অসীম বাহাদুরের গুচ্ছ গুচ্ছ কবিতা

আমার বোন ঐ মেয়েটাকে চেনো? যে তার বাপের সাথে ফ্রি হতে পারে নাই যার বাপ অন্য নারীর জানালায় উঁকি দেয় যে মেয়েটা লজ্জায় স্কুলে যেতে পারে না যে মেয়েটার মাকে প্রতিদিন মার খেতে হয় ঐ মেয়েটাকে চেনো? যে চোখ বুজে জানোয়ারের সাথে সংসার করে যাচ্ছে যার বাপে বিনা খরচায় বিক্রি করছে তাকে যে স্বামীর ভালোবাসা পেল না যার স্বামী লম্পট পরকীয়ায় মত্ত।।   চেনো তাকে? আমার বোন। যে আজ ভোরে আমার কাছে এসেছে এসেছে গলাভর্তি নাইলন দড়ির দাগ নিয়ে।     চোখ কী এক আশ্চর্যরকমের দুটি চোখ দিয়ে ঈশ্বর আমায় পাঠালেন! ভাবলেই শিউরে উঠি। কেঁপে কেঁপে ওঠে কন্ঠস্বর। প্রত্যেকটা শিরা উপশিরা জুড়ে বয়ে চলে সমগ্র মেদিনী ভাঙা সাইক্লোন। যার দিকে মায়ার নজরে তাকাই সে দিনদিন হয়ে ওঠে মহান অথবা মহীয়সী। আর ঘৃণার দৃষ্টি ছড়ালে সে ধ্বংস হয়! সে ধ্বংস হয় আদ সামুদ জাতির মতোই। আমার চোখ বড় আশ্চর্য আশ্চর্য রকমের ভয়ংকর!     মা  কতজনের মায়ে স্বামীর কাছ থাইকা জমি পায়               বাড়ি পায়                             গাড়ি পায় উৎসবে পায় নতুন শাড়ি জায়গায় জায়গায় বেড়ানো শখ আহ্লাদের পূরণ। কিন্তু আমার মা! কিছুই না একসাথে তো হাসতেই দেখলাম না কোনদ

অসীম বাহাদুরের গুচ্ছ গুচ্ছ কবিতা
আমার বোন ঐ মেয়েটাকে চেনো? যে তার বাপের সাথে ফ্রি হতে পারে নাই যার বাপ অন্য নারীর জানালায় উঁকি দেয় যে মেয়েটা লজ্জায় স্কুলে যেতে পারে না যে মেয়েটার মাকে প্রতিদিন মার খেতে হয় ঐ মেয়েটাকে চেনো? যে চোখ বুজে জানোয়ারের সাথে সংসার করে যাচ্ছে যার বাপে বিনা খরচায় বিক্রি করছে তাকে যে স্বামীর ভালোবাসা পেল না যার স্বামী লম্পট পরকীয়ায় মত্ত।।   চেনো তাকে? আমার বোন। যে আজ ভোরে আমার কাছে এসেছে এসেছে গলাভর্তি নাইলন দড়ির দাগ নিয়ে।     চোখ কী এক আশ্চর্যরকমের দুটি চোখ দিয়ে ঈশ্বর আমায় পাঠালেন! ভাবলেই শিউরে উঠি। কেঁপে কেঁপে ওঠে কন্ঠস্বর। প্রত্যেকটা শিরা উপশিরা জুড়ে বয়ে চলে সমগ্র মেদিনী ভাঙা সাইক্লোন। যার দিকে মায়ার নজরে তাকাই সে দিনদিন হয়ে ওঠে মহান অথবা মহীয়সী। আর ঘৃণার দৃষ্টি ছড়ালে সে ধ্বংস হয়! সে ধ্বংস হয় আদ সামুদ জাতির মতোই। আমার চোখ বড় আশ্চর্য আশ্চর্য রকমের ভয়ংকর!     মা  কতজনের মায়ে স্বামীর কাছ থাইকা জমি পায়               বাড়ি পায়                             গাড়ি পায় উৎসবে পায় নতুন শাড়ি জায়গায় জায়গায় বেড়ানো শখ আহ্লাদের পূরণ। কিন্তু আমার মা! কিছুই না একসাথে তো হাসতেই দেখলাম না কোনদিন পাওয়ার মধ্যে পাইলো শুধু বাপের চুৎমারানি গালিটা।     রূপসা এক্সপ্রেস হয়তো হাসপাতালের বেডে চিৎকারে চিৎকারে  তোমারে দেখতে চাইতেছি মা তোমারে কলের পরে কল করে যায় ধরো না ধরো না মানে ধরতেছই না অথবা কোনক্রমে খবর পা'য়া ট্রেন কিংবা বাসে চেপে শেষ তোমারে দেখানোর জন্যে আসতেছ অথবা আসবা কি আসবা না'র ভেতর সমূহ উৎকন্ঠা তোমারে আঁকড়ায়ে  দুমড়ায়ে মুচড়ায়ে দিতাছে চরম না এসবের কিছুই হবে না তোমার। নিজেরে বড্ড প্রতারক প্রতারক লাগে শুভ্রতা― আমারে না কেটে দিনের ট্রেন দিনে চলে যায় তোমার বাড়ি।     চিঠি সেই সুখপাঠ্য চিঠি আমি যাকে তুমি মন্ত্রমুগ্ধের ন্যায় বারবার পড়। পড়া শেষে চুমু খাও রাখো নরম বুকের উপর। ভাঁজ করে রাখো আরেক বুকে বইয়ের ভেতর। ক'দিন পর আবার বের করো পড়ো বুকের তলে বালিশ রেখে দুই বার পড়ো। স্বপ্ন দ্যাখো স্বপ্ন দেখাও বুকের উপর থাকতে আমার ভালোই লাগে ভালো লাগে বইয়ের শরীর ভালো লাগে স্বপ্ন দেখাতে। তারপর দ্বিমতে যেদিন আগুনে পুড়ি সেদিন তোমাদেরও পোড়াই।     ভাত না কান্না চাচির প্লেটভর্তি অপমান আছিলো তোমরা তিন ভাইবোন ভাত পাইলা না। মা তোমাদের কান্না দেইখা বাহির হইতে ঘরে আইনা  তোমাদের আচ্ছামতন মাইরা মুখে আঁচল দিয়া কাঁদলেন। মায়ের কান্না দেইখা ভাত নিজের নাম পাল্টায়ে কান্না রাখল।  এখন ভাতেরে ভাত কইয়া ডাকলে ভাত হু হু করে কাঁদে।     প্রতিদান বৃক্ষে র ব্যথায় ছটপট করা তোমারে আমি বৃক্ষ দিয়া বাঁচাইতে চাইছিলাম। চোখের জ্বালায় চোখ অন্তরের বেদনায় অন্তর আর যত অঙ্গের লাগি  যাবতীয় অঙ্গের সমাহার সবকিছুর জন্যে  আমার সবকিছু দিয়া  তোমারে বাঁচাইতে চাইছিলাম শেষমেশ সেই তুমিই  আমার লাশের উপর দাঁড়াইলা!     নিয়তি আমি মরে গেলে কেউ কাঁদতে পারবে না। কারণ কান্না আনতে  যতখানি ভালোবাসার প্রয়োজন অতখানি ভালো কেউ আমারে বাসে নাই।     রাত গভীর হলেই রাত গভীর হলেই  মাথার মধ্যে সিগারেট জ্বালিয়ে আকাশের দিকে চেয়ে বসেন আপন মাহমুদ। আপন মনে কী দেখেন, কী ভাবেন কিছুই বুঝতে পারি না। দৈবাৎ শুনি গগন বিদারী মা মা চিৎকার ঠাহর করি, আক্তারুজ্জামান লেবু। ভয়ে জড়োসড়ো হই চেপে ধরি চোখ কান  চোখ খুললেই বেদনার দুই নীল দড়িতে ঝুলতে থাকেন সৌরভ মাহমুদ ও মুরাদ নীল।   আতঙ্কগ্রস্ত হই পরে কে? রাত গভীর হলেই  পার্থ মল্লিক জীবনানন্দের গদ্য চেয়ে বেড়াতে বেড়াতে ক্লান্ত বোধ করেন। কবি পরিচিতি। জন্ম : ১৭ সেপ্টেম্বর, রাজশাহীর দুর্গাপুরে। শিক্ষাজীবন শুরু নিজ এলাকায়। উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন বিড়ালদহ কলেজ থেকে। পরবর্তীতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়-এর ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। প্রকাশিত গ্রন্থ : ঘনঘটা বোধের চরকা (২০২৩)

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow