৬ দিনেও নতুন কর্মস্থলে যোগ দেয়নি অবমুক্ত করা আরএনবির দুই সদস্য
প্রশাসনিক আদেশে বদলি ও তাৎক্ষণিক অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজ) কার্যকর হওয়ার পরও নতুন কর্মস্থলে দুই সদস্যের অনুপস্থিতি নিয়ে চট্টগ্রামের প্রশাসনিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রমের পরও তাদের যোগদান না করা, একই সঙ্গে দপ্তর পর্যায়ে কোনো নথিভুক্ত উপস্থিতি না থাকায় পুরো বিষয়টি এখন প্রশাসনিক নজরদারির আওতায় এসেছে। এ ঘটনায় বদলি আদেশ বাস্তবায়ন, তদবির এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, চলতি বছরের ২০ এপ্রিল রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) দুই সদস্যকে বদলি ও পদায়নের নির্দেশ জারি করা হয়। আদেশ অনুযায়ী, এসআই মো. জাহাঙ্গীর আলমকে চট্টগ্রামের সিআরবি ইউনিট থেকে ঢাকা (জি) ইউনিটে এবং সিপাহি মো. মাহমুদুল হাসানকে একই ইউনিট থেকে তালশহর এলাকায় বদলি করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, বদলিকৃত আরএনবির এসআই জাহাঙ্গীর সিআরবি হেড কোর্য়াটারের ভিতরে জুয়ার আসর ও সরওয়ার নামের একজন সিপাজিকে বডিগার্ড হিসেবে ব্যবহার করতেন। বাসায় আসা যাওয়ার ক্ষেত্রে মোটরসাইকেলও ব্যবহার করতেন। সদস্যরা বদলি আদেশ পাওয়ার পর নানা অজুহাতে নতুন
প্রশাসনিক আদেশে বদলি ও তাৎক্ষণিক অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজ) কার্যকর হওয়ার পরও নতুন কর্মস্থলে দুই সদস্যের অনুপস্থিতি নিয়ে চট্টগ্রামের প্রশাসনিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রমের পরও তাদের যোগদান না করা, একই সঙ্গে দপ্তর পর্যায়ে কোনো নথিভুক্ত উপস্থিতি না থাকায় পুরো বিষয়টি এখন প্রশাসনিক নজরদারির আওতায় এসেছে। এ ঘটনায় বদলি আদেশ বাস্তবায়ন, তদবির এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, চলতি বছরের ২০ এপ্রিল রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) দুই সদস্যকে বদলি ও পদায়নের নির্দেশ জারি করা হয়। আদেশ অনুযায়ী, এসআই মো. জাহাঙ্গীর আলমকে চট্টগ্রামের সিআরবি ইউনিট থেকে ঢাকা (জি) ইউনিটে এবং সিপাহি মো. মাহমুদুল হাসানকে একই ইউনিট থেকে তালশহর এলাকায় বদলি করা হয়।
অভিযোগ উঠেছে, বদলিকৃত আরএনবির এসআই জাহাঙ্গীর সিআরবি হেড কোর্য়াটারের ভিতরে জুয়ার আসর ও সরওয়ার নামের একজন সিপাজিকে বডিগার্ড হিসেবে ব্যবহার করতেন। বাসায় আসা যাওয়ার ক্ষেত্রে মোটরসাইকেলও ব্যবহার করতেন। সদস্যরা বদলি আদেশ পাওয়ার পর নানা অজুহাতে নতুন কর্মস্থলে যোগদান থেকে বিরত থাকছেন। আবার কেউ কেউ বিভিন্ন মহলে যোগাযোগ করে আদেশ বাতিল বা স্থগিত করার চেষ্টা করছেন বলেও তথ্য পাওয়া গেছে। ফলে বদলি আদেশ বাস্তবায়নে প্রশাসনের কার্যকারিতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) পূর্বাঞ্চলের প্রধান মো.জহিরুল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, যেহেতু অবমুক্ত করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। সেহেতু দ্রুত সময়ের মধ্যে চলে যাবেন। অবমুক্তের তারিখ থেকে ইচ্ছা করলে নিয়মানুযায়ী কয়েকদিন ছুটিতেও থাকতে পারে। তবে আদেশ অনুযায়ী না গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও সুযোগ রয়েছে। তাছাড়া অনেকের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ আছে, সেগুলোও তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।
বদলি আদেশে উল্লেখ ছিল, সংশ্লিষ্ট সদস্যদের ২২ এপ্রিল মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান সম্পন্ন করতে হবে। একই সঙ্গে নির্দেশনা অমান্য করলে ২৩ এপ্রিল থেকে তাদের বর্তমান কর্মস্থল থেকে তাৎক্ষণিক অবমুক্ত হিসেবে গণ্য করা হবে। অর্থাৎ নির্ধারিত সময়সীমা পার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা পূর্ববর্তী কর্মস্থলের দায়িত্ব থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অব্যাহতি পেয়েছেন বলে ধরা হবে।
তবে, নথিপত্র অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়সীমা শেষে তাদের অবমুক্ত কার্যকর হিসেবে গণ্য করা হলেও নতুন কর্মস্থলে যোগদানের কোনো লিখিত রেকর্ড পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে পূর্ববর্তী কর্মস্থলেও তাদের উপস্থিতির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে দপ্তর সূত্রে জানা গেছে। ফলে দুই কর্মস্থলেই তাদের অবস্থান অনিশ্চিত থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রমে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, বদলি আদেশ কার্যকর হওয়ার পর সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সদস্যদের দায়িত্ব হস্তান্তর এবং নতুন কর্মস্থলে যোগদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা। কিন্তু এই ক্ষেত্রে তা বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে পর্যালোচনার আওতায় আনা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় নথি যাচাই-বাছাই চলছে।
সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসনিক বিভিন্ন পর্যায়ে বদলি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে শিথিলতা দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে ৫ আগস্টের পর প্রশাসনিক সমীকরণে পরিবর্তন আসার ফলে অনেক ক্ষেত্রে বদলির পরও দীর্ঘ সময় একই কর্মস্থলে অবস্থান করার নজির তৈরি হয়েছে। এতে করে প্রশাসনিক কাঠামোতে ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
What's Your Reaction?