আদালতে সেই ‘ভুয়া’ আব্দুল আজিজের দোষ স্বীকার
ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে গুলশানে অন্যের বাড়ি-সম্পত্তি দখলচেষ্টা মামলার আসামি হানিফ হাওলাদার ওরফে আব্দুল আজিজ খাঁন আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। শনিবার (১১ এপ্রিল) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঞ্জুরুল ইসলামের আদালতে স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দেন তিনি। এদিন বিকেলে হানিফ হাওলাদারকে আদালতে হাজির করে গুলশান থানা পুলিশ। এরপর তিনি স্বেচ্ছায় নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিতে চান। একই মামলায় মো. ইউসুফ নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার উপ-পরিদর্শক মাহাবুব হোসাইন ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করতে আদালতে আবেদন করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক জবানবন্দি রেকর্ড করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আসামি জবানবন্দিতে বলেছেন— তার প্রকৃত নাম হানিফ হাওলাদার। তিনি গুলশান-১-এ অবস্থিত ১৫ নম্বর বাড়িটি দখল করতে আব্দুল আজিজ খাঁন নামে একটি ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করেন। পরে গত ১৯ মার্চ হানিফসহ মামলার বাকি আসামিরা ওই বাড়িতে হামলা চালিয়ে দখলে নেন। কিন্তু পাঁচ দিন পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায়
ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে গুলশানে অন্যের বাড়ি-সম্পত্তি দখলচেষ্টা মামলার আসামি হানিফ হাওলাদার ওরফে আব্দুল আজিজ খাঁন আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
শনিবার (১১ এপ্রিল) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঞ্জুরুল ইসলামের আদালতে স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দেন তিনি।
এদিন বিকেলে হানিফ হাওলাদারকে আদালতে হাজির করে গুলশান থানা পুলিশ। এরপর তিনি স্বেচ্ছায় নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিতে চান।
একই মামলায় মো. ইউসুফ নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার উপ-পরিদর্শক মাহাবুব হোসাইন ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করতে আদালতে আবেদন করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক জবানবন্দি রেকর্ড করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আসামি জবানবন্দিতে বলেছেন— তার প্রকৃত নাম হানিফ হাওলাদার। তিনি গুলশান-১-এ অবস্থিত ১৫ নম্বর বাড়িটি দখল করতে আব্দুল আজিজ খাঁন নামে একটি ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করেন।
পরে গত ১৯ মার্চ হানিফসহ মামলার বাকি আসামিরা ওই বাড়িতে হামলা চালিয়ে দখলে নেন। কিন্তু পাঁচ দিন পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় বাড়িটি প্রকৃত মালিক পেয়ে যান।
এর আগে শুক্রবার (১০ এপ্রিল) মধ্যরাতে গুলশান থানা পুলিশ প্রতারক হানিফ হাওলাদার ওরফে ভুয়া আব্দুল আজিজ খাঁনকে গ্রেপ্তার করে। ভুয়া পরিচয়ে বাড়ি দখল ছাড়াও আসামির বিরুদ্ধে একাধিক প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, গুলশান-১-এর ১২৭ নম্বর রোডের ১৫ নম্বর বাড়িটি ১৯ কাঠা ১৩ ছটাক জায়গার ওপর অবস্থিত। ২০১৩ সালের শেষ দিকে আব্দুল আজিজ খান নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে পুরোনো ভবনসহ সম্পত্তিটি কেনে মেসার্স মুন ইন্টারন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেস। ওই প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাবাসসুম আরেফিন রহমান মুন। সেখানে ব্যবসায়িক কাজের পাশাপাশি তার বোনসহ অন্য স্বজনরা বসবাস করে আসছিলেন।
তবে গ্রেপ্তার হানিফ হাওলাদার নিজেকে ওই বাড়ির মালিক সাজিয়ে ভুয়া পরিচয়পত্র তৈরি করেন। এরপর জাল কাগজ তৈরি করে গত ১৯ মার্চ ঈদের ছুটিতে ফাঁকা ঢাকায় ওই বাড়িতে হানিফ হাওলাদার ওরফে ভুয়া আজিজ খাঁনসহ তার সহযোগীরা হামলা চালিয়ে দখলে নেন। এসময় বাড়ির মালিক ও তার পরিবারের সদস্যদের মারধরসহ সাড়ে ১০ লাখ টাকার স্বর্ণ ও নগদ দেড় লাখ টাকা লুটে নেন তারা।
এ ঘটনায় মুন ইন্টারন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেস লিমিটেডে জেনারেল ম্যানেজার আনোয়ার আলী গুলশান থানায় মামলা করেন।
পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে, ওই সম্পত্তির আগের মালিক আব্দুল আজিজ খান মারা গেছেন আগেই। মালিকানা দাবি করে দখলের চেষ্টা করা আসামির প্রকৃত নাম মো. হানিফ হাওলাদার। তার বাবার নাম মৃত আব্দুল গফুর হাওলাদার এবং মা মৃত হামিদা বেগম। তার স্থায়ী ঠিকানা বরগুনার বেতাগীতে।
প্রসঙ্গত, এ ঘটনায় দৈনিক কালবেলার প্রিন্ট ও অনলাইন সংস্করণে পুলিশের মদদে বাড়ি দখল-সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে ঢাকা মহানগর পুলিশের গুলশান জোনের তৎকালীন সহকারী কমিশনার আলী আহমেদ মাসুদকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। দখলের পাঁচ দিনের মাথায় ওই বাড়িটি ছেড়ে চলে যায় ভুয়া আজিজ খানের গ্রুপ। পরে বাড়ির প্রকৃত মালিকপক্ষ বাড়িটিতে অবস্থান করে।
What's Your Reaction?