কবরস্থান থেকে রান্নাঘর সবখানেই পানি, দুর্ভোগে টুঙ্গিপাড়াবাসী

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার পাটগাতী ইউনিয়নের মধ্যেপাড়া গ্রামে সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র জলাবদ্ধতা। রাস্তা, ঘরবাড়ি, রান্নাঘর, মসজিদের সামনের পথ এমনকি কবরস্থানও পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় প্রায় ২০০ পরিবারের মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। স্থানীয় বাসিন্দা ইব্রাহিম শেখ বলেন, একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তা আর পুকুরের পার্থক্য বোঝা যায় না, পানি বালতিতে তুলে সরাতে হয়। গত বছর ড্রেন নির্মাণের আশ্বাস দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। প্রতিবছর একই ভোগান্তির শিকার হচ্ছি।  স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাটগাতী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যেপাড়া গ্রামে প্রায় ৫০০ পরিবারের বসবাস। গ্রামটিতে রয়েছে ছয়টি কবরস্থান, চারটি মসজিদ, দুটি মাদ্রাসা ও চারটি গণশিক্ষা কেন্দ্র। প্রায় এক দশক ধরে বর্ষা মৌসুমে অন্তত ২০০ পরিবারের বসতঘর ও রান্নাঘরসহ কবরস্থানগুলো পানিতে তলিয়ে যায়। স্থানীয়রা বারবার জনপ্রতিনিধিদের জানালেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন। গ্রামের বাসিন্দা মুক্তার আলী বলেন, বৃষ্টি হলে কবরস্থানে পানি জমে যায়। সম্প্রতি এক ব্যক্তিক

কবরস্থান থেকে রান্নাঘর সবখানেই পানি, দুর্ভোগে টুঙ্গিপাড়াবাসী

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার পাটগাতী ইউনিয়নের মধ্যেপাড়া গ্রামে সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র জলাবদ্ধতা। রাস্তা, ঘরবাড়ি, রান্নাঘর, মসজিদের সামনের পথ এমনকি কবরস্থানও পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় প্রায় ২০০ পরিবারের মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় বাসিন্দা ইব্রাহিম শেখ বলেন, একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তা আর পুকুরের পার্থক্য বোঝা যায় না, পানি বালতিতে তুলে সরাতে হয়। গত বছর ড্রেন নির্মাণের আশ্বাস দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। প্রতিবছর একই ভোগান্তির শিকার হচ্ছি। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাটগাতী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যেপাড়া গ্রামে প্রায় ৫০০ পরিবারের বসবাস। গ্রামটিতে রয়েছে ছয়টি কবরস্থান, চারটি মসজিদ, দুটি মাদ্রাসা ও চারটি গণশিক্ষা কেন্দ্র। প্রায় এক দশক ধরে বর্ষা মৌসুমে অন্তত ২০০ পরিবারের বসতঘর ও রান্নাঘরসহ কবরস্থানগুলো পানিতে তলিয়ে যায়। স্থানীয়রা বারবার জনপ্রতিনিধিদের জানালেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন।

গ্রামের বাসিন্দা মুক্তার আলী বলেন, বৃষ্টি হলে কবরস্থানে পানি জমে যায়। সম্প্রতি এক ব্যক্তিকে দাফন করতেও অনেক কষ্ট হয়েছে। এমনকি কবরেও এখনো পানি জমে আছে।

স্থানীয় মসজিদের ইমাম আব্দুর রহমান শেখ বলেন, বৃষ্টির সময় মসজিদের সামনের রাস্তা পানিতে ডুবে যাওয়ায় মুসল্লিদের চলাচল ব্যাহত হয়। নোংরা পানির কারণে অনেকেই নামাজে আসতে পারেন না।

স্থানীয় বাসিন্দা সিরাজুল ফকির, নাসির শিকদার, সৈয়দ আতিয়ার রহমান ও মজিবুর শেখ জানান, অধিকাংশ পরিবার এখনো চুলায় রান্না করেন। রান্নাঘরে পানি ঢুকে যাওয়ায় অনেক পরিবার ঠিকমতো রান্না করতে পারছে না। কেউ একবেলা খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন, আবার কেউ বাধ্য হয়ে হোটেলে খাবার খাচ্ছেন।

এ বিষয়ে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জহিরুল আলম বলেন, টুঙ্গিপাড়া নিচু এলাকা হওয়ায় বর্ষাকালে বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। বিষয়টি জানার পর প্যানেল চেয়ারম্যানকে জরুরি ভিত্তিতে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

তিনি বলেন, জনদুর্ভোগ কমাতে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে এবং দ্রুত সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow