এগিয়ে চলেছে ব্রহ্মপুত্রের বুকে দেশের প্রথম স্টিল আর্চ সেতুর নির্মাণকাজ
ময়মনসিংহের ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর নির্মাণাধীন দেশের প্রথম ও সর্ববৃহৎ স্টিল আর্চ সেতু ‘কেওয়াটখালী সেতু প্রকল্প’র কাজ নতুন উদ্যমে এগিয়ে চলেছে। বর্তমানে সেতুটির কাজ ২১ শতাংশে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ঈদুল আজহার ছুটি শেষে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মস্থলে ফিরেছেন। ধীরে ধীরে কাজে যোগ দিচ্ছেন শ্রমিকরাও। অস্ট্রেলিয়ার সিডনি হারবার ব্রিজের আদলে নির্মিতব্য এই দৃষ্টিনন্দন সেতুটি ময়মনসিংহ বিভাগের যোগাযোগ, অর্থনীতি ও নগর উন্নয়নের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ৩ হাজার ২৬৩ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটির আওতায় ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর ১ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৩২০ মিটার হবে স্টিল আর্চ অংশ। সেতুর দুই প্রান্তে থাকবে পিলার, তবে নদীর মাঝখানে কোনো পিলার থাকবে না। ফলে এটি হবে দেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ স্টিল আর্চ ব্রিজ। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকার পরিবর্তনের পর প্রশাসনিক ও কারিগরি কিছু কারণে কয়েক মাস কাজের গতি শ্লথ হয়ে পড়েছিল। তবে বর্তমানে প্রকল্প এলাকায় কার্যক্রম আবারও স্বাভাব
ময়মনসিংহের ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর নির্মাণাধীন দেশের প্রথম ও সর্ববৃহৎ স্টিল আর্চ সেতু ‘কেওয়াটখালী সেতু প্রকল্প’র কাজ নতুন উদ্যমে এগিয়ে চলেছে। বর্তমানে সেতুটির কাজ ২১ শতাংশে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ঈদুল আজহার ছুটি শেষে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মস্থলে ফিরেছেন। ধীরে ধীরে কাজে যোগ দিচ্ছেন শ্রমিকরাও।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনি হারবার ব্রিজের আদলে নির্মিতব্য এই দৃষ্টিনন্দন সেতুটি ময়মনসিংহ বিভাগের যোগাযোগ, অর্থনীতি ও নগর উন্নয়নের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ৩ হাজার ২৬৩ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটির আওতায় ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর ১ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৩২০ মিটার হবে স্টিল আর্চ অংশ। সেতুর দুই প্রান্তে থাকবে পিলার, তবে নদীর মাঝখানে কোনো পিলার থাকবে না। ফলে এটি হবে দেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ স্টিল আর্চ ব্রিজ।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকার পরিবর্তনের পর প্রশাসনিক ও কারিগরি কিছু কারণে কয়েক মাস কাজের গতি শ্লথ হয়ে পড়েছিল। তবে বর্তমানে প্রকল্প এলাকায় কার্যক্রম আবারও স্বাভাবিক হয়েছে।
সওজের (কেওয়াটখালী সেতু প্রকল্প) প্রকল্প পরিচালক মো. দিদারুল আলম তরফদার জাগো নিউজকে বলেন, আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি) প্রকল্পটির অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড কঠোরভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে। এডিবি ও বিশ্বব্যাংকের মতো এআইআইবিরও শ্রমিক সুরক্ষা ও কর্মপরিবেশ নিয়ে কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। সে কারণে নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হচ্ছে না।
তিনি বলেন, প্রকল্পের অগ্রগতি বর্তমানে ২১ শতাংশ। ঈদের পর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন এবং শ্রমিকরাও কাজে ফিরতে শুরু করেছেন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দ্রুতগতিতে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নির্মাণকাজের শুরুতে ভূমি অধিগ্রহণ, ইউটিলিটি স্থানান্তর এবং বিভিন্ন অবকাঠামোগত জটিলতা নিরসনে অনেক সময় ব্যয় হয়েছে। বিশেষ করে বিদ্যুতের খুঁটি, গ্যাস লাইন ও অন্যান্য সেবা সংযোগ স্থানান্তরে সময় লেগেছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নির্ধারিত সময়ে পুরো কর্মস্থল বুঝিয়ে দিতে না পারাও কাজের গতি কিছুটা প্রভাবিত করেছে।
তবে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এরই মধ্যে ঋণচুক্তির মেয়াদ ও প্রকল্পের সমাপ্তিকাল জুন ২০২৮ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সময় বাড়ানোর ফলে প্রকল্পটি আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
সেতুটির সঙ্গে থাকবে ছয় লেনের যোগাযোগ ব্যবস্থা, ২৫০ মিটার দীর্ঘ রেলওয়ে ওভারপাস, টোল প্লাজা, বিশ্রামাগার, ওয়াচ টাওয়ার এবং দৃষ্টিনন্দন পার্ক। ভারী যানবাহনের জন্য থাকবে চারটি লেন এবং মোটরসাইকেল ও হালকা যানবাহনের জন্য থাকবে দুটি পৃথক লেন।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ময়মনসিংহ নগরীর দীর্ঘদিনের শম্ভুগঞ্জ সেতু এলাকার যানজট অনেকাংশে কমে যাবে। একই সঙ্গে নেত্রকোণা, শেরপুর, জামালপুর এবং বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের সঙ্গে রাজধানী ঢাকার সড়ক যোগাযোগ আরও সহজ হবে। বিজয়পুর, নাকুগাঁও, হালুয়াঘাট ও ধানুয়া-কামালপুর স্থলবন্দরসহ সীমান্তবর্তী এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রোকনুজ্জামান রোকন জাগো নিউজকে বলেন, কেওয়াটখালী স্টিল আর্চ সেতু চালু হলে ময়মনসিংহের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে। বিশেষ করে ব্রহ্মপুত্রের চরাঞ্চলের মানুষের যাতায়াত অনেক সহজ ও দ্রুত হবে। সেতুটিকে কেন্দ্র করে নগর সম্প্রসারণ, শিল্পায়ন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।
তিনি বলেন, এটি শুধু একটি সেতু নয়, বরং ময়মনসিংহ অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ২৪ আগস্ট একনেক সভায় কেওয়াটখালী সেতু নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন পায়। এরপর সেতু প্রকল্পের মূল ভৌত কাজ আনুষ্ঠানিক এবং পূর্ণাঙ্গভাবে শুরু হয় ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। প্রকল্পটি ২০২৬ এর ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত।
হোসাইন সুলভ/এফএ/এএসএম
What's Your Reaction?