৩২ বছরের শিক্ষকতা জীবনের ইতি, ঘোড়ার গাড়িতে রাজকীয় বিদায় পেলেন শিক্ষক আমজাদ হোসেন

দীর্ঘ প্রায় ৩২ বছরের বর্ণাঢ্য শিক্ষকতা জীবনের ইতি টানলেন নাটোরের সিংড়া উপজেলার বিলহালতি ত্রিমোহনী অনার্স কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রতিষ্ঠাকালীন শিক্ষক আমজাদ হোসেন। কর্মজীবনের শেষ দিনে সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও শুভানুধ্যায়ীদের ভালোবাসায় তিনি পেলেন এক রাজকীয় বিদায় সংবর্ধনা। রবিবার (২ আগস্ট) সকালে কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত বিদায় অনুষ্ঠানে আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণ, ফুলেল শুভেচ্ছা ও উপহার প্রদানের মধ্য দিয়ে শিক্ষক আমজাদ হোসেনকে সম্মান জানানো হয়। অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আকর্ষণীয় আয়োজন ছিল সুসজ্জিত ঘোড়ার গাড়িতে করে তাঁকে রাজকীয় আমেজে বাড়ি পৌঁছে দেওয়া। এ সময় সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা উচ্ছ্বাস আর আবেগে প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানান। কলেজের অধ্যক্ষ গোলাম সারোয়ার ও কলেজ সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৪ সালে বিলহালতি ত্রিমোহনী অনার্স কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রতিষ্ঠাকালীন শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন আমজাদ হোসেন। এর আগে তিনি একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় (এনজিও) কর্মরত ছিলেন। তবে নিজ এলাকায় শিক্ষার প্রসার ঘটানোর স্বপ্নে সেই চাকরি ছেড়ে দিয়ে কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে নিজেকে সম্পৃক্ত করেন। শুধু শিক্ষক হিসেবেই নয়, প্রতিষ্ঠান গড়

৩২ বছরের শিক্ষকতা জীবনের ইতি, ঘোড়ার গাড়িতে রাজকীয় বিদায় পেলেন শিক্ষক আমজাদ হোসেন

দীর্ঘ প্রায় ৩২ বছরের বর্ণাঢ্য শিক্ষকতা জীবনের ইতি টানলেন নাটোরের সিংড়া উপজেলার বিলহালতি ত্রিমোহনী অনার্স কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রতিষ্ঠাকালীন শিক্ষক আমজাদ হোসেন। কর্মজীবনের শেষ দিনে সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও শুভানুধ্যায়ীদের ভালোবাসায় তিনি পেলেন এক রাজকীয় বিদায় সংবর্ধনা।

রবিবার (২ আগস্ট) সকালে কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত বিদায় অনুষ্ঠানে আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণ, ফুলেল শুভেচ্ছা ও উপহার প্রদানের মধ্য দিয়ে শিক্ষক আমজাদ হোসেনকে সম্মান জানানো হয়। অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আকর্ষণীয় আয়োজন ছিল সুসজ্জিত ঘোড়ার গাড়িতে করে তাঁকে রাজকীয় আমেজে বাড়ি পৌঁছে দেওয়া। এ সময় সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা উচ্ছ্বাস আর আবেগে প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানান।

কলেজের অধ্যক্ষ গোলাম সারোয়ার ও কলেজ সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৪ সালে বিলহালতি ত্রিমোহনী অনার্স কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রতিষ্ঠাকালীন শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন আমজাদ হোসেন। এর আগে তিনি একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় (এনজিও) কর্মরত ছিলেন। তবে নিজ এলাকায় শিক্ষার প্রসার ঘটানোর স্বপ্নে সেই চাকরি ছেড়ে দিয়ে কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে নিজেকে সম্পৃক্ত করেন।

শুধু শিক্ষক হিসেবেই নয়, প্রতিষ্ঠান গড়ার ক্ষেত্রেও তাঁর অবদান ছিল অনন্য। কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি নিজ অর্থায়নে প্রায় ৮ শতাংশ জমি ক্রয় করে দান করেন। এরপর এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে হাজারো শিক্ষার্থীকে জ্ঞান, মূল্যবোধ ও মানবিকতার শিক্ষা দিয়ে গড়ে তুলেছেন।

ব্যক্তিগত জীবনে আমজাদ হোসেন নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার নগর মাঝগ্রামের বাসিন্দা। তাঁর সহধর্মিণী ফরিদা বেগম। পরিবারের একমাত্র ছেলে আশিক এবং পুত্রবধূ বর্তমানে বিলহালতি ত্রিমোহনী অনার্স কলেজের শিক্ষার্থী, যা তাঁর সঙ্গে এই প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ককে আরও গভীর করেছে।

বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কলেজের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা আমজাদ হোসেনের সততা, নিষ্ঠা, ত্যাগ ও শিক্ষার্থীদের প্রতি তাঁর অকৃত্রিম ভালোবাসার কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তাঁরা বলেন, একজন আদর্শ শিক্ষক হিসেবে তাঁর অবদান শুধু এই কলেজেই নয়, পুরো অঞ্চলের শিক্ষা অঙ্গনে দীর্ঘদিন অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow