২৫ টাকায় কেনা ভারতীয় কাঁচামরিচের দাম দেশের বাজারে কত?
দেশে অতিবৃষ্টির কারণে হঠাৎ দাম বেড়ে যাওয়ায় বাজার নিয়ন্ত্রণে ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানি শুরু হয়েছে। গত দুইদিনে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ৩৮ হাজার ৪২০ কেজি কাঁচামরিচ বন্দরে প্রবেশ করেছে। এর মধ্যে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) প্রবেশ করেছে ২৯ হাজার ২২০ কেজি, আর সোমবার (৩ আগস্ট) প্রবেশ করে ৯ হাজার ২০০ কেজি। বন্দরের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর আমদানি করা কাঁচা মরিচের চালানগুলো ঢাকায় পাঠানো হয়। এসব চালানের আমদানিকারক শিমু এন্টারপ্রাইজ ও রয়েল এন্টারপ্রাইজ। বন্দর থেকে খালাস কার্যক্রমে সহযোগিতা করে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট শিমু শিপিং লাইন্স ও রয়েল এন্টারপ্রাইজ। বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) শামিম হোসেন জানান, মরিচবাহী ট্রাক বন্দরে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই দ্রুত কাগজপত্রের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে খালাসের ব্যবস্থা করা হয়। সীমান্তের ওপারে আরও কয়েক ট্রাক কাঁচামরিচ নিয়ে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে। বুধবার সরকারি ছুটি থাকায় বৃহস্পতিবার সেগুলো বন্দরে প্রবেশ করবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মরিচ আমদানিকারকরা আমদানিকৃত ইনভয়েজে (ক্রয় মূল্য) প্রতি কেজির দাম দেখাচ্ছে ২৫ থেকে ৪০ টাকা। কিন্তু যে দামেই কেনা হোক না কেন জাতী
দেশে অতিবৃষ্টির কারণে হঠাৎ দাম বেড়ে যাওয়ায় বাজার নিয়ন্ত্রণে ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানি শুরু হয়েছে। গত দুইদিনে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ৩৮ হাজার ৪২০ কেজি কাঁচামরিচ বন্দরে প্রবেশ করেছে। এর মধ্যে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) প্রবেশ করেছে ২৯ হাজার ২২০ কেজি, আর সোমবার (৩ আগস্ট) প্রবেশ করে ৯ হাজার ২০০ কেজি।
বন্দরের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর আমদানি করা কাঁচা মরিচের চালানগুলো ঢাকায় পাঠানো হয়। এসব চালানের আমদানিকারক শিমু এন্টারপ্রাইজ ও রয়েল এন্টারপ্রাইজ। বন্দর থেকে খালাস কার্যক্রমে সহযোগিতা করে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট শিমু শিপিং লাইন্স ও রয়েল এন্টারপ্রাইজ।
বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) শামিম হোসেন জানান, মরিচবাহী ট্রাক বন্দরে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই দ্রুত কাগজপত্রের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে খালাসের ব্যবস্থা করা হয়। সীমান্তের ওপারে আরও কয়েক ট্রাক কাঁচামরিচ নিয়ে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে। বুধবার সরকারি ছুটি থাকায় বৃহস্পতিবার সেগুলো বন্দরে প্রবেশ করবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মরিচ আমদানিকারকরা আমদানিকৃত ইনভয়েজে (ক্রয় মূল্য) প্রতি কেজির দাম দেখাচ্ছে ২৫ থেকে ৪০ টাকা। কিন্তু যে দামেই কেনা হোক না কেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) প্রতিকেজি দশমিক ৫০ ডলারে শুল্কায়ন করায় মূল্য দাঁড়াচ্ছে ৬১.৭৮ টাকা। এর ওপর ইন্সুরেন্স ও ল্যান্ডিং চার্জ যোগ হয়ে ডিউটি নেওয়া হচ্ছে প্রতিকেজি ৬৩ টাকার ওপরে। সেই হিসাবে কেনা মূল্য ও ডিউটি দিয়ে প্রতিকেজি মরিচের দাম পড়ছে ৬৪ টাকা থেকে ৭৯ টাকা।
এরপর ভারতীয় রপ্তানিকারকের খরচ, ট্রাক ভাড়া, এদেশের এলসি ওপেন ব্যাংক খরচ, ডলার মূল্য সমন্বয়, লেবারসহ কাস্টমস, পোর্ট, সিএন্ডএফ এজেন্ট খরচ, ঢাকায় পাঠানো ট্রাক ভাড়াসহ খরচ আছে প্রতিকেজিতে ৭০ থেকে ৮০ টাকা। সেই হিসাবে এক কেজি মরিচের দাম পড়ছে ১৩৫ টাকা থেকে ১৬০ টাকা। এবার আমদানিকারক নিজের লাভ ধরে বাজারে বিক্রি করছে ২০০ থেকে ২২০ টাকায়।
মরিচ আমদানিকারক শাহাজান বলেন, ‘প্রতি কেজি কাঁচামরিচ আমদানিতে মোট খরচ হয়েছে প্রায় ১৩৫ টাকা। সামান্য লাভ রেখে বাজারে বিক্রি করছি। আমদানি বাড়লে বাজারে মরিচের দাম কমে আসবে। তবে পরিবহন, কাস্টমস, বন্দর, খালাসসহ অন্যান্য খরচ যোগ হওয়ায় প্রকৃত ব্যয় আরও বেড়ে যাচ্ছে। এতে আমরা লোকসানের মুখে পড়ছি।’
আরেক আমদানিকারক রয়েল এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী রফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা ভারত থেকে ২৫ থেকে ৪০ টাকা কেজিতে কিনে আনি। কিন্তু কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সেটার মিনিমাম মূল্য করেছে ৬১.৭৮ টাকা। সরকারি শুল্ক দিয়ে প্রতিকেজির দাম পড়ছে ৬৪ টাকা থেকে ৭৯ টাকা। এরপর অন্যান্য খরচতো রয়েছে। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ যদি ক্রয় মূল্যের ওপর শুল্ক নিতো তবে আমরা আরও কম দামে বাজারে কাঁচামরিচ সরবরাহ করতে পারতাম।
এদিকে দেশের বিভিন্ন স্থলবন্দর দিয়ে কাঁচামরিচ আমদানি শুরু হওয়ায় বাজারে কাঁচামরিচের দাম কমতে শুরু করেছে।
বেনাপোল বাজারের কাঁচামালের পাইকারি ব্যবসায়ী ইছাহাক আলী জানান, কাঁচাবাজারে মঙ্গলবার প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ২৮০-৩০০ টাকায় সকালে বিক্রি হলেও বিকেলের দিকে ২৫০-২৬০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। দুইদিন আগেও বাজারে ৩২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। আমদানি বাড়লে বাজারে দাম কিছুটা কমে আসবে বলে তিনি জানান।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যে জানা গেছে, সরকারের অনুমতি পাওয়ার পর ভারতের বিভিন্ন প্রদেশ, বিশেষ করে নাসিক থেকে কাঁচামরিচ আমদানি শুরু হয়েছে। প্রথম ধাপে ৬৯ জন ব্যবসায়ী মোট ২৯ হাজার ৭১০ টন কাঁচামরিচ আমদানির অনুমতিপত্র (আইপি) পেয়েছেন। সোমবার (৩ আগস্ট) থেকেই আমদানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য দেশের বাজারে কাঁচামরিচের মূল্য বৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকট মোকাবিলায় সরকার ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানির অনুমতি দিয়েছে। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এই আমদানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, আমদানি অব্যাহত থাকলে বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক হবে এবং সাধারণ ভোক্তারা দ্রুত স্বস্তি পাবেন।
জামাল হোসেন/এফএ/এএসএম
What's Your Reaction?