হামজা চৌধুরী বাংলাদেশের হয়ে খেলে কত টাকা পেলেন?
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলা ফুটবলার হামজা চৌধুরী যখন বাংলাদেশের জার্সি গায়ে মাঠে নামলেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই দেশের ফুটবল ভক্তদের মনে কৌতূহল জাগে—জাতীয় দলে খেলে তিনি কী সুবিধা পেলেন?
এমনিতেই বাংলাদেশ জাতীয় দলের ফুটবলারদের নির্দিষ্ট কোনো ম্যাচ ফি নেই। ক্যাম্পে থাকলে প্রতিটি ফুটবলার ২০ হাজার টাকা পান। তবে এখনো সেই অর্থ হাতে পাননি খেলোয়াড়রা, এমনকি হামজাও। জাতীয় দলে খেললেও বুটসহ অন্যান্য ব্যক্তিগত সরঞ্জাম ফুটবলারদের নিজেদেরই কিনতে হয়।
ম্যানচেস্টার থেকে বাংলাদেশে আসা এবং ফিরে যাওয়ার জন্য বাফুফে হামজাকে বিজনেস ক্লাস টিকিট দিয়েছে। তবে ঢাকার ভেতরে এবং শিলং সফরে তিনি অন্য ফুটবলারদের মতোই ইকোনমি ক্লাসে ভ্রমণ করেছেন। টিম হোটেলেও তিনি সাধারণ সিঙ্গেল রুমেই ছিলেন, যদিও ঢাকার হোটেলে তাকে সম্মানার্থে একটি বিশেষ রুম দেওয়া হয়েছিল।
হামজার সফরের জন্য আনুষ্ঠানিক সৌজন্যমূলক কিছু খরচ হয়েছে বলে জানা গেছে। বিজনেস ক্লাস টিকিট ও আনুষঙ্গিক ব্যয় মিলিয়ে প্রায় ৫-৬ হাজার ডলার (প্রায় ৬ লাখ টাকা) খরচ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এই ব্যয় বাফুফে ফান্ড থেকে নাকি সভাপতি তাবিথ আউয়াল ব্যক্তিগতভাবে বহন করেছেন, তা নিশ্চিত নয়।
বাংলাদেশ দলের ম্যানেজার আমের খান বলেন, ‘হামজা অত্যন্ত অমায়িক মানুষ, কোনো বাড়তি চাহিদা প্রকাশ করেননি এবং দলের সঙ্গেই স্বাভাবিকভাবে মানিয়ে নিয়েছেন।’
জাতীয় দলের অন্য ফুটবলারদের মতো হামজার সম্মানীও ২০০ ডলারের সমান হবে, নাকি ভিন্ন কিছু, সে বিষয়ে বাফুফে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। বিষয়টি সরাসরি দেখছেন সভাপতি তাবিথ আউয়াল, তবে তিনিও এ নিয়ে কিছু বলতে চাননি।
বাংলাদেশের হয়ে হামজার প্রথম ম্যাচ দেখতে ইংল্যান্ড থেকে তার পরিবার এসেছিল, এছাড়া হবিগঞ্জ থেকেও অনেকে শিলংয়ে গিয়েছিলেন। তার অভিষেক উপলক্ষে কিছু অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে, তবে সেটাও স্পষ্ট নয়—এই ব্যয় ফেডারেশন বহন করেছে, নাকি কোনো স্পন্সর সহযোগিতা করেছে।
জাতীয় দলের ফুটবলারদের জন্য অর্থনৈতিক সুবিধার সীমাবদ্ধতা দীর্ঘদিনের বাস্তবতা। হামজার অন্তর্ভুক্তি নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে কিনা, সেটাই এখন দেখার বিষয়!