ইরান যুদ্ধ এতো দীর্ঘায়িত হবে ভাবেনি যুক্তরাষ্ট্র

দিন যত গড়াচ্ছে, ততই ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাত। দুই সপ্তাহ হয়ে এলেও যুদ্ধ থামার কোনও লক্ষণ তো দেখাই যাচ্ছে না; বরং হামলা-পাল্টা হামলার মাত্রা আরও বাড়ছে। এদিকে কাতার ভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরার শুক্রবার (১৩ মার্চ) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সংঘাত যে এতোটা দীর্ঘায়িত হবে এবং ইরান এতো শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলবে, তা শুরুতে ওয়াশিংটন অনুমান করতে পারেনি। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা এবং লেবানন থেকে হিজবুল্লাহর ধারাবাহিক হামলা পরিস্থিতিকে আমূল বদলে দিয়েছে। গণমাধ্যমটিতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সামরিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক এলিয়াহ ম্যাগনিয়ার ব্রাসেলস জানান, যুদ্ধ এখন ১৪তম দিনে প্রবেশ করলেও যুক্তরাষ্ট্র শুরুতে এমন পরিস্থিতির জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিল না। দেশটির জন্য এটি অত্যন্ত কঠিন একটি সময়। কারণ যুক্তরাষ্ট্র কল্পনাও করেনি যে ইরান ও তার মিত্ররা এতো বড় মাত্রায় প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে। ম্যাগনিয়ারের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে যে পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা পেন্টাগনের হিসাবের বাইরে ছিল। বিশ্লেষকদের মতে, পারস্য উপসাগরের প্রবেশপথ হরমু

ইরান যুদ্ধ এতো দীর্ঘায়িত হবে ভাবেনি যুক্তরাষ্ট্র

দিন যত গড়াচ্ছে, ততই ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাত। দুই সপ্তাহ হয়ে এলেও যুদ্ধ থামার কোনও লক্ষণ তো দেখাই যাচ্ছে না; বরং হামলা-পাল্টা হামলার মাত্রা আরও বাড়ছে।

এদিকে কাতার ভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরার শুক্রবার (১৩ মার্চ) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সংঘাত যে এতোটা দীর্ঘায়িত হবে এবং ইরান এতো শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলবে, তা শুরুতে ওয়াশিংটন অনুমান করতে পারেনি। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা এবং লেবানন থেকে হিজবুল্লাহর ধারাবাহিক হামলা পরিস্থিতিকে আমূল বদলে দিয়েছে।

গণমাধ্যমটিতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সামরিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক এলিয়াহ ম্যাগনিয়ার ব্রাসেলস জানান, যুদ্ধ এখন ১৪তম দিনে প্রবেশ করলেও যুক্তরাষ্ট্র শুরুতে এমন পরিস্থিতির জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিল না। দেশটির জন্য এটি অত্যন্ত কঠিন একটি সময়। কারণ যুক্তরাষ্ট্র কল্পনাও করেনি যে ইরান ও তার মিত্ররা এতো বড় মাত্রায় প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে।

ম্যাগনিয়ারের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে যে পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা পেন্টাগনের হিসাবের বাইরে ছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, পারস্য উপসাগরের প্রবেশপথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের অনড় অবস্থান বিশ্ব অর্থনীতি ও সামরিক কৌশলে বড় ধাক্কা দিয়েছে। একই সাথে লেবানন সীমান্ত দিয়ে হিজবুল্লাহর ক্রমাগত রকেট ও ড্রোন হামলা ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করছে।

ম্যাগনিয়ার সতর্ক করে বলেন, ‘যুদ্ধের এই পর্যায়ে যে পক্ষ আগে দুর্বলতা দেখাবে, তাকেই শেষ পর্যন্ত পরাজিত হিসেবে গণ্য করা হবে।’

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া এড়াতে চাইলেও বর্তমান পরিস্থিতি তাকে যুদ্ধের ময়দানে অনড় থাকতে বাধ্য করছে।

অন্যদিকে, তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফুয়াদ ইজাদি এই সংঘাতকে ‘পছন্দের যুদ্ধ’ বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ থাকলেও ট্রাম্প ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মূলত ইরানে সরকার পরিবর্তনের উদ্দেশ্যেই এই সামরিক অভিযানের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

অধ্যাপক ইজাদি আল জাজিরাকে বলেন, ‘ইরান এই যুদ্ধ শুরু করেনি। এটি সম্পূর্ণভাবে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর নেওয়া একটি সিদ্ধান্ত।’

তিনি আরও বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান উদ্বেগটি স্ববিরোধী। কারণ কয়েক মাস আগেই ট্রাম্প দাবি করেছিলেন তিনি ইরানের পারমাণবিক ক্ষমতা সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র আসলে আলোচনার মাধ্যমে কোনো সমাধানে পৌঁছাতে আগ্রহী ছিল না, বরং তেহরানের ক্ষমতা কাঠামো ভেঙে দেওয়াই ছিল তাদের আসল লক্ষ্য।

সুত্র: আল জাজিরার।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow