হানিট্র্যাপে ফেলে ‘আপত্তিকর ভিডিও’ ধারণ, নারীসহ গ্রেপ্তার ৩

নওগাঁর মান্দায় এলজিইডির এক কার্য সহকারীকে হানিট্র্যাপে ফেলে টিনশেডের একটি ঘরে নিয়ে ‘নগ্ন ভিডিও’ ধারণ করে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বাদী হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে মান্দা থানায় মামলা করেছেন। মামলার পর রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে এক নারীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- মান্দা উপজেলার কুসুম্বা গ্রামের বিমল চন্দ্র দাসের ছেলে কনক কুমার (৩০), কুসুম্বা দক্ষিণপাড়া গ্রামের লোকমান হোসেনের ছেলে সাজ্জাদ হোসেন (২৮) এবং বড়পই গ্রামের তছির আলীর মেয়ে তানজিমা খাতুন (৪৪)। মামলার অন্য আসামিরা পলাতক রয়েছেন। মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ আগস্ট সকালে কুসুম্বা মসজিদের কাছে কয়েকজন ব্যক্তি ওই কার্য সহকারীকে ডেকে নেন। চা খাওয়ার কথা বলে তাকে একটি টিনশেড ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চা ও সিগারেট খাওয়ার পর তার মাথা ঘুরতে শুরু করে। পরে অভিযুক্তরা তাকে পাশের একটি কক্ষে নিয়ে যান। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই কক্ষে এক নারী তাকে জড়িয়ে ধরার চেষ্টা করেন। এ সময় এক ব্যক্তি মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করতে থাকেন। এতে আপত্তি করলে তাকে মারধর করা হয়। এ

হানিট্র্যাপে ফেলে ‘আপত্তিকর ভিডিও’ ধারণ, নারীসহ গ্রেপ্তার ৩

নওগাঁর মান্দায় এলজিইডির এক কার্য সহকারীকে হানিট্র্যাপে ফেলে টিনশেডের একটি ঘরে নিয়ে ‘নগ্ন ভিডিও’ ধারণ করে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বাদী হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে মান্দা থানায় মামলা করেছেন।

মামলার পর রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে এক নারীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- মান্দা উপজেলার কুসুম্বা গ্রামের বিমল চন্দ্র দাসের ছেলে কনক কুমার (৩০), কুসুম্বা দক্ষিণপাড়া গ্রামের লোকমান হোসেনের ছেলে সাজ্জাদ হোসেন (২৮) এবং বড়পই গ্রামের তছির আলীর মেয়ে তানজিমা খাতুন (৪৪)। মামলার অন্য আসামিরা পলাতক রয়েছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ আগস্ট সকালে কুসুম্বা মসজিদের কাছে কয়েকজন ব্যক্তি ওই কার্য সহকারীকে ডেকে নেন। চা খাওয়ার কথা বলে তাকে একটি টিনশেড ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চা ও সিগারেট খাওয়ার পর তার মাথা ঘুরতে শুরু করে। পরে অভিযুক্তরা তাকে পাশের একটি কক্ষে নিয়ে যান।

অভিযোগ অনুযায়ী, ওই কক্ষে এক নারী তাকে জড়িয়ে ধরার চেষ্টা করেন। এ সময় এক ব্যক্তি মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করতে থাকেন। এতে আপত্তি করলে তাকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে জোর করে তার পোশাক খুলে ভিডিও ধারণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।

পরে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তার কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, অভিযুক্তরা জোরপূর্বক তার কাছ থেকে ১১ হাজার ৯০০ টাকা নিয়ে নেন।

এ ছাড়া আরও ১ লাখ ২০ হাজার টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে তার স্বাক্ষর করা একটি চেকে ওই পরিমাণ টাকা লিখে নেওয়া হয়। আরেকটি চেকে টাকার অঙ্ক ফাঁকা রেখে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। এ ছাড়া চেকবইয়ের অবশিষ্ট পাতাগুলো এবং তিনটি ফাঁকা নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পেও তার স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরদিন ৯ আগস্ট ওই চেকের মাধ্যমে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা উত্তোলনের জন্য অভিযুক্তরা মান্দা উপজেলার সতিহাটে অগ্রণী ব্যাংকের শাখায় যান। এর আগে ভুক্তভোগী ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার হিসাবের লেনদেন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ব্যবস্থা করেন। ফলে টাকা উত্তোলন করতে না পেরে অভিযুক্তরা ব্যাংকেই অবস্থান করছিলেন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কনক কুমার ও সাজ্জাদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় আরও দুজন পালিয়ে যান। পুলিশ ব্যাংক থেকে ভুক্তভোগীর স্বাক্ষর করা চেকটি জব্দ করে। পরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তানজিমা খাতুনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এর আগে আরও একজনকে একই কায়দায় হানিট্র্যাপে ফেলে টাকা ও মুঠোফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় পৃথক একটি মামলা হয়েছে।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার তিনজনকে সোমবার (১০ আগস্ট) আদালতের মাধ্যমে নওগাঁ কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow