হাদির খুনিদের বিচারের দাবিতে জুলাই ঐক্যের কর্মসূচি পালিত
শহীদ ওসমান হাদির খুনি ও চব্বিশের গণহত্যাকারীদের ভারতে আশ্রয়, আইসিসিতে ভারতের আধিপত্য ও আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে ভারতীয় ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ‘র্যালি ফর বাংলাদেশ’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘জুলাই ঐক্য’ ‘র্যালি ফর বাংলাদেশ’ কর্মসূচি আয়োজন করে। সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে তারা শহীদ মিনার থেকে র্যালি শুরু করে রাজু ভাস্কর্য হয়ে শাহবাগ গিয়ে শেষ করে। এসময় তারা ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’, ‘ক্ষমতা না জনতা, জনতা জনতা’, ‘আপস না সংগ্রাম, সংগ্রাম সংগ্রাম’, ‘বিচার বিচার বিচার চাই, হাদি হত্যার বিচার চাই’, ‘তুমি কে আমি কে, হাদি হাদি’ স্লোগান দেয়। সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের বলেন, ওসমান হাদি হত্যার ঘটনা জাতিসংঘের অধীনে তদন্ত করার ইনকিলাব মঞ্চের যে দাবি তা অবিলম্বে মেনে নিতে হবে। ওসমান হাদী হত্যার বিচার করতে হবে, ভারতীয় আধিপত্যবাদের শিকল ভেঙে চুরমার করতে হবে। গতকালকে যারা যারা হামলা করেছে প্রত্যেকের ছবি-ভিডিও স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে। এই প্রত্যেককে চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনতে হব
শহীদ ওসমান হাদির খুনি ও চব্বিশের গণহত্যাকারীদের ভারতে আশ্রয়, আইসিসিতে ভারতের আধিপত্য ও আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে ভারতীয় ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ‘র্যালি ফর বাংলাদেশ’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘জুলাই ঐক্য’ ‘র্যালি ফর বাংলাদেশ’ কর্মসূচি আয়োজন করে। সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে তারা শহীদ মিনার থেকে র্যালি শুরু করে রাজু ভাস্কর্য হয়ে শাহবাগ গিয়ে শেষ করে।
এসময় তারা ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’, ‘ক্ষমতা না জনতা, জনতা জনতা’, ‘আপস না সংগ্রাম, সংগ্রাম সংগ্রাম’, ‘বিচার বিচার বিচার চাই, হাদি হত্যার বিচার চাই’, ‘তুমি কে আমি কে, হাদি হাদি’ স্লোগান দেয়।
সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের বলেন, ওসমান হাদি হত্যার ঘটনা জাতিসংঘের অধীনে তদন্ত করার ইনকিলাব মঞ্চের যে দাবি তা অবিলম্বে মেনে নিতে হবে। ওসমান হাদী হত্যার বিচার করতে হবে, ভারতীয় আধিপত্যবাদের শিকল ভেঙে চুরমার করতে হবে।
গতকালকে যারা যারা হামলা করেছে প্রত্যেকের ছবি-ভিডিও স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে। এই প্রত্যেককে চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। শুধুমাত্র বরখাস্ত করলেই আমরা ক্ষান্ত হচ্ছি না। তারা যে অপরাধ করেছে, এই অপরাধীদের রাষ্ট্রীয় আইনে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।
এবি জুবায়ের বলেন, এবারের নির্বাচন কোনো সাধারণ নির্বাচন নয়। এবারের নির্বাচন আনার জন্য দেড় বছর আগে আমাদের দুই হাজার ভাইবোন জীবন দিয়েছে। যারা দেশে এবং দেশের বাইরে থেকে আমাদের নির্বাচন নিয়ে চক্রান্ত করার চেষ্টা করছেন, নীল নকশা করছেন আজকের সমাবেশ থেকে আপনাদেরকে হুঁশিয়ার করে বলতে চাই, আপনারা সাবধান হয়ে যান। জুলাই জনতা আপনাদেরকে নতুন করে কোনোরকম গুটিবাজি করার সুযোগ কিন্তু আর দিবে না।
হাদি হত্যার বিষয়টি নিয়ে সরকার চালাকি করছে উল্লেখ করে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য রিয়াদুস জুবাহ বলেন, হাদি হত্যার বিষয়টা নিয়ে এখানে তারা (সরকার) চালাকি করার চেষ্টা করছে। তারা ছোট মাছ ধরে তাকে মাস্টারমাইন্ড বানিয়ে আমাদেরকে চোখে ধুলো দিয়ে এটাকে চাপিয়ে দিতে চাচ্ছে আমাদের ওপর। কিন্তু আমি বলতে চাই, ছাত্র-জনতা এখন আর বোকা নেই। আমরা সেই রাঘব বোয়ালদেরকেই চাই যারা মাস্টারমাইন্ড এই হত্যাকাণ্ডের। তাদেরকে জনগণের সামনে প্রকাশ করতে হবে এবং এই ন্যায়বিচার পূর্ণ করতে হবে।
তিনি বলেন, গতকাল আপনারা ছাত্র-জনতার গণপ্রতিরোধ দেখেছেন। খালি হাতে তারা যে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে, তাদেরকে আপনারা যদি কঠোরভাবে অবস্থান করতে বাধ্য করেন, আপনাদের চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যাবে না।
সমাবেশে সংহতি জানিয়ে জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও ঢাকা ৮ আসনের এমপি পদপ্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, গতকাল যে ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটানো হয়েছে রাজপথে, এটার জন্য সরাসরি এই সরকার দায়ী। আমাদের যে আন্দোলন ছিল গতকাল, এটা ছিল শান্তিপূর্ণ আন্দোলন। আন্তর্জাতিক কোনো সংস্থা বা ইউএনের মাধ্যমে হাদি হত্যার ‘ইনভেস্টিগেশন’ করে একটি সুষ্ঠু বিচার করবে এবং সরকার সেখানে একটি চিঠি দেবে এবং সরকারের কাছে তারা একটা নির্দিষ্ট টাইম ফ্রেমও চাইলো। কিন্তু প্রশাসনের কিছু লোক, সরকারের কিছু লোক অতি উৎসাহী হয়ে সবার উপরে জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করলো।
সরকারের একটি মহল নির্বাচন বানচাল করার উদ্দেশ্যে এই হামলা চালিয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের একটি মহল নির্বাচন বানচাল করার উদ্দেশ্যে এই হামলা, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে হামলা চালিয়েছিল। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত এবং বিচার চাই। যারা হসপিটালে আছেন, আমরা তাদের সুচিকিৎসা চাই।
জুলাই ঐক্যের অন্যতম সংগঠক ইসরাফিল ফরাজী বলেন, বাংলাদেশে আমরা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ভারতকে যেভাবে তাড়িয়েছিলাম, ভারতের প্রক্সিকে যেভাবে তাড়িয়েছিলাম, ঠিক সেভাবে আগামী নির্বাচনে যারা ভারতের প্রক্সি হয়ে বাংলাদেশে খেলার চেষ্টা করবে, তাদের সেভাবে বাংলাদেশ থেকে প্রতিহত করব।
বাংলাদেশ ক্রিকেটে আইসিসির হস্তক্ষেপ নিয়ে তিনি বলেন, যারা আইসিসি নিয়ে ছিনিমিনি খেলছেন, তারা সাবধান হয়ে যান। বাংলাদেশ না খেললে কোনো ক্ষতি হবে না, কিন্তু আপনারা যে ক্ষতি বাংলাদেশকে করতে যাচ্ছেন, সে ক্ষতিও বাংলাদেশে আর হবে না।
What's Your Reaction?