৩০ বছর পর দখলমুক্ত সরকারি রাস্তা

দীর্ঘ প্রায় তিন দশক ধরে অব্যবহৃত ও বিভিন্ন ব্যক্তির অবৈধ দখলে থাকা একটি সরকারি রাস্তা অবশেষে উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন। কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার উমরমজিদ ইউনিয়নের উমরমজিদ মৌজার আটহাজারী গ্রামে পরিচালিত দখলমুক্তকরণ অভিযানে প্রায় ১২০০ ফুট দৈর্ঘ্যের সরকারি এ রাস্তা উদ্ধার করে সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।  বুধবার (০৩ জুন) পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সামিউর রহমান। প্রশাসনের উপস্থিতিতে রাস্তার প্রকৃত সীমানা নির্ধারণ করে অবৈধ দখল অপসারণ করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আব্দুস ছালাম মাস্টারের বাড়ির সম্মুখ থেকে শুরু হওয়া সরকারি রাস্তাটি দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ধরে কার্যত ব্যবহারহীন হয়ে পড়ে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রাস্তার বিভিন্ন অংশ দখল করে নেয় কিছু ব্যক্তি। এতে রাস্তার মূল কাঠামো প্রায় বিলীন হওয়ার উপক্রম হয় এবং সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে থাকে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বহু বছর ধরে এলাকাবাসী বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় ভোগান্তি বাড়

৩০ বছর পর দখলমুক্ত সরকারি রাস্তা

দীর্ঘ প্রায় তিন দশক ধরে অব্যবহৃত ও বিভিন্ন ব্যক্তির অবৈধ দখলে থাকা একটি সরকারি রাস্তা অবশেষে উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন। কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার উমরমজিদ ইউনিয়নের উমরমজিদ মৌজার আটহাজারী গ্রামে পরিচালিত দখলমুক্তকরণ অভিযানে প্রায় ১২০০ ফুট দৈর্ঘ্যের সরকারি এ রাস্তা উদ্ধার করে সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। 

বুধবার (০৩ জুন) পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সামিউর রহমান। প্রশাসনের উপস্থিতিতে রাস্তার প্রকৃত সীমানা নির্ধারণ করে অবৈধ দখল অপসারণ করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আব্দুস ছালাম মাস্টারের বাড়ির সম্মুখ থেকে শুরু হওয়া সরকারি রাস্তাটি দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ধরে কার্যত ব্যবহারহীন হয়ে পড়ে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রাস্তার বিভিন্ন অংশ দখল করে নেয় কিছু ব্যক্তি। এতে রাস্তার মূল কাঠামো প্রায় বিলীন হওয়ার উপক্রম হয় এবং সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে থাকে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বহু বছর ধরে এলাকাবাসী বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় ভোগান্তি বাড়ছিল। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষকে বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হত। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে চলাচলে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যেত।

স্থানীয়দের দাবি, রাস্তা দখল হয়ে যাওয়ার কারণে শুধু যাতায়াত নয়, কৃষিপণ্য পরিবহন, জরুরি সেবা গ্রহণ এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছিল। ফলে দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়। এ পরিস্থিতিতে জনস্বার্থ বিবেচনায় উপজেলা প্রশাসন দখলমুক্তকরণ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে সরকারি রাস্তার সীমানা পুনর্নির্ধারণ করে অবৈধভাবে দখলকৃত অংশ পুনরুদ্ধার করা হয় এবং জনগণের অবাধ চলাচলের জন্য তা উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। অভিযান শেষে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে। 

এলাকাবাসী প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, দীর্ঘদিন পর তারা নিজেদের অধিকার ফিরে পেয়েছেন। এখন রাস্তা সচল হলে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও গতি পাবে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, উদ্ধার হওয়া রাস্তা যেন পুনরায় দখল না হয় এবং প্রয়োজনীয় উন্নয়ন কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন করে স্থায়ীভাবে জনগণের ব্যবহারের উপযোগী করা হয়। 

উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সরকারি সম্পত্তি রক্ষা ও জনগণের স্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে এবং কোনো সরকারি জমি বা রাস্তা অবৈধভাবে দখল করে রাখার সুযোগ দেওয়া হবে না।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow