কোথা থেকে এলো ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে’ গানটি? 

বাংলার আকাশে রোজার ঈদের চাঁদ দেখা দিলেই প্রতিটি ঘরে, অলিতে-গলিতে আজও প্রতিধ্বনিত হয় সেই অমর সুর  ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এল খুশির ঈদ’। কিন্তু এই গানের সৃষ্টির পেছনে লুকিয়ে আছে ছয় মাসের এক দীর্ঘ লড়াই, উপেক্ষা আর অদম্য বিশ্বাসের নাটকীয় মহাকাব্য। গল্পটি শুরু হয়েছিল শিল্পী আব্বাসউদ্দীনের একটি ‘পাগলাটে’ আবদার দিয়ে। যখন চারদিকে কেবল শ্যামাসংগীতের জয়জয়কার, তখন তিনি কাজী নজরুল ইসলামকে অনুরোধ করেন বাংলা ইসলামি গান রচনার জন্য। কবি রাজি হলেও বাদ সাধে গ্রামোফোন কোম্পানি। ‘ব্যবসায় লালবাতি জ্বলবে’—এই ভয়ে দীর্ঘ ছয় মাস আব্বাসউদ্দীনকে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন রিহার্সেল-ইন-চার্জ ভগবতী বাবু। অবশেষে একদিন ভগবতী বাবুর মন গলে। সুযোগ আসতেই এক ঠোঙা পান আর চা নিয়ে নজরুলের ঘরে হাজির আব্বাসউদ্দীন। রুদ্ধদ্বার ঘরে মাত্র ৩০ মিনিটের সাধনায় কবি লিখে ফেললেন ইতিহাসের সেই অমোঘ পংক্তিমালা। দুই মাস পর রোজার ঈদ। গান লেখার চার দিনের মধ্যে রেকর্ডিং হয়ে গেল। আব্বাসউদ্দীন এবারই প্রথম ইসলামি গান রেকর্ড করলেন। গানটি তখনো তাঁর মুখস্থ হয়নি। গানটি চলবে কি না, এই নিয়ে গ্রামোফোন কোম্পানিও ছিল শঙ্কায়। তবে কাজী নজরুল ইসলাম বেশ রোমাঞ্চিত।

কোথা থেকে এলো ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে’ গানটি? 
বাংলার আকাশে রোজার ঈদের চাঁদ দেখা দিলেই প্রতিটি ঘরে, অলিতে-গলিতে আজও প্রতিধ্বনিত হয় সেই অমর সুর  ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এল খুশির ঈদ’। কিন্তু এই গানের সৃষ্টির পেছনে লুকিয়ে আছে ছয় মাসের এক দীর্ঘ লড়াই, উপেক্ষা আর অদম্য বিশ্বাসের নাটকীয় মহাকাব্য। গল্পটি শুরু হয়েছিল শিল্পী আব্বাসউদ্দীনের একটি ‘পাগলাটে’ আবদার দিয়ে। যখন চারদিকে কেবল শ্যামাসংগীতের জয়জয়কার, তখন তিনি কাজী নজরুল ইসলামকে অনুরোধ করেন বাংলা ইসলামি গান রচনার জন্য। কবি রাজি হলেও বাদ সাধে গ্রামোফোন কোম্পানি। ‘ব্যবসায় লালবাতি জ্বলবে’—এই ভয়ে দীর্ঘ ছয় মাস আব্বাসউদ্দীনকে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন রিহার্সেল-ইন-চার্জ ভগবতী বাবু। অবশেষে একদিন ভগবতী বাবুর মন গলে। সুযোগ আসতেই এক ঠোঙা পান আর চা নিয়ে নজরুলের ঘরে হাজির আব্বাসউদ্দীন। রুদ্ধদ্বার ঘরে মাত্র ৩০ মিনিটের সাধনায় কবি লিখে ফেললেন ইতিহাসের সেই অমোঘ পংক্তিমালা। দুই মাস পর রোজার ঈদ। গান লেখার চার দিনের মধ্যে রেকর্ডিং হয়ে গেল। আব্বাসউদ্দীন এবারই প্রথম ইসলামি গান রেকর্ড করলেন। গানটি তখনো তাঁর মুখস্থ হয়নি। গানটি চলবে কি না, এই নিয়ে গ্রামোফোন কোম্পানিও ছিল শঙ্কায়। তবে কাজী নজরুল ইসলাম বেশ রোমাঞ্চিত। কীভাবে গাইতে হবে, তিনি সেটা আব্বাসউদ্দীনকে দেখিয়ে দেন। হারমোনিয়ামের ওপর আব্বাসউদ্দীনের চোখ বরাবর কাগজটি ধরে রাখলেন কাজী নজরুল ইসলাম নিজেই। আব্বাসউদ্দীন গানটি গাইলেন। ঈদের সময় এ গানসহ অ্যালবামটি বাজারে এল। তারপর হয়ে গেল ঈদের ছুটি। আব্বাসউদ্দীন বাড়িতে ঈদ কাটাতে গেলেন। বাকিটা এক অলৌকিক ইতিহাস। ঈদের ছুটিতে বাড়ি থেকে ফিরে আব্বাসউদ্দীন অবাক হয়ে দেখলেন, ট্রামের অপরিচিত যুবক থেকে গড়ের মাঠের কিশোর, সবার কণ্ঠে সেই গান! নজরুলের দাবা খেলার আড্ডায় যখন খবর পৌঁছালো গানটি ‘হিট’, তখন কবির আনন্দ ছিল বাঁধভাঙ্গা। আজ বহু বছর পরেও, নজরুলের কলম আর আব্বাসউদ্দীনের এই গান ছাড়া বাঙালির ঈদ যেন অপূর্ণই থেকে যায়।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow