‘আমরা সব খারাপ করে আসছি, তা তো না’

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কে ঘিরে সমালোচনার জবাবে সাবেক অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, আমরা সব খারাপ করে আসছি, তা তো না। রাজনৈতিক ম্যান্ডেটের অভাব এবং গভীর অর্থনৈতিক সংকটের কারণে বড় সংস্কারের চেয়ে আগে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করাই ছিল মূল অগ্রাধিকার। তিনি আরও বলেন, অনেকে জানতে চান দেড় বছরে সরকার কী করেছে, কিন্তু বাস্তবতা হলো— এক দিনে সব পরিবর্তন হয় না। সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা সব খারাপ করে আসছি, তা তো না।’ গতকাল বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেলে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) ৫৮তম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে দেওয়া বক্তব্যে অধ্যাপক সালেহউদ্দিন আহমেদ এসব কথা বলেন। এবারের সমাবর্তনে বিবিএ, এমবিএ, ইএমবিএ ও ডিবিএ—এই চারটি প্রোগ্রামের ৩৬৫ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। সাবেক এই অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আগের সময়টিতে অর্থনীতি ও প্রশাসনের বিভিন্ন খাতে ভিত্তিগত কিছু সংস্কার হয়েছে। তিনি বলেন, আমি দুটি শব্দ ব্যবহার করি—রিপেয়ার ও রিফর্ম। প্রথমে আমাদের রিপেয়ার করতে হয়েছে, পরে রিফর্ম। তিনি আরও উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তী স

‘আমরা সব খারাপ করে আসছি, তা তো না’

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কে ঘিরে সমালোচনার জবাবে সাবেক অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, আমরা সব খারাপ করে আসছি, তা তো না। রাজনৈতিক ম্যান্ডেটের অভাব এবং গভীর অর্থনৈতিক সংকটের কারণে বড় সংস্কারের চেয়ে আগে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করাই ছিল মূল অগ্রাধিকার।

তিনি আরও বলেন, অনেকে জানতে চান দেড় বছরে সরকার কী করেছে, কিন্তু বাস্তবতা হলো— এক দিনে সব পরিবর্তন হয় না। সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা সব খারাপ করে আসছি, তা তো না।’

গতকাল বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেলে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) ৫৮তম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে দেওয়া বক্তব্যে অধ্যাপক সালেহউদ্দিন আহমেদ এসব কথা বলেন। এবারের সমাবর্তনে বিবিএ, এমবিএ, ইএমবিএ ও ডিবিএ—এই চারটি প্রোগ্রামের ৩৬৫ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।

সাবেক এই অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আগের সময়টিতে অর্থনীতি ও প্রশাসনের বিভিন্ন খাতে ভিত্তিগত কিছু সংস্কার হয়েছে। তিনি বলেন, আমি দুটি শব্দ ব্যবহার করি—রিপেয়ার ও রিফর্ম। প্রথমে আমাদের রিপেয়ার করতে হয়েছে, পরে রিফর্ম।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা ছিল রাজনৈতিক ‘ম্যান্ডেট’-এর অভাব। তিনি বলেন, “আমাদের স্ট্রেন্থ ছিল না, ম্যান্ডেটও ছিল না।” ফলে অনেক সিদ্ধান্ত প্রত্যাশিত গতিতে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

দায়িত্ব নেওয়ার সময় ব্যাংক খাত, পুঁজিবাজার ও রাজস্ব প্রশাসনসহ প্রায় সব ক্ষেত্রেই অস্থিরতা ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষায়, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে গিয়েছিল এবং চলতি হিসাবসহ সামগ্রিক লেনদেনের ভারসাম্যও নেতিবাচক অবস্থায় ছিল। তবে বর্তমানে কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরেছে বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, দেশের পরিস্থিতি এমন ছিল যে আগে অর্থনীতিকে ‘খাদের কিনারা’ থেকে ফিরিয়ে আনতে হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংক খাতের দীর্ঘদিনের অনিয়ম, রাজনৈতিক প্রভাব এবং দুর্বল আইন ব্যবস্থার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, খারাপ আইন রেখে ভালো ফল আশা করা যায় না।

সালেহউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, ব্যাংকিং খাতে এখনো বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। কিছু ব্যাংকে বিপুল অর্থ সহায়তা দিতে হয়েছে এবং বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার কাজও সহজ নয়। তবে প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার কারণে এখন আগের চেয়ে দ্রুত অর্থ উদ্ধারের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে শুধু সরকারি নয়, বেসরকারি খাতেও সুশাসনের ঘাটতি রয়েছে। জবাবদিহির অভাবে বিভিন্ন খাতে অপচয় ও অদক্ষতা তৈরি হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, দুই বছরের প্রকল্প ১০–১২ বছরেও শেষ হয় না।

জ্বালানি খাত নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন নতুন গ্যাস অনুসন্ধানে গুরুত্ব কম দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেশী দেশগুলো এ ক্ষেত্রে অনেক এগিয়ে গেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি শিল্প খাতের উৎপাদনশীলতা কমে যাওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন।

রপ্তানি খাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন প্রণোদনা দেওয়া হলেও অনেক শিল্প এখনো প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠতে পারেনি। ‘ইনফ্যান্ট ইন্ডাস্ট্রি’ হিসেবে সুরক্ষা পেলেও অনেক খাত এখনো পরিণত হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিশ্ব অর্থনীতির নতুন বাস্তবতায় বাংলাদেশের সামনে আরও চ্যালেঞ্জ আসছে বলে সতর্ক করেন সালেহউদ্দিন আহমেদ। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতি, চীন-যুক্তরাষ্ট্র প্রতিযোগিতা এবং বৈশ্বিক শুল্ক পরিস্থিতির প্রভাব মোকাবিলা করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তবে সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, সুশাসন, দক্ষতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশও দক্ষিণ কোরিয়া ও ভিয়েতনামের মতো এগিয়ে যেতে পারে।

সমাবর্তনে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিশ্ব দ্রুত বদলে যাচ্ছে, তাই দক্ষতা, জ্ঞান ও কঠোর পরিশ্রম ছাড়া বিকল্প নেই।

 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow