৪৮ দলের বিশ্বকাপেও জায়গা পেতে ব্যর্থ ইতালি, যে ৫ কারণে অব্যাহত রক্তক্ষরণ
চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। এক সময় এই দলেই খেলেছেন পাওলো মালদিনি, ফ্রাঙ্কো বারেসি, আলেসান্দ্রো দেল পিয়েরো, জিয়ানলুইজি বুফনরা। ইউরোপের দলগুলোর মধ্যে অন্যতম সেরা ছিল আজ্জুরিরা। সেই ইতালিই এখন বিশ্বকাপে জায়গা পাচ্ছে না। তা-ও একবার নয়, টানা তিনবার। ২০১৪ বিশ্বকাপের পর কেটে গেছে ১২ বছর। ২০১৮, ২০২২ সালের পর ২০২৬ বিশ্বকাপেও যোগ্যতা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে ইতালি। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ৭১তম স্থানে থাকা বসনিয়া-হার্জেগোভিনার কাছে হেরে ছিটকে গেছে তারা। এর ফলে ৪৮ দলের বিশ্বকাপেও এবার দর্শকের ভূমিকায় দেখা যাবে আজ্জুরিদের। কিন্তু কেন বারবার বিশ্বকাপে জায়গা পেতে ব্যর্থ হচ্ছে ইতালি? শুধু কি ভাগ্যের দোষ নাকি নেপথ্যে রয়েছে আরও গভীর সমস্যা?
বসনিয়া-হার্জেগোভিনার কাছে কেন পরাজয়?
মঙ্গলবার রাতে ইতালিকে কার্যত দাঁড়াতেই দেয়নি বসনিয়া-হার্জেগোভিনা। একের পর এক পরিকল্পিত আক্রমণ করে রীতিমতো দিশেহারা করে ফেলে তারা। বসনিয়ার দীর্ঘদেহী ও লম্বা ফুটবলারদের সামনে নাজেহাল হয়েছেন ইতালির ফুটবলাররা। যে দলের মিডফিল্ডে একটা সময়ে দাপট দেখাতেন জেনারো গাত্তুসো, আন্দ্রে পিরলো, বারজাগলিরা— সেখানেই এখন অজস্র ফাঁক। পরিকাঠামো থেকে ট্যাকটিক্
চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। এক সময় এই দলেই খেলেছেন পাওলো মালদিনি, ফ্রাঙ্কো বারেসি, আলেসান্দ্রো দেল পিয়েরো, জিয়ানলুইজি বুফনরা। ইউরোপের দলগুলোর মধ্যে অন্যতম সেরা ছিল আজ্জুরিরা। সেই ইতালিই এখন বিশ্বকাপে জায়গা পাচ্ছে না। তা-ও একবার নয়, টানা তিনবার। ২০১৪ বিশ্বকাপের পর কেটে গেছে ১২ বছর। ২০১৮, ২০২২ সালের পর ২০২৬ বিশ্বকাপেও যোগ্যতা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে ইতালি। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ৭১তম স্থানে থাকা বসনিয়া-হার্জেগোভিনার কাছে হেরে ছিটকে গেছে তারা। এর ফলে ৪৮ দলের বিশ্বকাপেও এবার দর্শকের ভূমিকায় দেখা যাবে আজ্জুরিদের। কিন্তু কেন বারবার বিশ্বকাপে জায়গা পেতে ব্যর্থ হচ্ছে ইতালি? শুধু কি ভাগ্যের দোষ নাকি নেপথ্যে রয়েছে আরও গভীর সমস্যা?
বসনিয়া-হার্জেগোভিনার কাছে কেন পরাজয়?
মঙ্গলবার রাতে ইতালিকে কার্যত দাঁড়াতেই দেয়নি বসনিয়া-হার্জেগোভিনা। একের পর এক পরিকল্পিত আক্রমণ করে রীতিমতো দিশেহারা করে ফেলে তারা। বসনিয়ার দীর্ঘদেহী ও লম্বা ফুটবলারদের সামনে নাজেহাল হয়েছেন ইতালির ফুটবলাররা। যে দলের মিডফিল্ডে একটা সময়ে দাপট দেখাতেন জেনারো গাত্তুসো, আন্দ্রে পিরলো, বারজাগলিরা— সেখানেই এখন অজস্র ফাঁক। পরিকাঠামো থেকে ট্যাকটিক্স, রয়েছে অনেক ঘাটতি। সেসবই এবার দেখে নেওয়া যাক এক ঝলকে।
পরিকাঠামোগত ও যুব ফুটবল উন্নয়নে ব্যর্থতা :
এক সময়ে ইতালি থেকে উঠে আসতেন একাধিক প্রতিভাবান ও বিশ্বমানের ফুটবলার। এখন সিরি’এ লীগের ক্লাবগুলো তরুণদের বদলে বয়স্ক অভিজ্ঞ ফুটবলার বা কম বাজেটের বিদেশিদের উপরে ভরসা করছে। ফলে ইতালির অনেক তরুণ ফুটবলার পর্যাপ্ত ম্যাচ খেলার সুযোগ পাচ্ছে না। পাশাপাশি, স্টেডিয়াম মালিকানার ক্ষেত্রেও ইতালি অনেকটাই পিছিয়ে— যেখানে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ কিংবা জার্মান বুন্দেসলিগা অনেক এগিয়ে। এর ফলে ক্লাবগুলোর আয় কম। তাই আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন যুব অ্যাকাডেমিতে বিনিয়োগও সীমিত।
ট্যাকটিক্যাল ও টেকনিক্যাল ঘাটতি :
মালদিনি থেকে ক্যানভারো, বোনুচ্চি থেকে কিয়েলিনি— ইতালির ঐতিহ্য ছিল রক্ষণাত্মক ফুটবল। সেটা থেকে সরে এখন আধুনিক ও আক্রমণাত্মক ছন্দের ফুটবলের সঙ্গে মানিয়ে নিতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছে ইতালি। এর ফলে নির্দিষ্ট কোনও ট্যাকটিক্স মেনে খেলতে পারছে না তারা। বিশ্বের তুলনামূলক ছোট দলগুলো যখন ইতালির বিপক্ষে পুরো রক্ষণাত্মক খেলে, তখনও ইতালির আক্রমণ নিষ্প্রভ থেকেছে। বিশ্বকাপের গোটা বাছাই পর্ব জুড়েই লক্ষ করা গেছে এই ধারা।
কোচিং ও অভ্যন্তরীণ সমস্যা :
ইতালিয়ান ফুটবলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাব আরও প্রকট হয়েছে বিশ্বকাপে জায়গা পেতে ব্যর্থ হওয়ায়। বর্তমান কোচদের বিরুদ্ধে অভিযোগ— তারা বয়স্ক ফুটবলারদের উপরে অতিরিক্ত নির্ভর করেছেন। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় কেভিন ডি ব্রুইন বা লুকা মদ্রিচের নাম। কিন্তু আধুনিক ফুটবলে স্কিলের চেয়েও বেশি প্রয়োজন গতি ও ফিটনেস। সেই ঘাটতি স্পষ্ট ইতালির খেলায়। বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দলে একাধিক কোচিং দর্শনও বড় ভূমিকা নিয়েছে এতে, এমনটাই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
খেলোয়াড়দের খেলার মানে পতন :
ইতালির এই প্রজন্মের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার সান্দ্রো তোনালি খেলেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব নিউক্যাসলে, যারা কোনওদিন চ্যাম্পিয়ন্স লিগই জেতেনি। একটা সময়ে পাওলো মালদিনির উত্তরসূরী হিসেবে ধরা হয়েছিল আলেসান্দ্রো বাস্তোনিকে। তাকেই কার্যত নাজেহাল করে ছেড়েছেন বসনিয়ার ফুটবলাররা। বাস্তোনির লাল কার্ড দেখার কারণেই ম্যাচে অধিকাংশ সময় ১০ জনে খেলতে হয়েছে ইতালিকে। জাতীয় দলে স্ট্রাইকারের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে।
আর্থিক ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ :
বিশ্বের প্রথম সারির লিগগুলোর তুলনায় আর্থিক দিক থেকে ইতালি অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, প্রিমিয়ার লিগের তুলনায় ইতালিয়ান সিরি’এ লিগের টিভিস্বত্ব ও বাণিজ্যিক অগ্রগতি অনেক কম। ফলে ক্লাবগুলো তাদের সেরা তরুণ ফুটবলারদের ধরে রাখতে পারছে না। বরং বিদেশের ক্লাবে চলে যাচ্ছেন ফুটবলাররা। সেইসঙ্গে বিদেশি খেলোয়াড়দের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ইতালিয়ান ফুটবলের নিজস্ব ধারাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
সব মিলিয়ে ইতালিয়ান ফুটবল আজ ভুগছে অস্তিত্বের সঙ্কটে। এক সময়ে যে ইতালি নিজস্ব ফুটবল ঘরানার জন্য বিশ্ব ফুটবলে আলাদা জায়গা করে নিয়েছিল, সেই ঐতিহ্যই এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। যার ফলে বিশ্ব ফুটবলে আজ্জুরিদের এমন দৈন্যদশা।