এক ইউনিয়নেই পাঁচ প্রকল্পে প্রায় ১৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও সংস্কারের সরকারি কর্মসূচির আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পাঁচটি প্রকল্পে কাজ না করেই প্রায় ১৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।  অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, থানাহাট ইউনিয়নে কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা), কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) এবং টেস্ট রিলিফ (টিআর) কর্মসূচির আওতায় পাঁচটি প্রকল্পে মোট ১৩ লাখ ৯৪ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট নথিতে কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে পুরো বরাদ্দ উত্তোলন করা হলেও বাস্তবে কোনো কাজ হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, বজরা তবকপুর মজাইডাঙা জামে মসজিদ সংলগ্ন কবরস্থান ভরাট ও উন্নয়নে ৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা, মাচাবান্দা জিয়ার বাড়ি থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারে ২ লাখ টাকা, কালামের চাতাল মেইন রোড থেকে ডিপঘর পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারে ২ লাখ টাকা, মজাইডাঙা সরকারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ইদ্রিস আলীর বাড়ি হয়ে মঞ্জুমিয়ার বাড়ি

এক ইউনিয়নেই পাঁচ প্রকল্পে প্রায় ১৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও সংস্কারের সরকারি কর্মসূচির আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পাঁচটি প্রকল্পে কাজ না করেই প্রায় ১৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। 

অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, থানাহাট ইউনিয়নে কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা), কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) এবং টেস্ট রিলিফ (টিআর) কর্মসূচির আওতায় পাঁচটি প্রকল্পে মোট ১৩ লাখ ৯৪ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট নথিতে কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে পুরো বরাদ্দ উত্তোলন করা হলেও বাস্তবে কোনো কাজ হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বজরা তবকপুর মজাইডাঙা জামে মসজিদ সংলগ্ন কবরস্থান ভরাট ও উন্নয়নে ৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা, মাচাবান্দা জিয়ার বাড়ি থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারে ২ লাখ টাকা, কালামের চাতাল মেইন রোড থেকে ডিপঘর পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারে ২ লাখ টাকা, মজাইডাঙা সরকারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ইদ্রিস আলীর বাড়ি হয়ে মঞ্জুমিয়ার বাড়িমুখী রাস্তা সংস্কারে ২ লাখ টাকা এবং মধ্য মাচাবান্দা মেইন রাস্তা থেকে প্রিন্সের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারে ২ লাখ ২৪ হাজার টাকা বরাদ্দ দেখানো হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই পাঁচ প্রকল্পে বরাদ্দ হয় ১৩ লাখ ৯৪ হাজার টাকা। তবে প্রকল্পের একটিতেও করা হয়নি কাজ। 

অভিযোগকারী রোকনুজ্জামান রণি বলেন, একই রাস্তায় দুটি প্রকল্প দেখিয়ে কোনো কাজ না করেই পুরো বরাদ্দ আত্মসাৎ করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মানিক মিয়া বলেন, ‘উন্নয়নের নামে বরাদ্দ হয়েছে, কিন্তু আমরা কোনো কাজ হতে দেখিনি।’

রফিকুল ইসলাম, আব্দুল হাই ও আনোয়ার হোসেনসহ একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, প্রকল্পগুলোতে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। তারা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

স্থানীয় মোমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের রাস্তায় কোনো কাজ হয়নি। পরে শুনলাম, সেই রাস্তার নামে বরাদ্দ দেখিয়ে টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে।’

অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সদস্য জসিম উদ্দিন বলেন, ‘কাজ হয়েছে। আপনি চাইলে আমার সঙ্গে গিয়ে দেখে আসতে পারেন। আর লেখার থাকলে পত্রিকায় লেখেন।’

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সোহেল রহমানের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। কয়েক দিন অফিসে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা থাকলে অবশ্যই তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অনেক সময় কিছু প্রকল্প পরিবর্তন হয়ে অন্য প্রকল্পে স্থানান্তরিত হয়। বিষয়টি যাচাই করে দেখা হবে।’
 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow