অভিযোগকে ‘অপবাদ’ বললেন মেলানিয়া ট্রাম্প

কুখ্যাত মার্কিন অর্থদাতা ও যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনকে ঘিরে চলমান বিতর্কের মধ্যে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। তার সঙ্গে এপস্টিনের কোনো ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল না এবং তিনি কখনোই তার নিপীড়নের শিকার হননি বলে দৃঢ়ভাবে দাবি করেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া এক বক্তব্যে মেলানিয়া বলেন, ‘আমি এপস্টিনের নিপীড়নের শিকার নই।’ নিজের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন অভিযোগকে ‘অপবাদ’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি এসব গুজবের অবসান চান। এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই এপস্টিন ইস্যু আড়াল করার চেষ্টা করছে। ঠিক এমন প্রেক্ষাপটে মেলানিয়ার সরাসরি বক্তব্য বিষয়টিকে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া একাধিক দাবিতে বলা হচ্ছিল, এপস্টিনই মেলানিয়ার সঙ্গে ট্রাম্পের পরিচয় করিয়ে দেন। তবে এ তথ্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করে মেলানিয়া জানান, ১৯৯৮ সালে নিউইয়র্কের এক সামাজিক অনুষ্ঠানে প্রথম ট্রাম্পের সঙ্গে তার দেখা হয়। এরপর ২০০০ সালে ট্রাম্পের সঙ্গেই আরেকটি অ

অভিযোগকে ‘অপবাদ’ বললেন মেলানিয়া ট্রাম্প
কুখ্যাত মার্কিন অর্থদাতা ও যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনকে ঘিরে চলমান বিতর্কের মধ্যে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। তার সঙ্গে এপস্টিনের কোনো ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল না এবং তিনি কখনোই তার নিপীড়নের শিকার হননি বলে দৃঢ়ভাবে দাবি করেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া এক বক্তব্যে মেলানিয়া বলেন, ‘আমি এপস্টিনের নিপীড়নের শিকার নই।’ নিজের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন অভিযোগকে ‘অপবাদ’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি এসব গুজবের অবসান চান। এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই এপস্টিন ইস্যু আড়াল করার চেষ্টা করছে। ঠিক এমন প্রেক্ষাপটে মেলানিয়ার সরাসরি বক্তব্য বিষয়টিকে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া একাধিক দাবিতে বলা হচ্ছিল, এপস্টিনই মেলানিয়ার সঙ্গে ট্রাম্পের পরিচয় করিয়ে দেন। তবে এ তথ্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করে মেলানিয়া জানান, ১৯৯৮ সালে নিউইয়র্কের এক সামাজিক অনুষ্ঠানে প্রথম ট্রাম্পের সঙ্গে তার দেখা হয়। এরপর ২০০০ সালে ট্রাম্পের সঙ্গেই আরেকটি অনুষ্ঠানে গিয়ে প্রথমবার এপস্টিনকে দেখেন। মেলানিয়া আরও বলেন, এপস্টিন বা তার সহযোগী গিলেন ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে তার কোনো ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল না। ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে কেবল আনুষ্ঠানিক ও সীমিত যোগাযোগ ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। ফার্স্ট লেডি মার্কিন কংগ্রেসের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এপস্টিনের হাতে নির্যাতনের শিকার নারীদের জন্য প্রকাশ্য শুনানির ব্যবস্থা করা উচিত। এতে ভুক্তভোগীরা শপথ নিয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে পারবেন বলে তিনি মত দেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এ প্রস্তাব ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য রাজনৈতিকভাবে অস্বস্তিকর হতে পারে। হোয়াইট হাউসের ভেতরে প্রেসিডেন্টের প্রতীক সংবলিত পোডিয়ামে দাঁড়িয়ে এ ধরনের বক্তব্য দেওয়াকে অস্বাভাবিক বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। তাদের মতে, এটি এপস্টিন ইস্যুকে আবারও জাতীয় আলোচনায় সামনে নিয়ে এসেছে। সাবেক ফার্স্ট লেডি জিল বাইডেনের সাবেক প্রেস সেক্রেটারি মাইকেল লারোসা বলেন, ‘বর্তমান সময়ে কোনো ফার্স্ট লেডিকে এভাবে সরাসরি বিতর্কের জবাব দিতে দেখা যায়নি। এটি নিঃসন্দেহে সাহসী পদক্ষেপ।’ প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের যৌন পাচারের অপরাধে দণ্ডিত হন জেফরি এপস্টিন। পরে ২০১৯ সালে কারাগারে থাকা অবস্থায় তিনি আত্মহত্যা করেন। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তালিকা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলছে। মেলানিয়া ট্রাম্পের এই বক্তব্য সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে নির্যাতনের শিকার অনেকেই তার প্রস্তাবিত প্রকাশ্য শুনানির বিরোধিতা করেছেন। তাদের মতে, নতুন করে সাক্ষ্য নেওয়ার চেয়ে দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা এখন সবচেয়ে জরুরি।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow