অধ্যক্ষের চেয়ার দখল নিয়ে তীব্র অস্থিরতা, ব্যাহত শিক্ষা কার্যক্রম

মেহেরপুর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (টিটিসি) অধ্যক্ষের চেয়ার দখলকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক অস্থিরতা চরমে পৌঁছেছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম এবং অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ওয়েল্ডিং বিভাগের চিফ ইনস্ট্রাক্টর আরিফ হোসেন তালুকদার জ্যেষ্ঠতা ও প্রশাসনিক বিধি উপেক্ষা করে প্রভাব খাটিয়ে অধ্যক্ষ পদ দখলের চেষ্টা করছেন। সূত্র জানায়, ২০২০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত টিটিসিতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০২৫ সালের ১০ এপ্রিল তাকে মেহেরপুর থেকে রাজবাড়ীতে বদলি করা হয়। তবে মাত্র নয় মাসের মাথায়, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি এক অফিস আদেশে তাকে পুনরায় মেহেরপুর টিটিসিতে ওয়েল্ডিং বিভাগের চিফ ইনস্ট্রাক্টর হিসেবে সংযুক্ত করা হয়। যোগদানের পর থেকেই আবারও প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে আসীন হওয়ার তৎপরতা শুরু করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বিভিন্ন মহলে লবিং, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেকে অধ্যক্ষ পরিচয়ে মিথ্যা প্রচার এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দিয়ে সংবর্ধনার আয়োজনের মাধ্যমে নিজের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছেন তিনি। স্থানীয় কয়েকটি ফেসবুক পেজেও তাকে অধ্যক্ষ পরিচয়ে ভ

অধ্যক্ষের চেয়ার দখল নিয়ে তীব্র অস্থিরতা, ব্যাহত শিক্ষা কার্যক্রম

মেহেরপুর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (টিটিসি) অধ্যক্ষের চেয়ার দখলকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক অস্থিরতা চরমে পৌঁছেছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম এবং অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা।

প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ওয়েল্ডিং বিভাগের চিফ ইনস্ট্রাক্টর আরিফ হোসেন তালুকদার জ্যেষ্ঠতা ও প্রশাসনিক বিধি উপেক্ষা করে প্রভাব খাটিয়ে অধ্যক্ষ পদ দখলের চেষ্টা করছেন।

সূত্র জানায়, ২০২০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত টিটিসিতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০২৫ সালের ১০ এপ্রিল তাকে মেহেরপুর থেকে রাজবাড়ীতে বদলি করা হয়। তবে মাত্র নয় মাসের মাথায়, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি এক অফিস আদেশে তাকে পুনরায় মেহেরপুর টিটিসিতে ওয়েল্ডিং বিভাগের চিফ ইনস্ট্রাক্টর হিসেবে সংযুক্ত করা হয়। যোগদানের পর থেকেই আবারও প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে আসীন হওয়ার তৎপরতা শুরু করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, বিভিন্ন মহলে লবিং, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেকে অধ্যক্ষ পরিচয়ে মিথ্যা প্রচার এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দিয়ে সংবর্ধনার আয়োজনের মাধ্যমে নিজের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছেন তিনি। স্থানীয় কয়েকটি ফেসবুক পেজেও তাকে অধ্যক্ষ পরিচয়ে ভিডিও প্রকাশ করতে দেখা গেছে। এমনকি বর্তমান অধ্যক্ষের অনুপস্থিতিতে নিজেকে অধ্যক্ষ পরিচয় দিয়ে মেহেরপুরের নবাগত জেলা প্রশাসককে স্বাগত জানিয়ে সেই পোস্ট নিজ ফেসবুক আইডিতে শেয়ার করার ঘটনাও সামনে এসেছে।

এছাড়া মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) গভীর রাতে বর্তমান অধ্যক্ষের অনুপস্থিতিতে অধ্যক্ষের কক্ষে প্রবেশ করে শিক্ষক-কর্মচারী ও বহিরাগতদের নিয়ে বৈঠক এবং শুভেচ্ছা বিনিময়ের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। ওই কক্ষে নিজের প্রাপ্ত বিভিন্ন স্মারক উপহার সাজিয়ে রাখার ঘটনাও আলোচনায় এসেছে।

এদিকে ‘মানবতার চোখ’ নামের রেজিস্ট্রেশনবিহীন একটি স্থানীয় অনলাইন সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়, জাপানিজ ল্যাংগুয়েজ বিভাগের যেসব শিক্ষার্থী আরিফ তালুকদারকে সংবর্ধনা দিয়েছে, তাদের বহিষ্কারের নির্দেশ দিয়েছেন অধ্যক্ষ। এ খবর প্রকাশের পর শহরজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

বর্তমান অধ্যক্ষ ড. প্রকৌশলী মো. শামীম হোসেন এ অভিযোগ নাকচ করে কালবেলাকে বলেন, ‘সরকারি নির্দেশনার বাইরে অধ্যক্ষের চেয়ারে বসার ক্ষমতা কারোর নেই। বদলির আদেশে তালুকদার সাহেবকে অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। আমার অনুপস্থিতিতে গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে তিনি লোকজন নিয়ে এসে কক্ষের তালা খুলে অধ্যক্ষের চেয়ারে বসে বৈঠক করেছেন এবং ব্যক্তিগত জিনিসপত্র সাজিয়ে রেখেছেন। এমন কাজ করার আগে তিনি আমার সঙ্গে কোনো রকম আলোচনা করেননি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ছাত্র বহিষ্কারের বিষয়ে যে কথা বলা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ বানোয়াট। সবকিছুর একটি নির্দিষ্ট প্রশাসনিক প্রক্রিয়া রয়েছে, সেটিই অনুসরণ করা উচিত। এছাড়াও মাত্র তিন মাসের কোর্সে বহিষ্কারের কোনো বিধান নেই।’

অন্যদিকে অভিযুক্ত আরিফ হোসেন তালুকদার অভিযোগ অস্বীকার করে কালবেলাকে বলেন, ‘আমি ইতোমধ্যে মেহেরপুর থেকে রাজবাড়ীতে চলে এসেছি। সেখানে কি হয়েছে, তা ছাত্ররা ভালো বলতে পারবে। আমি প্রায় দেড় মাস আগে যোগদান করলেও বর্তমান অধ্যক্ষ এখনো আমাকে অধ্যক্ষ পদের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেননি। তিনি আমার সিনিয়র, তাই তার সঙ্গে কোনো দ্বন্দ্বে যেতে চাই না।’

তবে অধ্যক্ষের কক্ষে অনধিকার প্রবেশ, নিজেকে অধ্যক্ষ পরিচয়ে প্রচার এবং সেখানে ব্যক্তিগত স্মারক রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি।

এ দিকে সচেতন অভিভাবক ও স্থানীয়দের একাংশ বলছেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ডে প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে দক্ষ ও সৎ নেতৃত্বের মাধ্যমে টিটিসির স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

উল্লেখ্য, বিগত সময়ে দীর্ঘ পাঁচ বছর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আরিফ হোসেন তালুকদার তৎকালীন জনপ্রশাসন মন্ত্রী ফরহাদ হোসেন-এর আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow