ইরানের পরমাণু ইস্যুতে কঠোর বার্তা মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের

ইরানের পরমাণু ইস্যুতে কঠোর বার্তা দিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি বলেন, ইরানের কাছ থেকে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ‘স্পষ্ট ও ইতিবাচক অঙ্গীকার’ প্রয়োজন। রোববার (১২ এপ্রিল) আলাজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।  সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ভ্যান্স নির্দিষ্টভাবে কোন শর্ত ইরান প্রত্যাখ্যান করেছে তা জানাতে অস্বীকৃতি জানান। তবে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মূল দাবি হলো ইরান যেন কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা না করে এবং সে সক্ষমতা অর্জনের পথেও না এগোয়। ভ্যান্স বলেন, আমাদের মূল প্রয়োজন হলো তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি এবং এমন কোনো সক্ষমতাও গড়ে না তোলার বিষয়ে স্পষ্টভাবে প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। এর ফলে তাদের দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ থাকবে না। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রধান লক্ষ্যই হচ্ছে এই নিশ্চয়তা অর্জন করা। সে উদ্দেশ্যেই আলোচনায় অংশ নেওয়া হয়েছে। ভ্যান্স দাবি করেন, ইরানের পূর্ববর্তী ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনাগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে। এখন মূল প্রশ্ন হলো ইরান দীর্ঘমেয়াদে পারমাণবিক অস্ত্র না তৈরির বিষয়ে সত্যিকারের রাজনৈতিক সদিচ

ইরানের পরমাণু ইস্যুতে কঠোর বার্তা মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের
ইরানের পরমাণু ইস্যুতে কঠোর বার্তা দিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি বলেন, ইরানের কাছ থেকে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ‘স্পষ্ট ও ইতিবাচক অঙ্গীকার’ প্রয়োজন। রোববার (১২ এপ্রিল) আলাজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।  সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ভ্যান্স নির্দিষ্টভাবে কোন শর্ত ইরান প্রত্যাখ্যান করেছে তা জানাতে অস্বীকৃতি জানান। তবে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মূল দাবি হলো ইরান যেন কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা না করে এবং সে সক্ষমতা অর্জনের পথেও না এগোয়। ভ্যান্স বলেন, আমাদের মূল প্রয়োজন হলো তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি এবং এমন কোনো সক্ষমতাও গড়ে না তোলার বিষয়ে স্পষ্টভাবে প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। এর ফলে তাদের দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ থাকবে না। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রধান লক্ষ্যই হচ্ছে এই নিশ্চয়তা অর্জন করা। সে উদ্দেশ্যেই আলোচনায় অংশ নেওয়া হয়েছে। ভ্যান্স দাবি করেন, ইরানের পূর্ববর্তী ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনাগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে। এখন মূল প্রশ্ন হলো ইরান দীর্ঘমেয়াদে পারমাণবিক অস্ত্র না তৈরির বিষয়ে সত্যিকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা দেখাবে কি না। তিনি বলেন, এটা শুধু এখন বা দুই বছর পরের বিষয় নয়; আমরা দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতি চাই। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমরা সেই নিশ্চয়তা পাইনি। আমরা আশা করছি ভবিষ্যতে তা পাওয়া যাবে। উল্লেখ্য, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সরাসরি বৈঠক হয়েছে। ইরান যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্য সংকটের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে ৪৭ বছর পর তারা সরাসরি বৈঠকে বসেন। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার বাঘের গালিবাফের নেতৃত্বে প্রতিনিধিরা লেবানন সংকট, ইরানের জব্দ অর্থছাড় নিয়ে আলোচনা করেন। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এ বৈঠককে সংকট সমাধানের পথে অভাবনীয় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা একে সংঘাত ছেড়ে কূটনীতির মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা ইতিবাচক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা। ইসলামাবাদে শুরু হওয়া সরাসরি আলোচনা প্রায় দুই ঘণ্টা চলার পর নৈশভোজের বিরতি দেওয়া হয়। পরে এ আলোচনা শুরু হয় এবং লিখিত প্রস্তাব বিনিময় করে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আলোচনা ইতিবাচক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং সফলভাবে প্রথম দফার আলোচনা শেষ হয়েছে। বৈঠকে যুক্ত প্রতিনিধিরা একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে একমত হয়েছেন। এর আগে আলোচনা পরোক্ষভাবে চলছিল। সে সময় দুই পক্ষ আলাদা কক্ষে অবস্থান করছিল এবং পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীরা বার্তা আদান-প্রদান করছিলেন। তবে শনিবার সন্ধ্যায় বিষয়টিতে নতুন মোড় নেয়। মধ্যস্থতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর বরাতে আলজাজিরা জানায়, এবার দুই দেশের প্রতিনিধিরা সরাসরি আলোচনায় বসেছেন। আলোচনার টেবিলে পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীরাও উপস্থিত ছিলেন। হোয়াইট হাউসও সরাসরি বৈঠকের তথ্য নিশ্চিত করেছে। ইরানের প্রতিনিধিদের সূত্র আলজাজিরাকে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের জব্দ ইরানি সম্পদ ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর তারা আলোচনায় অংশ নেন। এটি তাদের ১০ দফার অন্যতম একটি ছিল। তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র রাজি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow