৫০ হাজার ইয়াবা ও নারীসহ যুবদল নেতা আটক
কক্সবাজারের রামু উপজেলা যুবদলের সদস্য ও ফতেখাঁরকুল ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব। এছাড়াও উপজেলা যুবদলের অর্থ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে এই পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তিনি ইয়াবা ব্যবসায় সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। স্থানীয়দের মতে, শওকত কেবল এলাকার পরিচিত যুব নেতা নয়, বরং মাদক চক্রের মূল হোতা হিসেবে নিজের নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন, সীমান্ত এলাকা থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করতেন। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ভোররাতের এক অভিযান শেষে পুলিশ শওকতকে নারীসহ এক সহযোগীর সঙ্গে আটক করে। এসময় তাদের কাছ থেকে ৫০ হাজার পিস ইয়াবা এবং সাড়ে চার লাখ নগদ টাকা জব্দ করা হয়। তারা হলেন- সদরের ঝিলংজা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের খরুলিয়া সুতারচর এলাকার আলী আহমদের ছেলে মো. রাসেল (৪০), রামু উপজেলার পশ্চিম মেরংলোয়া এলাকার আলমগীর প্রকাশ আলমের স্ত্রী কামরুন্নাহার (৩২)। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, শওকতের অবৈধ ব্যবসা এতটাই বিস্তৃত ছিল যে অনেকেই এলাকায় তার উপস্থিতি নিয়ে ভয় পান। এই অভিযান প্রমাণ করে, যুবদল নেতা হওয়ার পরিচয় দিয়েই তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক চক্র চালিয়ে আসছিলেন। রামু উপজেলা যুব
কক্সবাজারের রামু উপজেলা যুবদলের সদস্য ও ফতেখাঁরকুল ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব। এছাড়াও উপজেলা যুবদলের অর্থ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে এই পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তিনি ইয়াবা ব্যবসায় সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন।
স্থানীয়দের মতে, শওকত কেবল এলাকার পরিচিত যুব নেতা নয়, বরং মাদক চক্রের মূল হোতা হিসেবে নিজের নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন, সীমান্ত এলাকা থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করতেন।
তবে শেষ রক্ষা হয়নি। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ভোররাতের এক অভিযান শেষে পুলিশ শওকতকে নারীসহ এক সহযোগীর সঙ্গে আটক করে।
এসময় তাদের কাছ থেকে ৫০ হাজার পিস ইয়াবা এবং সাড়ে চার লাখ নগদ টাকা জব্দ করা হয়।
তারা হলেন- সদরের ঝিলংজা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের খরুলিয়া সুতারচর এলাকার আলী আহমদের ছেলে মো. রাসেল (৪০), রামু উপজেলার পশ্চিম মেরংলোয়া এলাকার আলমগীর প্রকাশ আলমের স্ত্রী কামরুন্নাহার (৩২)।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, শওকতের অবৈধ ব্যবসা এতটাই বিস্তৃত ছিল যে অনেকেই এলাকায় তার উপস্থিতি নিয়ে ভয় পান। এই অভিযান প্রমাণ করে, যুবদল নেতা হওয়ার পরিচয় দিয়েই তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক চক্র চালিয়ে আসছিলেন।
রামু উপজেলা যুবদলের একাধিক নেতাকর্মী জানিয়েছেন, শওকত আলম সাবেক সভাপতি আবছার মেম্বার এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহিনের ঘনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তার কারণে রাজনৈতিক বা সামাজিক কর্মকাণ্ডে তার বিরোধিতা করা কঠিন ছিল। তারা বলেন, মাদকের অর্থ ব্যবহার করে শওকত স্থানীয় রাজনীতিতে নিজেকে দৃঢ় অবস্থানে প্রতিষ্ঠা করেছেন। এমনকি ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের সভাপতি নির্বাচনের জন্যও তিনি প্রার্থী হয়েছিলেন। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, মাদক থেকে অর্জিত অর্থকে তিনি রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারে ব্যবহার করে সুবিধা লুটেছেন।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। কেউ বলছেন, শওকত এলাকার যুবকরা যে পথে যেতে চাইছে, তার ওপর প্রভাব বিস্তার করত।
অন্যরা জানান, তার ব্যবসা ও মাদক চক্র এতটা সুসংগঠিত ছিল যে সাধারণ নজরদারি ছাড়া তা থামানো প্রায় অসম্ভব ছিল। পুলিশের এই অভিযান স্থানীয়দের মধ্যে আশার আলো তৈরি করেছে এবং দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বিরাজমান ভয় ও অনিশ্চয়তার কিছুটা অবসান ঘটিয়েছে।
স্থানীয় অনুসন্ধান ও স্থানীয় সূত্র বলছে, শওকত দীর্ঘদিন সীমান্ত এলাকা থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহের জন্য তিনি একটি জটিল নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন।
সূত্র জানায়, টেকনাফ ও ঢাকার শীর্ষ কয়েকজন মাদক মাফিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সংযোগ তৈরি করে শওকত নির্বিঘ্নে ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন। স্থানীয়দের কাছে তিনি কেবল মাদক ব্যবসায়ীই নন, বরং এলাকার নতুন জমিদার হিসেবেও পরিচিত হয়ে উঠেছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, জমি বিক্রির খবর কানে পড়লেই শওকত সেখানে কেনার জন্য ছুটে যেতেন। কয়েক বছর আগেও তার কাছে এমন সম্পদ তো দুরের কথা, বৈধ আয়ের কোন উৎসই ছিল না। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যে জেলার প্রসিদ্ধ ব্যবসায়ীদের পেছনে ফেলে মাদকের টাকায় তিনি নতুন জমিদারে পরিণত হয়েছেন। মাদক চক্র আড়াল করার জন্য তিনি দুই বছর ধরে খরুলিয়া এলাকার একটি ফার্নিচার ব্যবসায়ী চক্র পরিচালনা করে আসছিলেন। যুবদলের সাইনবোর্ড ব্যবহার করে কোটি কোটি টাকার অবৈধ মাদক বাণিজ্য চলত তিনি।
উপরন্তু, এই চক্র থেকে উপার্জিত অর্থ দিয়ে শওকত আলম একাধিক বাড়ি নির্মাণ করেছেন এবং বিভিন্ন ব্যাংকে কোটি কোটি টাকা জমা করেছেন। স্থানীয়রা মনে করছেন, এ ধরনের অবৈধ অর্থ শেয়ার বা বিনিয়োগের মাধ্যমে তিনি এলাকায় রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাবও বিস্তৃত করেছেন।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছমি উদ্দিন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানকালে মুক্তারকুল এলাকার হানিফের ছেলে আলমগীর পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রীসহ শওকত ও অন্য সহযোগীকে আটক করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ৫০ হাজার পিস ইয়াবা ও সাড়ে চার লাখ টাকা নগদ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেছেন যে সীমান্ত এলাকা থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করতেন।
What's Your Reaction?