২০২২: মেসির হাতে বিশ্বকাপ, পূর্ণ হলো ফুটবলের গল্প

২০০৬ সালের বিশ্বকাপের লিগ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে সার্বিয়া অ্যান্ড মন্টেনেগ্রোর বিপক্ষে ৭৫তম মিনিটে ঝাঁকড়া চুলের বাবরি দোলানো ১৯ বছরের এক তরুণ ফুটবলার মাঠে নেমেছিলেন। মাঠে নেমেই ৮৮ মিনিটে করেছিলেন দুর্দান্ত এক গোল। বিশ্বকাপে সেই যে যাত্রা শুরু হলো, তখন কী কেউ ভাবতে পেরেছিলেন- একটা সময় সারা বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীরা কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা করতে থাকবে, এই ফুটবলারটির হাতে অন্তত একবার হলেও বিশ্বকাপ শিরোপাটা উঠুক! না হয় যে ফুটবলই অপূর্ণ থেকে যাবে! ২০২২ সালে কাতারে এসে ফুটবল সেই পূর্ণতা এনে দিলো। দোহার লুসাইল আইকনিক স্টেডিয়ামে ১৮ ডিসেম্বর টাইব্রেকারে জয়ের পর যখন বিশ্বকাপ শিরোপাটা লিওনেল মেসি হাতে তুলে ধরলেন, তাতে যেন ফুটবলই গৌরবান্বিত হয়ে গেলো। স্বপ্নপূরণ যে এতটা গৌরবান্বিত হতে পারে, লিওনেল মেসিদের হাতে বিশ্বকাপ ওঠার আগ পর্যন্ত বোঝা যায়নি। ১৯৮৬ সালে ম্যারাডোনার হাত ধরে বিশ্বকাপ জয়ের পর ৩৬টি বছর কেটে গেছে, এরপর আর চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি আর্জেন্টিনা। ২০২২ সালে মেসিদের হাত ধরে দীর্ঘদিনের সেই অধরা স্বপ্নটাও পূরণ হয়ে গেলো আলবিসেলেস্তেদের। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ শুধু একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট ছিল না, এটি ছিল ই

২০২২: মেসির হাতে বিশ্বকাপ, পূর্ণ হলো ফুটবলের গল্প

২০০৬ সালের বিশ্বকাপের লিগ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে সার্বিয়া অ্যান্ড মন্টেনেগ্রোর বিপক্ষে ৭৫তম মিনিটে ঝাঁকড়া চুলের বাবরি দোলানো ১৯ বছরের এক তরুণ ফুটবলার মাঠে নেমেছিলেন। মাঠে নেমেই ৮৮ মিনিটে করেছিলেন দুর্দান্ত এক গোল। বিশ্বকাপে সেই যে যাত্রা শুরু হলো, তখন কী কেউ ভাবতে পেরেছিলেন- একটা সময় সারা বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীরা কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা করতে থাকবে, এই ফুটবলারটির হাতে অন্তত একবার হলেও বিশ্বকাপ শিরোপাটা উঠুক! না হয় যে ফুটবলই অপূর্ণ থেকে যাবে!

২০২২ সালে কাতারে এসে ফুটবল সেই পূর্ণতা এনে দিলো। দোহার লুসাইল আইকনিক স্টেডিয়ামে ১৮ ডিসেম্বর টাইব্রেকারে জয়ের পর যখন বিশ্বকাপ শিরোপাটা লিওনেল মেসি হাতে তুলে ধরলেন, তাতে যেন ফুটবলই গৌরবান্বিত হয়ে গেলো। স্বপ্নপূরণ যে এতটা গৌরবান্বিত হতে পারে, লিওনেল মেসিদের হাতে বিশ্বকাপ ওঠার আগ পর্যন্ত বোঝা যায়নি।

১৯৮৬ সালে ম্যারাডোনার হাত ধরে বিশ্বকাপ জয়ের পর ৩৬টি বছর কেটে গেছে, এরপর আর চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি আর্জেন্টিনা। ২০২২ সালে মেসিদের হাত ধরে দীর্ঘদিনের সেই অধরা স্বপ্নটাও পূরণ হয়ে গেলো আলবিসেলেস্তেদের।

Champion

২০২২ কাতার বিশ্বকাপ শুধু একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট ছিল না, এটি ছিল ইতিহাস, বিতর্ক, আবেগ, নাটকীয়তা এবং রেকর্ডের এক অনন্য মঞ্চ। মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারে ২০ নভেম্বর থেকে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হওয়া এই আসর ছিল ফিফা বিশ্বকাপের ২২তম সংস্করণ। একই সঙ্গে এটি ছিল ৩২ দলের শেষ বিশ্বকাপ; ২০২৬ থেকে দল বাড়িয়ে করা হয় ৪৮।

বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আসরটি বসেছিল মধ্যপ্রাচ্য ও আরব অঞ্চলে। কাতারের প্রচণ্ড গরমের কারণে প্রচলিত জুন-জুলাইয়ের পরিবর্তে নভেম্বর-ডিসেম্বরে আয়োজন করা হয় টুর্নামেন্টটি। মাত্র ২৯ দিনে ৫টি শহরের ৮টি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় ৬৪টি ম্যাচ।

লিওনেল মেসির স্বপ্নপূরণ, মরক্কোর রূপকথা, এমবাপের বিস্ফোরণ আর আর্জেন্টিনার মহাকাব্যিক শিরোপা জয়- সব মিলিয়ে ২০২২ বিশ্বকাপ ছিল যেন এক সিনেমার চিত্রনাট্য।

মধ্যপ্রাচ্যে প্রথম বিশ্বকাপ

২০২২ সালের ২০ নভেম্বর থেকে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত কাতারে অনুষ্ঠিত হওয়া ফিফা বিশ্বকাপের ২২তম আসরটি ছিল প্রথম বিশ্বকাপ- যা মধ্যপ্রাচ্য ও আরব অঞ্চলে আয়োজিত হয়। মাত্র ২৯ দিনে ৬৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয় কাতারের ৫টি শহরের ৮টি স্টেডিয়ামে।

মেসির মহাকাব্যিক শিরোপা জয়

২০২২ বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় গল্প নিঃসন্দেহে লিওনেল মেসির। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে সবকিছু জিতেও বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফিটি না পাওয়ার আক্ষেপ ছিল আর্জেন্টাইন মহাতারকার। কাতার সেই অপূর্ণতা ঘুচিয়ে দিলো।

ফাইনালে ফ্রান্সকে টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়ে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময় শেষে ম্যাচটি ছিল ৩-৩ সমতায়। অনেকের মতে, এটি ছিল বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফাইনাল।

Messi

মেসি পুরো টুর্নামেন্টে অসাধারণ পারফরম্যান্স করে জিতে নেন গোল্ডেন বল। এটি ছিল তার দ্বিতীয় গোল্ডেন বল, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে বিরল কীর্তি। ফুটবল বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করেন, এই শিরোপাই মেসিকে সর্বকালের সেরা ফুটবলারের আসনে স্থায়ীভাবে বসিয়ে দিয়েছে।

এমবাপের হ্যাটট্রিক, তবুও শিরোপা ফ্রান্সের নয়

ফাইনালে কিলিয়ান এমবাপে যা করেছেন, তা বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রায় অলৌকিক। ১৯৬৬ সালের পর প্রথম ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপ ফাইনালে হ্যাটট্রিক করেন তিনি। পুরো আসরে ৮ গোল করে জিতে নেন গোল্ডেন বুট।

এমবাপে আরও একটি রেকর্ড গড়েন। ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালে ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি ভাভার পর প্রথম ফুটবলার হিসেবে টানা দুই বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করেন তিনি। তবু শেষ হাসি হাসতে পারেনি ফ্রান্স। টাইব্রেকারের নাটকে শিরোপা হাতছাড়া হয় ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের।

Mbappe

মরক্কোর রূপকথা

২০২২ বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় চমক ছিল মরক্কো। আফ্রিকার প্রথম দেশ হিসেবে তারা পৌঁছে যায় বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে। গ্রুপ পর্বে বেলজিয়াম ও ক্রোয়েশিয়ার মতো দলকে টপকে শেষ ষোলোয় ওঠে মরক্কো। এরপর স্পেন ও পর্তুগালকে বিদায় করে ইতিহাস গড়ে তারা। প্রথম আফ্রিকান দেশ হিসেবে উঠে যায় সেমিফাইনালে। শেষ পর্যন্ত সেমিফাইনালে ফ্রান্সের কাছে ২-০ গোলে হেরে থামে তাদের স্বপ্নযাত্রা।

Morocco

রেকর্ডের বিশ্বকাপ

কাতার বিশ্বকাপে হয়েছিল মোট ১৭২ গোল, যা ৩২ দলের বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, অংশ নেওয়া প্রতিটি দল অন্তত একটি করে গোল করেছে। আর্জেন্টিনার এমিলিয়ানো মার্টিনেজ জেতেন গোল্ডেন গ্লাভস, আর তরুণ তারকা এনজো ফার্নান্দেজ হয়েছেন সেরা উদীয়মান ফুটবলার।

অভিনব আয়োজন ও প্রযুক্তির ব্যবহার

এই বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো এক ম্যাচে পাঁচটি পরিবর্তনের অনুমতি দেওয়া হয়। অতিরিক্ত সময়ে আরও একটি পরিবর্তন করা যেত। এছাড়া প্রথমবারের মতো ‘কনকাশন সাবস্টিটিউট’ নিয়ম চালু হয়। ইরানের গোলরক্ষক আলিরেজা বেইরানভান্দ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাথায় আঘাত পেয়ে বদলি হওয়ার মাধ্যমে বিশ্বকাপে প্রথম কনকাশন সাবস্টিটিউটের উদাহরণ তৈরি করেন। স্টেডিয়ামগুলোতে ব্যবহার করা হয় বিশেষ কুলিং সিস্টেম, যা তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমিয়ে আনতে সক্ষম।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও ভিন্নতা

২০ নভেম্বর আল খোরের আল বাইত স্টেডিয়ামে হয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। সেখানে অংশ নেন হলিউড অভিনেতা মরগ্যান ফ্রিম্যান, কাতারি তরুণ গনিম আল-মুফতাহ, বিটিএস তারকা জাংকুক ও কাতারি শিল্পী ফাহাদ আল-কুবাইসি। বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করা হয়। কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি আনুষ্ঠানিকভাবে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

নতুন এক যুগের সূচনা

২০২২ কাতার বিশ্বকাপ ছিল আবেগ, নাটকীয়তা, বিস্ময় এবং ইতিহাসের এক অপূর্ব মিশ্রণ। মেসির বিশ্বজয়ের মহাকাব্য, মরক্কোর রূপকথা, এমবাপের বিস্ফোরণ- সব মিলিয়ে এটি হয়ে থাকবে বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় আসর। একই সঙ্গে কাতারের বিশ্বকাপ ফুটবলকে নতুন ভূগোল, নতুন সংস্কৃতি এবং নতুন বাস্তবতার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে।

বিশ্বকাপের প্রাইজমানি

ফিফা ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে বিশ্বকাপের প্রাইজমানি ঘোষণা করে। মোট প্রাইজমানি ছিল ৪৪০ মিলিয়ন ডলার। চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা পায় ৪২ মিলিয়ন ডলার, রানার্সআপ ফ্রান্স ৩০ মিলিয়ন ডলার। প্রতিটি দল প্রস্তুতি বাবদ পায় ১৫ লাখ ডলার এবং গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়া প্রতিটি দল পায় অন্তত ৯ মিলিয়ন ডলার।

* চ্যাম্পিয়ন: ৪২ মিলিয়ন ডলার
* রানার্সআপ: ৩০ মিলিয়ন ডলার
* তৃতীয় স্থান: ২৭ মিলিয়ন ডলার
* চতুর্থ স্থান: ২৫ মিলিয়ন ডলার

স্বাগতিক নির্বাচন

২০১০ সালের ২ ডিসেম্বর সুইজারল্যান্ডের জুরিখে ফিফার নির্বাহী কমিটির ভোটে কাতার ২০২২ বিশ্বকাপের স্বাগতিক নির্বাচিত হয়। যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়াকে পেছনে ফেলে কাতার এই অধিকার অর্জন করে। তবে এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে ব্যাপক সমালোচনা হয় এবং ফিফা দুর্নীতির অভিযোগও ওঠে।

ব্যয়বহুল বিশ্বকাপ

বিশ্বকাপ আয়োজনে কাতার আনুমানিক ২২০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে বলে ধারণা করা হয়, যা ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল বিশ্বকাপ। যদিও কাতার দাবি করে প্রকৃত ব্যয় ছিল প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার।

World cup

গ্রুপ পর্ব: চমক, অঘটন আর ইতিহাস

২০২২ কাতার বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব অনুষ্ঠিত হয় ২০ নভেম্বর থেকে ২ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ৮টি গ্রুপে বিভক্ত ৩২টি দল রাউন্ড-রবিন পদ্ধতিতে একে অপরের মুখোমুখি হয়। প্রতিটি গ্রুপ থেকে শীর্ষ দুই দল নকআউট পর্বে ওঠে।

বিশ্বকাপের শুরুতেই ঘটে সবচেয়ে বড় অঘটন। সৌদি আরব ২-১ গোলে হারিয়ে দেয় লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনাকে। বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম বড় আপসেট হিসেবে বিবেচিত হয় ম্যাচটি। কিন্তু সেই হারই যেন তাতিয়ে দেয় আর্জেন্টিনাকে।

স্বাগতিক কাতারের জন্য বিশ্বকাপ ছিল হতাশার। তারা বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম আয়োজক দল হিসেবে টানা তিন ম্যাচ হেরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়।

গ্রুপ ‘এ’

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক কাতার ২-০ গোলে হারে ইকুয়েডরের কাছে। এনার ভ্যালেন্সিয়ার জোড়া গোলে জয় পায় ইকুয়েডর। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম স্বাগতিক দল হিসেবে উদ্বোধনী ম্যাচে হারার লজ্জায় পড়ে কাতার।

অন্য ম্যাচে নেদারল্যান্ডস ২-০ গোলে হারায় সেনেগালকে। কোডি গাকপো ও ডেভি ক্লাসেন গোল করেন। পরে সেনেগাল ৩-১ গোলে হারায় কাতারকে। কাতারের হয়ে বিশ্বকাপে প্রথম গোল করেন মোহাম্মদ মুনতারি।

শেষ ম্যাচে নেদারল্যান্ডস ২-০ গোলে হারায় কাতারকে এবং গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়। সেনেগাল ২-১ গোলে হারায় ইকুয়েডরকে এবং রানার্সআপ হিসেবে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে।

গ্রুপ ‘বি’

ইংল্যান্ড ৬-২ গোলের বড় জয়ে শুরু করে ইরানের বিপক্ষে। অন্য ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্র ও ওয়েলস ১-১ গোলে ড্র করে। ইরান পরে ওয়েলসকে ২-০ গোলে হারায়। ইংল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্র গোলশূন্য ড্র করে। শেষ ম্যাচে ইংল্যান্ড ৩-০ গোলে হারায় ওয়েলসকে। যুক্তরাষ্ট্র ১-০ গোলে হারায় ইরানকে। ফলে ইংল্যান্ড গ্রুপসেরা এবং যুক্তরাষ্ট্র রানার্সআপ হয়।

গ্রুপ ‘সি’

বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় অঘটনের জন্ম দেয় সৌদি আরব। মেসির পেনাল্টিতে এগিয়ে যাওয়ার পরও ২-১ গোলে আর্জেন্টিনাকে হারায় তারা। মেক্সিকো ও পোল্যান্ড গোলশূন্য ড্র করে। পরে পোল্যান্ড ২-০ গোলে হারায় সৌদি আরবকে। আর্জেন্টিনা ২-০ গোলে হারায় মেক্সিকোকে।

শেষ ম্যাচে আর্জেন্টিনা ২-০ গোলে হারায় পোল্যান্ডকে এবং গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়। গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে পোল্যান্ড রানার্সআপ হিসেবে নকআউটে ওঠে।

গ্রুপ ‘ডি’

ডেনমার্ক ও তিউনিসিয়ার ম্যাচ গোলশূন্য ড্র হয়। ফ্রান্স ৪-১ গোলে হারায় অস্ট্রেলিয়াকে। অলিভিয়ে জিরু দুটি গোল করেন। অস্ট্রেলিয়া ১-০ গোলে হারায় তিউনিসিয়াকে। ফ্রান্স ২-১ গোলে হারায় ডেনমার্ককে। কিলিয়ান এমবাপে জোড়া গোল করেন। শেষ ম্যাচে তিউনিসিয়া ১-০ গোলে হারালেও ফ্রান্স গ্রুপসেরা হয়। অস্ট্রেলিয়া ১-০ গোলে হারায় ডেনমার্ককে এবং রানার্সআপ হিসেবে নকআউটে ওঠে।

গ্রুপ ‘ই’

জাপান বড় চমক দেখিয়ে ২-১ গোলে হারায় জার্মানিকে। অন্য ম্যাচে স্পেন ৭-০ গোলে উড়িয়ে দেয় কোস্টারিকাকে। কোস্টারিকা পরে ১-০ গোলে হারায় জাপানকে। জার্মানি ও স্পেন ১-১ গোলে ড্র করে।

শেষ ম্যাচে জাপান ২-১ গোলে হারায় স্পেনকে এবং গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়। জার্মানি ৪-২ গোলে জিতলেও দ্বিতীয়বারের মতো টানা গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়। স্পেন রানার্সআপ হয়।

Mbappe

গ্রুপ ‘এফ’

এই গ্রুপে মরক্কো লিখে নতুন ইতিহাস। মরক্কো ও ক্রোয়েশিয়ার ম্যাচ গোলশূন্য ড্র হয়। বেলজিয়াম ১-০ গোলে হারায় কানাডাকে। মরক্কো ২-০ গোলে হারায় বেলজিয়ামকে। ক্রোয়েশিয়া ৪-১ গোলে জেতে কানাডার বিপক্ষে।

শেষ ম্যাচে মরক্কো ২-১ গোলে হারায় কানাডাকে এবং গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়। ক্রোয়েশিয়া গোলশূন্য ড্র করে বেলজিয়ামের সাথে এবং রানার্সআপ হিসেবে ওঠে। বেলজিয়ামের ‘গোল্ডেন জেনারেশন’ বিদায় নেয় গ্রুপ পর্ব থেকেই।

গ্রুপ ‘জি’

ব্রাজিল ২-০ গোলে হারায় সার্বিয়াকে। রিচার্লিসন করেন জোড়া গোল। সুইজারল্যান্ড ১-০ গোলে হারায় ক্যামেরুনকে। ক্যামেরুন ও সার্বিয়ার ম্যাচ ৩-৩ গোলে ড্র হয়। ব্রাজিল ১-০ গোলে হারায় সুইজারল্যান্ডকে।

শেষ ম্যাচে ক্যামেরুন ১-০ গোলে হারায় ব্রাজিলকে, কিন্তু তবুও বিদায় নেয়। সুইজারল্যান্ড ৩-২ গোলে হারায় সার্বিয়াকে এবং নকআউটে ওঠে।

গ্রুপ ‘এইচ’

উরুগুয়ে ও দক্ষিণ কোরিয়ার ম্যাচ গোলশূন্য ড্র হয়। পর্তুগাল ৩-২ গোলে হারায় ঘানাকে। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো বিশ্বকাপ ইতিহাসে পাঁচ আসরে গোল করা প্রথম ফুটবলারের গৌরব অর্জন করেন।

ঘানা ৩-২ গোলে হারায় দক্ষিণ কোরিয়াকে। পর্তুগাল ২-০ গোলে হারায় উরুগুয়েকে। শেষ ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়া ২-১ গোলে হারায় পর্তুগালকে। উরুগুয়ে ২-০ গোলে জিতলেও গোলসংখ্যায় পিছিয়ে থেকে বিদায় নেয়।

নকআউট পর্ব

শেষ ষোলো

নকআউটের মুরুতে নেদারল্যান্ডস ৩-১ গোলে হারায় যুক্তরাষ্ট্রকে। আর্জেন্টিনা ২-১ গোলে হারায় অস্ট্রেলিয়াকে। ফ্রান্স ৩-১ গোলে জেতে পোল্যান্ডের বিপক্ষে। ইংল্যান্ড ৩-০ গোলে হারায় সেনেগালকে।

ক্রোয়েশিয়া টাইব্রেকারে ৩-১ গোলে হারায় জাপানকে। ব্রাজিল ৪-১ গোলে উড়িয়ে দেয় দক্ষিণ কোরিয়াকে। মরক্কো টাইব্রেকারে ৩-০ গোলে হারায় স্পেনকে। পর্তুগাল ৬-১ গোলে বিধ্বস্ত করে সুইজারল্যান্ডকে। গনসালো রামোস করেন হ্যাটট্রিক।

কোয়ার্টার ফাইনাল

ব্রাজিল ও ক্রোয়েশিয়ার ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে এসে ১-১ সমতায় শেষ হয়। টাইব্রেকারে ৪-২ গোলে জিতে সেমিফাইনালে ওঠে ক্রোয়েশিয়া, বিদায় নেয় ব্রাজিল। আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডস ২-২ সমতায় ম্যাচ শেষ করে। টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে জিতে আর্জেন্টিনা।

মরক্কো ১-০ গোলে হারায় পর্তুগালকে। ইউসুফ এন-নেসিরির গোলে ইতিহাস গড়ে প্রথম আফ্রিকান ও আরব দেশ হিসেবে সেমিফাইনালে ওঠে মরক্কো। ফ্রান্স ২-১ গোলে হারায় ইংল্যান্ডকে। হ্যারি কেইন দ্বিতীয় পেনাল্টি মিস করেন।

সেমিফাইনাল

লিওনেল মেসি ও হুলিয়ান আলভারেজের দুর্দান্ত নৈপুণ্যে আর্জেন্টিনা ৩-০ গোলে হারায় ক্রোয়েশিয়াকে। ফ্রান্স ২-০ গোলে মরক্কোর স্বপ্নযাত্রা থামিয়ে উঠে যায় ফাইনালে। থিও হার্নান্দেজ ও র‍্যান্ডাল কোলো মুয়ানি গোল করেন।

তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ

ক্রোয়েশিয়া ২-১ গোলে হারায় মরক্কোকে। জসকো জিভার্ডিওল ও মিসলাভ ওরশিচ গোল করেন। মরক্কো চতুর্থ হয়ে আফ্রিকান ও আরব দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ সাফল্য অর্জন করে।

ফাইনাল

১৮ ডিসেম্বর লুসাইল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় বিশ্বকাপ ফাইনাল। আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্স- দুই দলই আগে দুইবার করে বিশ্বকাপ জিতেছিল। মেসির পেনাল্টি ও ডি মারিয়ার গোলে আর্জেন্টিনা ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। এরপর এমবাপে মাত্র দুই মিনিটের ব্যবধানে দুটি গোল করে ফ্রান্সকে ম্যাচে সমতায় ফেরান।

অতিরিক্ত সময়ে আবার গোল করেন মেসি। পরে পেনাল্টি থেকে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন এমবাপে। ম্যাচ ৩-৩ সমতায় শেষ হয়। টাইব্রেকারে ৪-২ গোলে জিতে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় আর্জেন্টিনা। ১৯৮৬ সালের পর এটি ছিল তাদের প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা।

Awards

গোলস্কোরার ও পরিসংখ্যান

মোট ৬৪ ম্যাচে ১৭২টি গোল হয়, যা ৩২ দলের বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ। ম্যাচপ্রতি গড় গোল ছিল ২.৬৯।

* কিলিয়ান এমবাপে ৮ গোল করে জেতেন গোল্ডেন বুট।
* লিওনেল মেসি করেন ৭ গোল ও ৩ অ্যাসিস্ট।
* অলিভিয়ের জিরু ৪ গোল করে ব্রোঞ্জ বুট পান।
* পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র দুটি আত্মঘাতি গোল হয়।

পুরস্কার

* গোল্ডেন বল: লিওনেল মেসি
* সিলভার বল: কিলিয়ান এমবাপে
* ব্রোঞ্জ বল: লুকা মদরিচ
* গোল্ডেন বুট : কিলিয়ান এমবাপে (৮ গোল)
* সিলভার বুট: লিওনেল মেসি (৭ গোল)
* ব্রোঞ্জ বুট: অলিভিয়ে জিরু (৪ গোল)
* গোল্ডেন গ্লাভস: এমিলিয়ানো মার্টিনেজ
* সেরা তরুণ খেলোয়াড়: এনজো ফার্নান্দেজ
* ফেয়ার প্লে ট্রফি: ইংল্যান্ড
* ফিফা ডটকমের ভোটে টুর্নামেন্টের সেরা গোল নির্বাচিত হয় ব্রাজিলের রিচার্লিসনের সার্বিয়ার বিপক্ষে করা বাইসাইকেল কিক গোলটি।

Richerlison

ব্র্যান্ডিং, বিতর্ক ও বিশ্বমঞ্চের আলোচনার কেন্দ্র

২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ শুধু ফুটবলের জন্য নয়, বরং ব্র্যান্ডিং, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও বিতর্কের কারণেও বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। টুর্নামেন্টের অফিসিয়াল প্রতীক, মাসকট, ম্যাচ বল, সংগীত থেকে শুরু করে মানবাধিকার, শ্রমিক সংকট ও দুর্নীতির অভিযোগ- সবকিছু মিলিয়ে এটি ছিল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত বিশ্বকাপ।

ব্র্যান্ডিং ও অফিসিয়াল প্রতীক

কাতার বিশ্বকাপের অফিসিয়াল এমব্লেম ডিজাইন করে আনলক ব্র্যান্ডস। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে দোহা টাওয়ার, কাটারা কালচারাল ভিলেজ, মশাইরেব ডাউনটাউন দোহা ও জুবারা এলাকায় একযোগে এটি উন্মোচন করা হয়।

এমব্লেমটি তৈরি করা হয়েছিল শাল, মরুভূমির বালিয়াড়ি, বিশ্বকাপ ট্রফি, ইনফিনিটি চিহ্ন এবং ‘৮’ সংখ্যার ধারণা থেকে। ‘৮’ দ্বারা বোঝানো হয় আটটি স্টেডিয়াম এবং আন্তঃসংযুক্ত টুর্নামেন্টকে। এর টাইপোগ্রাফিতে আরবি ক্যালিগ্রাফির ‘কাশিদা’ স্টাইল ব্যবহার করা হয়।

জেনেভায় জাতিসংঘে কাতারের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. হেন্ড আল-মুফতাহ বলেন, এই বিশ্বকাপ ছিল কাতারের সংস্কৃতি ও আতিথেয়তা তুলে ধরার একটি বড় সুযোগ। তিনি বলেন, খেলাধুলার মাধ্যমে কাতার টেকসই উন্নয়ন, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি ও পারস্পরিক সম্মানের মূল্যবোধ তুলে ধরতে চেয়েছে।

মার্চেন্ডাইজ ও ডিজিটাল আয়োজন

ইলেক্ট্রনিক আর্টস তাদের জনপ্রিয় গেম ফিফা মোবাইল ও ফিফা-২৩ এ বিশ্বকাপভিত্তিক বিশেষ আপডেট আনে। ফিফা ২৩-এ বিশ্বকাপ মোড, স্টেডিয়াম, রিয়েল-টাইম স্কোয়াড আপডেট ও আলটিমেট টিম কনটেন্ট যোগ করা হয়।

২০২২ সালের ২৪ আগস্ট পানিনি গ্রুপ বিশ্বকাপ স্টিকার অ্যালবাম প্রকাশ করে। টানা ১৪তম বিশ্বকাপে তারা এই আয়োজন করে। বিশেষ রঙিন বর্ডারের বিরল কার্ড সংগ্রহ, বিনিময় ও বিক্রির সুযোগ ছিল।

এছাড়া ফিফা বিশ্বকাপকে ঘিরে ফিফা প্লাস নামে নতুন অ্যাপ ও মিডিয়া সার্ভিস চালু করে। এখানে ভক্তরা ম্যাচ প্রেডিকশন, গেম ও প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারতেন।

সম্প্রচার ও দর্শকসংখ্যা

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো দাবি করেছিলেন, কাতার বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি দর্শকপ্রাপ্ত বিশ্বকাপ হতে পারে। তার ধারণা ছিল, অন্তত ৫ বিলিয়ন মানুষ এই বিশ্বকাপ দেখবে। ২০১৮ বিশ্বকাপ দেখেছিল ৩.৫৭ বিলিয়ন মানুষ।

ইংল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের গ্রুপ পর্বের ম্যাচটি যুক্তরাষ্ট্রে ফক্স ও টেলেমুন্ডো মিলিয়ে প্রায় ২ কোটি দর্শক দেখেছিল, যা দেশটির ইতিহাসে অন্যতম সর্বোচ্চ রেটিং পাওয়া ফুটবল সম্প্রচার।

স্পন্সরশিপ

২০২২ বিশ্বকাপের স্পন্সরদের সাতটি আলাদা অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছিল- ফিফা পার্টনার, ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ স্পন্সর এবং আফ্রিকান-মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়ান, ইউরোপিয়ান, উত্তর আমেরিকান ও দক্ষিণ আমেরিকান সাপোর্টার। এটাই প্রথম বিশ্বকাপ যেখানে সাতটি আলাদা অঞ্চলভিত্তিক স্পন্সর যুক্ত ছিল। কাতার এয়ারওয়েজ ছিল অন্যতম প্রধান স্পন্সর।

মাসকট

১ এপ্রিল ২০২২ গ্রুপ পর্বের ড্র অনুষ্ঠানে উন্মোচন করা হয় অফিসিয়াল মাসকট ‘লাইব’। আরবি শব্দ ‘লাইব’ অর্থ ‘অত্যন্ত দক্ষ খেলোয়াড়’। ফিফার ভাষ্য অনুযায়ী, লাইব তার প্রাণবন্ত মনোভাব দিয়ে আনন্দ ও আত্মবিশ্বাস ছড়িয়ে দেয়। মাসকটের গল্পে বলা হয়, এটি এমন এক জগত থেকে এসেছে যেখানে সব টুর্নামেন্ট মাসকট বসবাস করে।

অফিসিয়াল ম্যাচ বল

বিশ্বকাপের প্রথম অফিসিয়াল বল ছিল ‘অ্যাডিডাস আর রিহলা’। ৩০ মার্চ ২০২২ এটি উন্মোচিত হয়। আরবি ‘আল রিহলা’ শব্দের অর্থ ‘যাত্রা’। বলটির ডিজাইনে কাতারের সংস্কৃতি, স্থাপত্য, ঐতিহ্যবাহী নৌকা ও জাতীয় পতাকার প্রভাব ছিল। এটি ছিল প্রথম বিশ্বকাপ বল যেখানে পানি-ভিত্তিক আঠা ও কালি ব্যবহার করা হয়।

এই বলে বিশেষ ইলেকট্রনিক সেন্সর ছিল, যা প্রতি সেকেন্ডে ৫০০ বার বলের গতি ও অবস্থান শনাক্ত করতে পারত। প্রতিটি ম্যাচের আগে বল চার্জ দিতে হতো।

Rihla

সেমিফাইনাল ও ফাইনালের জন্য ব্যবহার করা হয় ‘অ্যাডিডাস আল হিলম’। আরবি ‘আল হিলম’ অর্থ ‘স্বপ্ন’। এর রঙে ছিল স্বর্ণালী, মেরুন ও লাল, যা কাতারের জাতীয় রঙ এবং বিশ্বকাপ ট্রফির সোনালি রঙকে তুলে ধরে।

বিতর্ক ও সমালোচনা

২০২২ বিশ্বকাপ ঘিরে সবচেয়ে বড় বিতর্ক ছিল কাতারের মানবাধিকার পরিস্থিতি, অভিবাসী শ্রমিকদের অবস্থা, নারীর অধিকার ও এলজিবিটিকিউ ইস্যু। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল কাতারের বিরুদ্ধে ‘জোরপূর্বক শ্রম’ ও অমানবিক কর্মপরিবেশের অভিযোগ তোলে। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, অনেক শ্রমিক খাবার-পানি পেতেন না, পাসপোর্ট জব্দ করা হতো এবং সময়মতো বেতনও দেওয়া হতো না।

বিশ্বকাপের আয়োজক হওয়ার ক্ষেত্রে কাতারের বিরুদ্ধে ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগও ওঠে। ২০১৫ সালে সুইস ফেডারেল প্রসিকিউটররা অর্থপাচার ও দুর্নীতির তদন্ত শুরু করে। সাবেক ফিফা সভাপতি সেপ ব্ল্যাটারও পরবর্তীতে বলেন, কাতারকে আয়োজক করা‘ভুল’ ছিল।

এছাড়া এলজিবিটিকিউ অধিকার নিয়েও ব্যাপক বিতর্ক হয়। রংধনু পতাকা, আর্মব্যান্ড ও এলজিবিটিকিউ বার্তা নিয়ে স্টেডিয়ামে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। কয়েকজন সাংবাদিক ও সমর্থককে নিরাপত্তাকর্মীরা থামিয়ে দেয়।

নারীর অধিকার নিয়েও সমালোচনা হয়। কাতারে নারীদের অনেক ক্ষেত্রে পুরুষ অভিভাবকের অনুমতি প্রয়োজন হয়- যেমন বিয়ে, বিদেশে পড়াশোনা বা ভ্রমণ।

রাশিয়া ও ইরান প্রসঙ্গ

রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণের পর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ে। শেষ পর্যন্ত ফিফা রাশিয়াকে সব আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা থেকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করে।

ইরান নিয়েও বিতর্ক হয়। মাহসা আমিনি আন্দোলনের সময় অভিযোগ ওঠে, কাতার সরকার ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মিলে বিক্ষোভ দমন করেছে। ‘ওম্যান’ ‘লাইফ’ ‘ফ্রিডম’ স্লোগানসংবলিত পোশাক ও ব্যানার স্টেডিয়ামে বাধার মুখে পড়ে।

আবাসন সংকট

বিশ্বকাপে আসা সমর্থকদের জন্য তৈরি কিছু ফ্যান ভিলেজও সমালোচনার মুখে পড়ে। শিপিং কনটেইনারে তৈরি কক্ষ, খারাপ এয়ার কন্ডিশনিং, নষ্ট সুবিধা, বাদামি রঙের পানি ও নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে অভিযোগ ওঠে। আবাসনের সংকটের কারণে দুবাইসহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চল থেকে দৈনিক শাটল ফ্লাইট চালু করতে হয়।

আইএইচএস/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow