২৩ জাতের আঙুর চাষে বাজিমাত কলেজছাত্রের
গ্রামের মাটিতে বিদেশি ফলের সফল চাষ যেন একসময় ছিল কল্পনার বিষয়। তবে সেই ধারণাকেই বদলে দিয়েছেন ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার যোগীপাড়া গ্রামের কলেজছাত্র শাহরিয়ার পারভেজ। পড়ালেখার পাশাপাশি ২৩ জাতের আঙুর চাষ করে এখন তিনি হয়ে উঠেছেন স্থানীয় তরুণদের অনুপ্রেরণার প্রতীক। শাহরিয়ারের বাগানে গেলে চোখে পড়ে সবুজ পাতার ফাঁকে থোকায় থোকায় ঝুলছে বেগুনি, সবুজ ও লালচে আঙুর। দূর থেকে দেখলে মনে হবে যেন ইউরোপ কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের কোনো আঙুর বাগান। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ভিড় করছেন এই ব্যতিক্রমী বাগান দেখতে। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ জানতে চাইছেন চাষের পদ্ধতি, আবার কেউ আগ্রহ দেখাচ্ছেন নিজেরাও আঙুর চাষ শুরু করতে। শাহরিয়ার পারভেজ জানান, প্রায় দুই বছর আগে ইউটিউবে আঙুর চাষের একটি ভিডিও দেখেই তার আগ্রহের শুরু। এরপর বিভিন্ন জায়গা থেকে তথ্য সংগ্রহ করেন তিনি। পরিবারের সহায়তায় ২০ শতক জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করেন আঙুর চাষ। তবে শুরুটা মোটেও সহজ ছিল না। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এর আগে তারা কখনও এভাবে আঙুরের বাগান দেখেননি। এখন গ্রামের অনেক তরুণ শাহরিয়ারের কাছে পরামর্শ নিতে আসছেন। অনেকেই মনে করছেন, সঠিক প্রশিক্ষণ ও
গ্রামের মাটিতে বিদেশি ফলের সফল চাষ যেন একসময় ছিল কল্পনার বিষয়। তবে সেই ধারণাকেই বদলে দিয়েছেন ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার যোগীপাড়া গ্রামের কলেজছাত্র শাহরিয়ার পারভেজ। পড়ালেখার পাশাপাশি ২৩ জাতের আঙুর চাষ করে এখন তিনি হয়ে উঠেছেন স্থানীয় তরুণদের অনুপ্রেরণার প্রতীক।
শাহরিয়ারের বাগানে গেলে চোখে পড়ে সবুজ পাতার ফাঁকে থোকায় থোকায় ঝুলছে বেগুনি, সবুজ ও লালচে আঙুর। দূর থেকে দেখলে মনে হবে যেন ইউরোপ কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের কোনো আঙুর বাগান। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ভিড় করছেন এই ব্যতিক্রমী বাগান দেখতে। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ জানতে চাইছেন চাষের পদ্ধতি, আবার কেউ আগ্রহ দেখাচ্ছেন নিজেরাও আঙুর চাষ শুরু করতে।
শাহরিয়ার পারভেজ জানান, প্রায় দুই বছর আগে ইউটিউবে আঙুর চাষের একটি ভিডিও দেখেই তার আগ্রহের শুরু। এরপর বিভিন্ন জায়গা থেকে তথ্য সংগ্রহ করেন তিনি। পরিবারের সহায়তায় ২০ শতক জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করেন আঙুর চাষ। তবে শুরুটা মোটেও সহজ ছিল না।
তিনি বলেন, শুরুতে অনেকেই হাসাহাসি করেছেন। অনেকে বলেছিলেন, বাংলাদেশের আবহাওয়ায় আঙুর চাষ সম্ভব নয়। কিন্তু তিনি হাল ছাড়েননি। নিয়মিত পরিচর্যা, কঠোর পরিশ্রম এবং আধুনিক পদ্ধতি অনুসরণ করেই একসময় সফলতা পান।
বর্তমানে তার বাগানে রয়েছে বাইকুনুর, একেলো, গ্রিনলং, ডাসুনিয়াসহ ২৩ জাতের আঙুর। এর মধ্যে কয়েকটি জাত বাংলাদেশে একেবারেই নতুন। কিছু চারা সংগ্রহ করা হয়েছে ভারত থেকেও। প্রতিটি গাছের যত্ন তিনি নিজের সন্তানের মতো করে নেন। সঠিক ছাঁটাই, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ এবং আধুনিক পরিচর্যার কারণে ভালো ফলনও পাচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এর আগে তারা কখনও এভাবে আঙুরের বাগান দেখেননি। এখন গ্রামের অনেক তরুণ শাহরিয়ারের কাছে পরামর্শ নিতে আসছেন। অনেকেই মনে করছেন, সঠিক প্রশিক্ষণ ও সরকারি সহযোগিতা পেলে এই অঞ্চলে আঙুর চাষ নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।
শুধু দর্শনার্থী নয়, প্রতিদিনই শাহরিয়ারের বাগানে আসছেন ব্যবসায়ীরাও। প্রতি কেজি আঙুর পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায়। পাশাপাশি বিভিন্ন জাতের আঙুরের চারাও বিক্রি করছেন তিনি। এতে ইতোমধ্যেই লাভের মুখ দেখতে শুরু করেছেন এই তরুণ উদ্যোক্তা।
শাহরিয়ার পারভেজ বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করতাম চেষ্টা করলে সবই সম্ভব। এখন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ আমার বাগান দেখতে আসছেন। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে আঙুর চাষ করতে চাই। সরকারি সহযোগিতা পেলে এই চাষ আরও অনেক দূর এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।’
শৈলকুপা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান বলেন, ঝিনাইদহের মাটি ও আবহাওয়া আঙুর চাষের জন্য সম্ভাবনাময়। আধুনিক প্রযুক্তি ও সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষ আরও বিস্তৃত করা সম্ভব। নতুন ও সম্ভাবনাময় এই উদ্যোগকে উৎসাহ দিতে কৃষি বিভাগ সব ধরনের কারিগরি সহযোগিতা করছে।
What's Your Reaction?