হবিগঞ্জে ৪ উপজেলায় হাওরে ডুবছে পাকা ধান 

হবিগঞ্জে টানা ২ দিনের ঝড়-তুফান, শিলাবৃষ্টি, বজ্রপাত ও কালবৈশাখীর আঘাতে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে জেলার সার্বিক পরিস্থিতি। প্রাকৃতিক এ দুর্যোগে হাওর অধ্যুষিত বানিয়াচং, আজমিরীগঞ্জ, লাখাই ও নবীগঞ্জ উপজেলার জনজীবনে নেমে এসেছে ব্যাপক বিপর্যয়। একইসঙ্গে ক্ষতির মুখে পড়েছে হাওরবাসীর একমাত্র ফসল বোরো ধান৷ প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে একদিকে যেমন বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। অন্যদিকে হাওরাঞ্চলের পাকা বোরো ধান পানিতে তলিয়ে কৃষকের স্বপ্ন এখন অনিশ্চয়তার মুখে৷ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক দিপক কুমার পাল জানান, হবিগঞ্জে গত ২ দিনে অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হওয়ায় হাওরাঞ্চলে হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ১ হাজার ২শ হেক্টর পাকা বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। তিনি জানান, চলতি বোরো মৌসুমে জেলায় প্রায় ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৪৪ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে হাওরাঞ্চলে প্রায় ৫৩ শতাংশ এবং নন-হাওর এলাকায় মাত্র ২০ শতাংশ ধান কাটা সম্ভব হয়েছে। ফলে বিপুল পরিমাণ ফসল এখনি ঝুঁকির মুখে রয়েছে। এখনো উজানের ঢল নামেনি এরই মধ্যে কেবল বৃষ্টির পানিতেই এই ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে বোরো

হবিগঞ্জে ৪ উপজেলায় হাওরে ডুবছে পাকা ধান 
হবিগঞ্জে টানা ২ দিনের ঝড়-তুফান, শিলাবৃষ্টি, বজ্রপাত ও কালবৈশাখীর আঘাতে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে জেলার সার্বিক পরিস্থিতি। প্রাকৃতিক এ দুর্যোগে হাওর অধ্যুষিত বানিয়াচং, আজমিরীগঞ্জ, লাখাই ও নবীগঞ্জ উপজেলার জনজীবনে নেমে এসেছে ব্যাপক বিপর্যয়। একইসঙ্গে ক্ষতির মুখে পড়েছে হাওরবাসীর একমাত্র ফসল বোরো ধান৷ প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে একদিকে যেমন বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। অন্যদিকে হাওরাঞ্চলের পাকা বোরো ধান পানিতে তলিয়ে কৃষকের স্বপ্ন এখন অনিশ্চয়তার মুখে৷ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক দিপক কুমার পাল জানান, হবিগঞ্জে গত ২ দিনে অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হওয়ায় হাওরাঞ্চলে হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ১ হাজার ২শ হেক্টর পাকা বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। তিনি জানান, চলতি বোরো মৌসুমে জেলায় প্রায় ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৪৪ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে হাওরাঞ্চলে প্রায় ৫৩ শতাংশ এবং নন-হাওর এলাকায় মাত্র ২০ শতাংশ ধান কাটা সম্ভব হয়েছে। ফলে বিপুল পরিমাণ ফসল এখনি ঝুঁকির মুখে রয়েছে। এখনো উজানের ঢল নামেনি এরই মধ্যে কেবল বৃষ্টির পানিতেই এই ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে বোরো ধানের ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষিবিদ দিপক কুমার পাল৷ এদিকে ভারী বর্ষণে জেলার ৪টি হাওরাঞ্চল উপজেলার ধান শুখানোর বেশিরভাগ খলাও তলিয়ে গেছে পানির নিচে। মাঠভর্তি সোনালি ধান কাটা শেষ হওয়ার আগেই পানির নিচে ডুবে যাওয়ায় দিশাহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। গত ২ দিনের ভারি বর্ষণ ও কালবৈশাখীর তাণ্ডবে নবীগঞ্জ উপজেলার গুঙ্গিয়াজুড়ি ও মকার হাওরসহ বিভিন্ন এলাকায় ৪শ হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে।  বানিয়াচং উপজেলায় প্রায় ২৫ শতাংশ জমির ধান তলিয়ে গেছে৷ লাখাই উপজেলার প্রায় ৭০ হেক্টরেরও বেশি জমির বোরো ধান তলিয়ে গেছে। বছরের একমাত্র ফসল হারিয়ে এখন দিশাহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।  আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় ১৪ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছিল৷ এর মধ্যে গত ২ দিনের ঝড়-তুফানে ২৫ শতাংশ জমির ধান তলিয়ে গেছে৷  ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, ঝড়-তুফানে ধান নুয়ে পড়ায় এখন কাটা ও মাড়াইয়ের খরচ বেড়ে যাবে৷ এর মধ্যে বৃষ্টির কারণে ধান পচে যাওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে। সবমিলিয়ে কালবৈশাখীর তাণ্ডবে হবিগঞ্জ জেলায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে কৃষকদের জন্য এ দুর্যোগ হয়ে উঠেছে বড় দুঃস্বপ্ন৷

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow