২২ বছর পর রাজশাহীতে আসছেন তারেক রহমান
দীর্ঘ ২২ বছর পর বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাজশাহীতে আসছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দুপুর ১২টায় রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন তিনি। দীর্ঘ সময় পর দলীয় প্রধানের রাজশাহীতে আগমন ঘিরে রাজশাহী মহানগরসহ আশপাশের জেলাগুলোতে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। প্রিয় নেতাকে বরণ করতে রাজশাহীকে বর্ণিল সাজে সজ্জিত করা হয়েছে। তার আগমনের মধ্য দিয়ে রাজশাহীতে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান হচ্ছে। দলীয় সূত্র জানায়, রাজশাহী, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ১৩টি সংসদীয় আসনের নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণ এই জনসভায় অংশ নেবেন। আয়োজকদের দাবি, কয়েক লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটতে পারে, যা রাজশাহীর রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হবে। রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশিদ মামুন বলেন, তারেক রহমান আগামীকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে বিমানযোগে রাজশাহীতে পৌঁছাবেন এবং সরাসরি মাদ্রাসা ময়দানে জনসভায় যোগ দেবেন। বিকালে নওগাঁ বাইপাসে এবং রাতে বগুড়ায় পৃথক নির্বাচনি সম
দীর্ঘ ২২ বছর পর বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাজশাহীতে আসছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দুপুর ১২টায় রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন তিনি।
দীর্ঘ সময় পর দলীয় প্রধানের রাজশাহীতে আগমন ঘিরে রাজশাহী মহানগরসহ আশপাশের জেলাগুলোতে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। প্রিয় নেতাকে বরণ করতে রাজশাহীকে বর্ণিল সাজে সজ্জিত করা হয়েছে। তার আগমনের মধ্য দিয়ে রাজশাহীতে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান হচ্ছে।
দলীয় সূত্র জানায়, রাজশাহী, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ১৩টি সংসদীয় আসনের নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণ এই জনসভায় অংশ নেবেন। আয়োজকদের দাবি, কয়েক লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটতে পারে, যা রাজশাহীর রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হবে।
রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশিদ মামুন বলেন, তারেক রহমান আগামীকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে বিমানযোগে রাজশাহীতে পৌঁছাবেন এবং সরাসরি মাদ্রাসা ময়দানে জনসভায় যোগ দেবেন। বিকালে নওগাঁ বাইপাসে এবং রাতে বগুড়ায় পৃথক নির্বাচনি সমাবেশে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। বগুড়ায় রাত্রিযাপন করার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে জানান তিনি।
মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, তারেক রহমানের আগমনের খবরে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। কয়েক লাখ মানুষের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে দলীয়ভাবে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও রাজশাহী অঞ্চলের সর্বস্তরের জনগণ ঐতিহাসিক এই জনসভায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। দলীয় প্রধানের এই জনসভা সফল করতে দফায় দফায় প্রস্তুতি সভাসহ নানা কর্মসূচি সম্পন্ন হয়েছে। জনসভার জন্য ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানের মঞ্চও প্রস্তুত। বিশাল জনসমুদ্রের মধ্য দিয়ে এই জনসভা আমরা সফল করতে চাই।
জনসভার প্রস্তুতি নিয়ে বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও রাজশাহী-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনু বলেন, আগামীকালের (আজ) জনসভা রাজশাহীর ইতিহাসে সর্ববৃহৎ জনসমুদ্রে রূপ নেবে। ভোর থেকেই পুরো মহানগরী জনতায় পূর্ণ হয়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জনগণ বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দিকে তাকিয়ে আছে। তিনি জানান, তারেক রহমান ইতোমধ্যে ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ ঘোষণা দিয়েছেন এবং দীর্ঘদিন বিদেশে অবস্থানকালে অর্জিত আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার আলোকে একটি নতুন বাংলাদেশের রূপরেখা প্রস্তুত করেছেন।
তারেক রহমান রাজশাহীতে গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেবেন উল্লেখ করে বিএনপির এ সিনিয়র নেতা বলেন, মায়েদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, বয়োজ্যেষ্ঠদের জন্য হেলথ কার্ড, কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড, তরুণদের কর্মসংস্থানে আইটি প্রকল্প ও আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ, রাজশাহীতে বিশেষায়িত ইপিজেড স্থাপন এবং হারিয়ে যাওয়া রেশম শিল্প পুনরুজ্জীবনের উদ্যোগ নেবেন তারেক রহমান।
রাজশাহী-২ আসনের এ সংসদ সদস্য প্রার্থী বলেন, গত ১৭ বছরে রাজশাহী উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছে এবং মেগা প্রকল্পের নামে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। বিএনপি মেগা প্রকল্প নয়, বরং জনগণের কল্যাণভিত্তিক ও টেকসই উন্নয়নে বিশ্বাস করে।
তিনি বলেন, তারেক রহমানের জনসভায় রাজশাহী বিভাগের তিন জেলায় বিএনপির ১৩ জন সংসদ সদস্য প্রার্থীকে জনসমক্ষে পরিচয় করিয়ে দেবেন তারেক রহমান। দুপুর ১২টা থেকে সাড়ে ১২টার মধ্যে তার বক্তব্য শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে গত রোববার সকাল থেকেই ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে মঞ্চ নির্মাণসহ সার্বিক প্রস্তুতির কাজ শুরু হয়। আজ বিকেলের মধ্যে সার্বিক সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। মাঠের পশ্চিম পাশে স্থাপন করা হয়েছে ৮০ ফুট লম্বা এবং ২৪ ফুট চওড়া বিশাল মঞ্চ, শক্তিশালী সাউন্ড সিস্টেম, বড় পর্দা ও আলোকসজ্জা। সারি সারি চেয়ার বসানো হয়েছে মাঠের ভেতরে।
সমাবেশ ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। মাদ্রাসা ময়দান ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন, ডগ স্কোয়াড ও ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চলছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও প্রবেশপথে যানচলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০০৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী জেলা স্টেডিয়ামে তৃণমূলের প্রতিনিধি সভায় যোগ দিয়েছিলেন তারেক রহমান। দীর্ঘ দুই দশক পর পদ্মাপাড়ের বিভাগীয় শহর রাজশাহীর রাজনীতিতে নতুন প্রত্যাশা ও নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।
What's Your Reaction?