এবার ‘ঈদ সালামির’ দামও চড়া, হাজারে ৭০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি রাখার অভিযোগ
পবিত্র ঈদুল ফিতর আসতে আরও বেশ কিছুট সময় বাকি। ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে নতুন পোশাকের পাশাপাশি নতুন টাকাও সংগ্রহ করেন অনেকে। ঈদ সালামি দেওয়া ছাড়াও নতুন নোটের মাধ্যমে জাকাত এবং ফিতরাও বিতরণ করেন অনেক ধর্মপ্রাণ মুসলমান। এর ফলে এ সময়ে চাহিদা বাড়ে নতুন টাকার। এতে নতুন টাকার দামও বেড়ে যায়। তাছাড়া এবার ঈদকে ঘিরে কবে নাগাদ ব্যাংকগুলো নতুন টাকা বাজারে ছাড়বে নাকি ছাড়বে না- তা নিয়েও সংশয় রয়েছে। কারণ বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, নোটের কাগজ ও কালি সংকটের কারণে নতুন নোট ছাপানো ও সরবরাহ সীমিত হয়ে পড়েছে। এসব কারণে এবার আগে আগেই রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠা নতুন নোট বেচাকেনার অস্থায়ী দোকানে ভিড় করছেন অনেকেই। সময় যত গড়াচ্ছে, নতুন নোটের ব্যবসা তত জমে উঠছে। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, এবার চড়া দাম রাখছেন বিক্রেতারা। যদিও বিক্রেতারা বলছেন, নতুন নোট বাজারে কম থাকায় বাড়তি দামে তাদের সংগ্রহ করতে হচ্ছে। ঈদকে সামনে রেখে প্রতিবছরই নতুন নোট বাজারে ছাড়ে বাংলাদেশ ব্যাংক। এবার এখনো নিশ্চিত নয় কবে নাগাদ বাজারে আসবে নতুন নোট। বাজারে ছেঁড়াফাটা, জোড়াতালি দেওয়া ও মলিন কাগুজে নোটের ছড়াছড়ি। বিশেষ করে ১০, ২০ ও ১০০ টাকার নোটের অবস্থা স
পবিত্র ঈদুল ফিতর আসতে আরও বেশ কিছুট সময় বাকি। ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে নতুন পোশাকের পাশাপাশি নতুন টাকাও সংগ্রহ করেন অনেকে। ঈদ সালামি দেওয়া ছাড়াও নতুন নোটের মাধ্যমে জাকাত এবং ফিতরাও বিতরণ করেন অনেক ধর্মপ্রাণ মুসলমান। এর ফলে এ সময়ে চাহিদা বাড়ে নতুন টাকার। এতে নতুন টাকার দামও বেড়ে যায়।
তাছাড়া এবার ঈদকে ঘিরে কবে নাগাদ ব্যাংকগুলো নতুন টাকা বাজারে ছাড়বে নাকি ছাড়বে না- তা নিয়েও সংশয় রয়েছে। কারণ বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, নোটের কাগজ ও কালি সংকটের কারণে নতুন নোট ছাপানো ও সরবরাহ সীমিত হয়ে পড়েছে। এসব কারণে এবার আগে আগেই রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠা নতুন নোট বেচাকেনার অস্থায়ী দোকানে ভিড় করছেন অনেকেই।
সময় যত গড়াচ্ছে, নতুন নোটের ব্যবসা তত জমে উঠছে। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, এবার চড়া দাম রাখছেন বিক্রেতারা। যদিও বিক্রেতারা বলছেন, নতুন নোট বাজারে কম থাকায় বাড়তি দামে তাদের সংগ্রহ করতে হচ্ছে।
ঈদকে সামনে রেখে প্রতিবছরই নতুন নোট বাজারে ছাড়ে বাংলাদেশ ব্যাংক। এবার এখনো নিশ্চিত নয় কবে নাগাদ বাজারে আসবে নতুন নোট। বাজারে ছেঁড়াফাটা, জোড়াতালি দেওয়া ও মলিন কাগুজে নোটের ছড়াছড়ি। বিশেষ করে ১০, ২০ ও ১০০ টাকার নোটের অবস্থা সবচেয়ে নাজুক। এসব নোট নিয়ে বিপাকে পড়ছে সাধারণ মানুষ, ছোট ব্যবসায়ী ও পরিবহনকর্মীরা। ব্যাংকে গেলেও একদিনে সব টাকা বদলানো যাচ্ছে না। এ অবস্থায় বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, নোটের কাগজ ও কালি সংকটের কারণে নতুন নোট ছাপানো ও সরবরাহ সীমিত হয়ে পড়েছে। ফলে ছেঁড়াফাটা নোটের ভোগান্তি কবে কাটবে, সে প্রশ্নই এখন সাধারণ মানুষের মুখে মুখে।
এ অবস্থায় আগে আগেই নতুন নোট সংগ্রহ করতে অস্থায়ী দোকানগুলোর ভিড় করছেন ক্রেতারা। তাদের মতে, যদি ব্যাংক নোট ইস্যু করে তাহলে নতুন নোট সংগ্রহের জন্য অনেক সময় ব্যাংকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। অনেকের পক্ষে অফিস সময়ের মধ্যে নতুন নোট সংগ্রহ করা সম্ভব হয় না। ফলে সুবিধাজনক সময়ে ঝামেলা ছাড়াই যারা নতুন নোট সংগ্রহ করতে চান তারাই এখন ভিড় করছেন।
তাদেরই একজন প্রবাস ফেরত যুবক আকিব। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, প্রতিবছর ঈদ সালামি দিতে গুলিস্তান কিংবা বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে অস্থায়ী টাকার হাট থেকে নতুন টাকা সংগ্রহ করে থাকি। প্রতিবার ঈদের আগমুহূর্তে সংগ্রহ করার ফলে দাম বেশি রাখেন বিক্রেতারা। তবে এবার রমজানের শুরু থেকেই বেশি দাম রাখছেন বিক্রেতারা।
নতুন নোটের বাড়তি দামের কথা জানান সোহেল, পেশায় উবার চালক। জাগো নিউজকে সোহেল বলেন, প্রতিবছর বাংলাদেশ ব্যাংকের কাউন্টার থেকে নতুন নোট সংগ্রহ করে থাকি, তবে এবার পাওয়া যাবে না শুনেছি। এমন হলে নতুন টাকার দাম বাড়বে বলে আগেই কিনতে এসেছি। এখন দেখছি অনেক আগে থেকেই বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে নতুন নোট।
আরও পড়ুন
ছেঁড়া-ফাটা টাকায় সয়লাব বাজার, কাগজ সংকটে নতুন নোট সরবরাহ সীমিত
নতুন টাকা ছাপাতে এবার খরচ হচ্ছে তিন গুণ
সেনা কল্যাণ ভবনের সামনে নতুন নোট বিক্রি করেন মাহমুদ। তিনি বলেন, যারা ব্যস্ততাসহ নানান কারণে ব্যাংক থেকে নোট সংগ্রহ করতে পারেন না, এ শ্রেণির গ্রাহকরাই অস্থায়ী দোকানগুলোর নতুন নোটের ক্রেতা। কিন্তু এবার নতুন টাকার সরবরাহ কম।
গুলিস্তানের নতুন টাকার হাটের বিক্রেতা সাব্বির বলেন, নতুন টাকা সংগ্রহের জন্য ব্যাংকে ঢুকতে দেওয়া হয় না। ফলে ব্যাংক থেকে সরাসরি নতুন নোট কিনতে পারছি না। বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাধ্যমে নতুন নোট সংগ্রহ করেছি, সেটাও কম। কয়েক হাত ঘুরে এ নোটগুলো আমাদের হাতে আসছে, সেটাও চড়া দামে। এ কারণে নতুন নোটের দামও এবার বাড়তি।
বাজারে দরদাম যেমন
১০ টাকার প্রতি বান্ডিলের (১০০টি নোট) মূল্যমান এক হাজার টাকা। বিপরীতে মতিঝিল সেলা কল্যাণ ভবন সংলগ্ন ও গুলিস্তানে নতুন নোটের এমন এক বান্ডিল এক হাজার ৫৫০ টাকা থেকে এক হাজার ৭০০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ প্রতি বান্ডিলে ক্রেতাদের বাড়তি ৫৫০ থেকে ৭০০ টাকা গুনতে হচ্ছে। মূলত জুলাইয়ের গ্রাফিতি আর টাকার স্বল্পতার কারণে বেশি দাম রাখা হচ্ছে। গতবার প্রতি বান্ডিলে ৩০০ টাকা বেশি রাখা হয়। এ বছর ২০ টাকার বান্ডিলের দরও বেশি। প্রতি বান্ডিলে ৫০০ টাকা বেশি রাখা হচ্ছে।
এভাবে নতুন ২ টাকার বান্ডিলে ৩০০ টাকা, ৫ টাকার বান্ডিলে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা, ৫০, ১০০ ও ৫০০ টাকার বান্ডিলে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা এবং ২০০ টাকার বান্ডিলে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা করে বাড়তি দিতে হচ্ছে ক্রেতাদের।
বিক্রেতারা জানান, চার-পাঁচ বছর আগে নতুন নোটের দাম আরও কম ছিল। তখন ২, ৫, ১০ ও ২০ টাকার নোটে ৮০-১০০ টাকা বেশি লাগতো। তাছাড়া ৫০ ও ১০০ টাকার নোটে বাড়তি লাগতো ১২০ টাকা ১৫০ টাকার মধ্যে।
যেসব নোটের চাহিদা বেশি
অস্থায়ী টাকার হাটের বিক্রেতারা জানান, একেক বছর একেক ধরনের নোটের চাহিদা বেশি থাকে। বিশেষ করে নতুন কোনো নোট ইস্যু হলে সেটির চাহিদা অনেক বেশি থাকে। এবার ঈদে ১০, ২০ ও ৫০ টাকার নতুন নোটের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। চাহিদা রয়েছে ১০০, ২০০ ও ৫০০ টাকার নতুন নোটের। তুলনামূলক ৫ টাকার নোটের চাহিদা কম এবার- এমনটাই বলছেন বিক্রেতারা।
তারা জানান, সাধারণত জাকাত-ফিতরা দেওয়ার উদ্দেশ্যে ক্রেতারা ৫০, ১০০ ও ২০০ টাকার নোট বেশি কেনেন। এছাড়া ঈদ সালামির জন্য বেশি বিক্রি হয় ২, ৫, ১০, ২০, ৫০ ও ১০০ টাকার নোট। তবে ১০ টাকার নোটে জুলাই গ্রাফিতি থাকায় চাহিদা বেশি।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, নতুন নোট সরবরাহ স্বাভাবিক হতে এখনো কিছুটা সময় লাগবে। কাগজ সরবরাহে সমস্যার কারণে নতুন নোট ছাপানোর গতি কমে গেছে। সরকারের লক্ষ্য ধীরে ধীরে ক্যাশলেস বাংলাদেশ গড়ে তোলা। তাই একদিকে যেমন ডিজিটাল লেনদেন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে প্রয়োজন অনুযায়ী সীমিত পরিমাণে নতুন নোট ছাপানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, নতুন গভর্নর দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম দিকেই বলেছেন যে ক্যাশলেস বাংলাদেশ একটি জাতীয় লক্ষ্য এবং সে লক্ষ্য বাস্তবায়নে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কাজ করে যাচ্ছে।
বাজারে যত ধরনের নোট রয়েছে
দেশে দুই ধরনের নোট রয়েছে, এর একটি ব্যাংক নোট অপরটি সরকারি নোট। ব্যাংক নোট ইস্যু করে বাংলাদেশ ব্যাংক, যেখানে গভর্নরের সই থাকে। এছাড়া সরকারি নোট ইস্যু করে অর্থ মন্ত্রণালয়, যেখানে অর্থ সচিবের সই থাকে।
স্বাধীনতার পর থেকে ৫ টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের নোট হিসেবে থাকলেও ২০১৫ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ কয়েনজ আইন সংশোধন করে ৫ টাকাকে সরকারি মুদ্রা করা হয়। আর এর মধ্য দিয়ে ১, ২ ও ৫ টাকা মূল্যমানের কাগুজে নোট ও ধাতব মুদ্রা সরকারি মুদ্রা হিসেবে গণ্য হচ্ছে। এছাড়া ১০, ২০, ৫০, ১০০, ২০০, ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট হচ্ছে ব্যাংক নোট।
কখন কোন নোট বাজারে আসে
১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর সরকার নতুন মুদ্রা প্রচলনের ঘোষণা দেয়। ১৯৭২ সালের ৪ মার্চ স্বাধীন বাংলাদেশের মুদ্রা হিসেবে প্রথমবারের মতো ১, ৫, ১০ ও ১০০ টাকার নোট বাজারে আনা হয়। বর্তমানে ১ টাকার নোটের তেমন ব্যবহার দেখা না গেলেও অন্যান্য নোট প্রচলিত রয়েছে।
১৯৭৬ সালে দুই (৫০ ও ১০০) টাকা মূল্যমানের নতুন নোট বাজারে আনা হয়। ওই বছরের ১ মার্চ ৫০ টাকার নোট এবং ১৫ ডিসেম্বর ৫০০ টাকার নোট বাজারে আনে বাংলাদেশ ব্যাংক। ১৯৭৯ সালের ২০ আগস্ট ২০ টাকার নোট বাজারে আনা হয়। খুচরা পর্যায়ে বহুল ব্যবহৃত ২ টাকার নোট বাজারে আনা হয় ১৯৮৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর।
বর্তমানে প্রচলিত সবচেয়ে বড় মানের মুদ্রা হচ্ছে ১০০০ টাকার নোট। এটি ২০০৮ সালের ২৭ অক্টোবর ইস্যু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এছাড়া ২০০ টাকা মানের নোট বাজারে আনা হয় ২০২০ সালের ১৮ মার্চ। বছরের বিভিন্ন সময়ে বিশেষ করে ঈদের সময়ে এসব নোট নতুন করে ছাপিয়ে বাজারে ছাড়া হয়।
ইএআর/কেএসআর
What's Your Reaction?