ‘প্রতিরোধ-কেন্দ্রিক’ মডেলে রূপান্তর করা। নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ ধাপে ধাপে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, এ লক্ষ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্
সরকার সাধারণ ও প্রান্তিক মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে একগুচ্ছ মেগা প্রকল্প ও সংস্কার উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে চলতি অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে রেকর্ড ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ খাতে বাজেট জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২৩তম দিনের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য সুলতানা আহমেদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ও নীতিমালায় স্বাস্থ্যখাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য চিকিৎসাব্যবস্থাকে ‘চিকিৎসা-কেন্দ্রিক’ থেকে ‘প্রতিরোধ-কেন্দ্রিক’ মডেলে রূপান্তর করা। নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ ধাপে ধাপে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, এ লক্ষ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এটি আগের অর্থবছরের ৩৫ হাজার ৪৭৭ কোটি টাকার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ এবং দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১ দশমিক ০২ শতাংশ।
তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যের জেনারেল প্র্যাকটিশনার (জিপি) মডেলের আদলে প্রতিটি ইউনিয়ন ও শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে প্রাইমারি হেলথকেয়ার ইউনিট গঠন করা হবে। প্রতিটি ইউনিটের অধীনে তিনটি করে কমিউনিটি ক্লিনিক পরিচালিত হবে।
এ ছাড়া উপজেলা হাসপাতালগুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করে সেখানে ২৪ ঘণ্টা জরুরি, ইনডোর ও আউটডোর চিকিৎসাসেবা এবং আধুনিক প্যাথলজি সুবিধা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রথমবারের মতো প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালে নারী ও পুরুষ ফিজিওথেরাপিস্টের পদ সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ঢাকার ওপর চাপ কমাতে জেলা হাসপাতালগুলোকে আধুনিকায়ন করে সেখানে ক্যানসার ও কিডনি রোগের চিকিৎসা চালু এবং জেলা হাসপাতালের সঙ্গে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে যুক্ত করে সমন্বিত ‘সেকেন্ডারি হেলথকেয়ার ইউনিট’ গড়ে তোলা হবে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার অংশ হিসেবে ই-হেলথ কার্ড চালু করা হচ্ছে, যা সমন্বিত রোগী ব্যবস্থাপনা ও রেফারেল সিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। খুলনা, নোয়াখালী, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও নরসিংদী জেলায় ১৬২ কোটি টাকার পাইলট প্রকল্পের আওতায় ২৫ লাখ ই-হেলথ কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে চিকিৎসকেরা রোগীর পূর্ববর্তী প্রেসক্রিপশন ও চিকিৎসার ইতিহাস দেখতে পারবেন।
আগামী ছয় মাসের মধ্যে খুলনা, বরিশাল, রংপুর, রাজশাহী ও কুমিল্লা বিভাগে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট পাঁচটি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালু করা হবে। এসব হাসপাতালে আইসিইউ ও কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি একটি জাতীয় অ্যাম্বুলেন্স পুল ও জরুরি সেবা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে।
জনবল সংকট কাটাতে দ্রুত ৫ হাজার এমবিবিএস চিকিৎসক নিয়োগের কার্যক্রম চলছে। পাশাপাশি ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে, যাদের প্রায় ৮০ শতাংশ নারী। আগামী তিন থেকে চার বছরে প্রতি ইউনিয়নে দুজন করে মোট ২৫০০০ মিডওয়াইফ নিয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে যোগ্যতাভিত্তিক এমবিবিএস কারিকুলাম চালু এবং চিকিৎসা প্রশিক্ষণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে।
তিনি বলেন, চিকিৎসা ব্যয় কমাতে জাতীয় অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা হালনাগাদ এবং নতুন ওষুধ নীতি প্রণয়ন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশে সিরিঞ্জ, ভেন্টিলেটর, এক্স-রে ও ইসিজি মেশিনসহ চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদনে উৎসাহ দিতে বিশেষায়িত মেডিকেল টেকনোলজি পার্ক স্থাপন এবং স্বল্পসুদে অর্থায়নের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এমওএস/এমএএইচ/
What's Your Reaction?