‘হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধে বদলাতে হবে জীবনযাত্রা’

বাংলাদেশে হৃদরোগ এখন নীরব মহামারিতে রূপ নিয়েছে। প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য মানুষ হার্ট অ্যাটাক ও হৃদরোগজনিত জটিলতায় আক্রান্ত হচ্ছেন।  চিকিৎসকদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার, ধূমপান, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, মানসিক চাপ, স্থূলতা এবং ব্যায়ামের অভাব হৃদরোগ বৃদ্ধির প্রধান কারণ।  একসময় হৃদরোগকে ধনীদের রোগ হিসেবে ধরা হলেও বর্তমানে গ্রাম থেকে শহর—সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মাঝেই এ রোগ বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী সামাজিক ও মানবিক প্রতিষ্ঠান প্রবর্তক সংঘ আয়োজন করে ‘হার্ট অ্যাটাক: প্রতিকার ও প্রতিরোধ’ শীর্ষক সেমিনারের।  শুক্রবার (৮ মে) সকালে নগরের প্রবর্তক সংঘের মাস্টারদা সূর্যসেন অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে চিকিৎসক, সমাজসেবক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। হৃদরোগের লক্ষণ, প্রতিরোধ এবং সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, হৃদরোগের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক রোগী শারীরিক পরিশ্রমের সময় বুকের মাঝখানে চাপ বা ব্যথা অনুভব করেন। অনেক সময় বুক ভারী হয়ে আসে, বাম হাত, কাঁধ কিংবা চোয়ালে ব

‘হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধে বদলাতে হবে জীবনযাত্রা’
বাংলাদেশে হৃদরোগ এখন নীরব মহামারিতে রূপ নিয়েছে। প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য মানুষ হার্ট অ্যাটাক ও হৃদরোগজনিত জটিলতায় আক্রান্ত হচ্ছেন।  চিকিৎসকদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার, ধূমপান, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, মানসিক চাপ, স্থূলতা এবং ব্যায়ামের অভাব হৃদরোগ বৃদ্ধির প্রধান কারণ।  একসময় হৃদরোগকে ধনীদের রোগ হিসেবে ধরা হলেও বর্তমানে গ্রাম থেকে শহর—সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মাঝেই এ রোগ বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী সামাজিক ও মানবিক প্রতিষ্ঠান প্রবর্তক সংঘ আয়োজন করে ‘হার্ট অ্যাটাক: প্রতিকার ও প্রতিরোধ’ শীর্ষক সেমিনারের।  শুক্রবার (৮ মে) সকালে নগরের প্রবর্তক সংঘের মাস্টারদা সূর্যসেন অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে চিকিৎসক, সমাজসেবক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। হৃদরোগের লক্ষণ, প্রতিরোধ এবং সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, হৃদরোগের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক রোগী শারীরিক পরিশ্রমের সময় বুকের মাঝখানে চাপ বা ব্যথা অনুভব করেন। অনেক সময় বুক ভারী হয়ে আসে, বাম হাত, কাঁধ কিংবা চোয়ালে ব্যথা ছড়িয়ে পড়ে।  কেউ কেউ পেটের ওপরের অংশেও অস্বস্তি অনুভব করেন। এসব উপসর্গকে অনেকে গ্যাস্ট্রিক বা সাধারণ দুর্বলতা ভেবে অবহেলা করেন। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এগুলোই হার্ট অ্যাটাকের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। পরে অতিরিক্ত ঘাম, শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা কিংবা জ্ঞান হারানোর মতো পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে। অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এম এ মালেক। তিনি বলেন, দেশে হার্ট অ্যাটাকের প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। আগে বয়স বেশি হলে মানুষ হৃদরোগে আক্রান্ত হতেন, এখন তরুণদের মাঝেও এ রোগ বাড়ছে। মানুষের জীবনযাত্রার পরিবর্তন, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস ও মানসিক চাপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। তিনি বলেন, আমাদের যে সমস্যা হার্ট অ্যাটাক, সেটি এখন বেড়েছে। তাই প্রতিকার ও প্রতিরোধকে গুরুত্ব দিতে হবে। সচেতনতা সৃষ্টি করতে পারলে আমরা অনেকাংশে এ সমস্যা মোকাবিলা করতে পারব। প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, হৃদরোগ বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা। শহরের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও হার্ট অ্যাটাকের সংখ্যা বাড়ছে। তিনি হৃদরোগকে নগরের জলাবদ্ধতার সঙ্গে তুলনা করে বলেন, যেভাবে ড্রেন বা খাল বন্ধ হয়ে গেলে পানি জমে যায়, একইভাবে রক্তনালিতে ব্লক তৈরি হলে হার্ট অ্যাটাক হয়। তিনি বলেন, চট্টগ্রামের মানুষের মেজবানসহ অতিরিক্ত গরুর মাংস খাওয়ার প্রবণতাও হৃদরোগ বৃদ্ধির একটি কারণ। অতিরিক্ত চর্বি ও কোলেস্টেরল শরীরে নানা জটিলতা তৈরি করে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম হার্ট ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি জেনারেল এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. প্রবীর কুমার দাশ বলেন, হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম কারণ হলো রক্তনালিতে চর্বি জমে ব্লক তৈরি হওয়া। ধূমপান, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল এ ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। বর্তমানে এনজিওগ্রামের মাধ্যমে হার্টের ব্লক শনাক্ত করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সময়মতো চিকিৎসা শুরু হলে রোগীর জীবন বাঁচানোর সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। হৃদরোগ প্রতিরোধে নিয়মিত হাঁটা, স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের ওপর তিনি গুরুত্ব দেন। অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক চৌধুরী বলেন, হার্ট অ্যাটাক হঠাৎ করে হয় না। দীর্ঘদিনের অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন ও শারীরিক সমস্যার কারণে ধীরে ধীরে এ রোগ তৈরি হয়। তিনি বলেন, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপকে অবহেলা করা উচিত নয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা জরুরি। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. এ কে এম মনজুর মোর্শেদ বলেন, আগে মানুষ বেশি শারীরিক পরিশ্রম করতেন, এখন যন্ত্রনির্ভর জীবনে সেই পরিশ্রম কমে গেছে। ফলে স্থূলতা ও ডায়াবেটিস বাড়ছে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। তিনি প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটার পরামর্শ দেন। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান ডা. আশীষ দে বলেন, বর্তমানে তরুণদের মাঝেও হার্ট অ্যাটাকের ঘটনা বাড়ছে। রাত জাগা, ফাস্টফুড, ধূমপান ও মানসিক চাপ এ সমস্যাকে বাড়িয়ে তুলছে।  তিনি বলেন, হার্ট অ্যাটাকের উপসর্গ দেখা দিলে সময় নষ্ট না করে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। সভাপতির বক্তব্যে প্রবর্তক সংঘ (বাংলাদেশ), চট্টগ্রামের সভাপতি শ্রী ইন্দু নন্দন দত্ত বলেন, প্রবর্তক সংঘ দীর্ঘদিন ধরে মানবকল্যাণমূলক কাজ করে যাচ্ছে। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৭০০ অনাথ ছেলে-মেয়ের দায়িত্ব নিয়ে তাদের শিক্ষা ও লালন-পালনের ব্যবস্থা করছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তিনি বলেন, মানুষের স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য এ ধরনের সেমিনার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা চাই মানুষ হৃদরোগ সম্পর্কে সচেতন হোক এবং নিজেদের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনুক। অনুষ্ঠান শেষে হৃদরোগ প্রতিরোধে নিয়মিত ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান ও মাদক পরিহার, পর্যাপ্ত ঘুম এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সচেতনতা বৃদ্ধিতে এ ধরনের সেমিনারের গুরুত্বও তুলে ধরা হয়।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow