৮০ শতাংশ থাড ও অর্ধেক প্যাট্রিয়ট শেষ, যুদ্ধ নিয়ে শঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুত দ্রুত কমে যাচ্ছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর কাছে থাকা থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থার প্রায় ৮০ শতাংশ ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার হয়ে গেছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। একই সঙ্গে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতও যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রায় অর্ধেক কমেছে। মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের একটি অংশ এরই মধ্যে সতর্ক করে বলেছেন, পেন্টাগনের গুরুত্বপূর্ণ গোলাবারুদের মজুত এখন ‘বিপজ্জনকভাবে কম’ পর্যায়ে রয়েছে। থাড ও প্যাট্রিয়টের মজুত কমছে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আধুনিক দুই ধরনের প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থার প্রায় ২ হাজার ২০০টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্রায় ৪৫২টি থাড ক্ষেপণাস্ত্র ছিল বলে সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) হিসাব। যুদ্ধের সময় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঠেকাতে এসব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। এর ফলে থাডের মজুত প্রায় চার-পঞ্চমাংশ এবং প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরের প্রায় অর্ধেক শেষ হয়ে গেছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে। থাডের এত বড় ঘাটতির তথ্য এর আগে প্রকা
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুত দ্রুত কমে যাচ্ছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর কাছে থাকা থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থার প্রায় ৮০ শতাংশ ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার হয়ে গেছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
একই সঙ্গে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতও যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রায় অর্ধেক কমেছে। মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের একটি অংশ এরই মধ্যে সতর্ক করে বলেছেন, পেন্টাগনের গুরুত্বপূর্ণ গোলাবারুদের মজুত এখন ‘বিপজ্জনকভাবে কম’ পর্যায়ে রয়েছে।
থাড ও প্যাট্রিয়টের মজুত কমছে
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আধুনিক দুই ধরনের প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থার প্রায় ২ হাজার ২০০টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্রায় ৪৫২টি থাড ক্ষেপণাস্ত্র ছিল বলে সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) হিসাব।
যুদ্ধের সময় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঠেকাতে এসব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। এর ফলে থাডের মজুত প্রায় চার-পঞ্চমাংশ এবং প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরের প্রায় অর্ধেক শেষ হয়ে গেছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।
থাডের এত বড় ঘাটতির তথ্য এর আগে প্রকাশ্যে আসেনি।
উপসাগরীয় দেশগুলোও উদ্বিগ্ন
মার্কিন অস্ত্রের এই ঘাটতি নিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যেও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা হামলা ঠেকাতে এসব দেশের অনেকেই মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বড় ধরনের হামলা চালায়, তাহলে প্রতিশোধ হিসেবে উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতি এসব দেশের ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার সক্ষমতাকেও প্রভাবিত করতে পারে।
হামলা চালানোর সিদ্ধান্তের আগেও উঠেছিল মজুতের প্রশ্ন
ইরানে নতুন করে বড় ধরনের হামলা চালানোর পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনার সময় মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা একাধিকবার অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেছেন।
গত সপ্তাহে ইরানে নতুন হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেও বিষয়টি আলোচনায় আসে। একই সময়ে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, বিশেষ করে জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালালে কী ধরনের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া হতে পারে, সে বিষয়েও মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য তুলে ধরা হয়।
উপসাগরীয় মিত্ররাও ইরানের পাল্টা হামলার আশঙ্কা জানায়।
এসব বিষয় শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পিত হামলা স্থগিত করার সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
ট্রাম্পের হামলার পরিকল্পনা স্থগিত
একজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শুক্রবার ইরানে বড় ধরনের হামলা চালানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে হামলার জন্য চূড়ান্ত অনুমতিও দেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু শনিবার মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনার পর ট্রাম্প হামলা থেকে সরে আসেন। এসব দেশ ইরানের পাল্টা হামলা এবং বিশেষ করে জ্বালানি অবকাঠামোতে আঘাতের আশঙ্কা জানিয়েছিল।
তবে ট্রাম্প ভবিষ্যতে হামলার সম্ভাবনা পুরোপুরি বাতিল করেননি।
পেন্টাগনের দাবি, অস্ত্রের ঘাটতি নেই
তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এখনো যথেষ্ট শক্তিশালী।
পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পারনেল বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী এবং প্রেসিডেন্ট যখন যেখানে প্রয়োজন মনে করবেন, সেখানে অভিযান চালানোর মতো সক্ষমতা তাদের রয়েছে।
হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র আনা কেলিও দাবি করেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কৌশলগত লক্ষ্য পূরণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পর্যাপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র, গোলাবারুদ ও অস্ত্রের মজুত রয়েছে।
দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রও দ্রুত কমছে
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে শুধু থাড ও প্যাট্রিয়ট নয়, যুক্তরাষ্ট্রের দূরপাল্লার নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতও দ্রুত কমছে।
মার্কিন সেনাবাহিনী আর্মি ট্যাকটিক্যাল মিসাইল সিস্টেম (এটিএসিএমএস) এবং প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল (পিএসএম) ব্যাপকভাবে ব্যবহার করেছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
এ ছাড়া টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একটি সূত্রের দাবি, যুদ্ধের সময় টমাহকের প্রায় অর্ধেক ব্যবহার হয়ে গেছে।
এর আগে এপ্রিল মাসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, যুদ্ধের প্রথম দিকে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৩০ শতাংশ টমাহক ব্যবহার করেছিল।
‘প্রতিটি হামলার জবাব’ দিয়ে যুদ্ধ শেষ হবে না
মার্কিন অস্ত্রের মজুত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে একটি সূত্র বলেছে, আকাশ প্রতিরক্ষার ইন্টারসেপ্টর কমে গেলে ইরানের আত্মঘাতী ড্রোনগুলো বড় সংখ্যায় প্রতিরক্ষা ভেদ করে প্রবেশ করতে পারে।
ওই সূত্রের মতে, একের পর এক হামলা ও পাল্টা হামলা চালিয়ে এই যুদ্ধের শেষ হবে না।
ভবিষ্যৎ যুদ্ধ নিয়েও শঙ্কা
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ হলে মার্কিন সামরিক সক্ষমতার ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে।
অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার প্রভাব ভবিষ্যতে চীন, রাশিয়া বা উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য বড় সংঘাতেও পড়তে পারে বলে তারা সতর্ক করেছেন।
অর্থাৎ ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ শুধু বর্তমান সংঘাতের জন্য নয়, ভবিষ্যতের বড় যুদ্ধের প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
অস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা
মজুত দ্রুত কমে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।
প্রতিরক্ষা দপ্তর সাম্প্রতিক সময়ে ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর পদক্ষেপ নিয়েছে। এ সপ্তাহেই প্যাট্রিয়ট ও থাডের রকেট মোটর উৎপাদন বাড়ানোর জন্য দুটি চুক্তি করা হয়েছে।
তবে এসব উদ্যোগের ফল কবে পাওয়া যাবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময় জানায়নি মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর।
মজুত পূরণ হতে লাগতে পারে কয়েক বছর
বিশ্লেষকদের মতে, প্যাট্রিয়টের মতো অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র দ্রুত তৈরি করা যায় না। উৎপাদন প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ সময় লাগে। ফলে যুদ্ধের আগে যে পরিমাণ মজুত ছিল, সেখানে ফিরতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে।
সিএসআইএসের হিসাব অনুযায়ী, থাড ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থায় ফিরতে তিন বছর বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে।
অন্যদিকে প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল ও জয়েন্ট এয়ার-টু-সারফেস স্ট্যান্ডঅফ মিসাইলের মতো কিছু অস্ত্রের মজুত তুলনামূলক দ্রুত পূরণ হতে পারে। সিএসআইএসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এসব অস্ত্রের মজুত ২০২৭ সালের মাঝামাঝি থেকে শেষ নাগাদ যুদ্ধ-পূর্ব পর্যায়ে ফিরে আসতে পারে।
ইরান যুদ্ধ নতুন বাস্তবতা সামনে আনছে
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত তাই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির সামনে একটি বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী সামরিক বাহিনী হলেও দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চমাত্রার ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করলে অস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে যেতে পারে।
একদিকে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে, তাদের হাতে এখনো পর্যাপ্ত অস্ত্র রয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের উদ্বেগ এবং বিভিন্ন বিশ্লেষণ বলছে, অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত পুনর্গঠনে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে।
ফলে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অস্ত্রের মজুত ও ভবিষ্যৎ সামরিক প্রস্তুতির প্রশ্নটিও তত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
সূত্র: সিএনএন
এমএসএম
What's Your Reaction?