খাল থাকলেও জলাবদ্ধতার কবলে হাজার বিঘা ফসলি জমি
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়নের ঝুরঝুরি খালটি নামেই টিকে আছে। দীর্ঘদিনের অবহেলা ও অব্যবস্থাপনায় হারিয়েছে পানি নিষ্কাশনের কার্যকারিতা। খালের মুখ অবরুদ্ধ থাকা ও প্রভাবশালী চক্রের জবরদখলের কারণে প্রতি বর্ষা মৌসুমে সৃষ্টি হচ্ছে স্থায়ী জলাবদ্ধতা। ফলে ভেটখালী, তারানীপুর ও মানিকখালী বিলের প্রায় হাজার বিঘা ধানের জমি ও সবজি ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। এতে আবাদের চরম অনিশ্চয়তায় পড়ে নিঃস্ব হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছেন স্থানীয় শত শত কৃষক পরিবার। সরেজমিনে অনুসন্ধান চালিয়ে দেখা গেছে, ভেটখালী বাজার, ভেটখালী গ্রাম, তারানীপুর ও মানিকখালী বিলের বৃষ্টি ও উপচে পড়া পানি গড়িয়ে জমা হয় ঝুরঝুরি খালে। তবে খালের শেষ সীমানায় পটুয়াখালী-ভেটখালী প্রধান সড়ক এবং অজিত বাছার ও সরজিৎ বাছারের বসতভিটা থাকায় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। পানি নিষ্কাশনের কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা না থাকায় বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ, পুকুর, বসতভিটা ও কাঁচা রাস্তাঘাট মাসের পর মাস পানির নিচে তলিয়ে থাকছে। অন্যদিকে স্থায়ী এই সংকটকে কাজে লাগিয়ে খালের এক বড় অংশ জবরদখল করে মৎস্য ঘের পরিচালনা করছে একটি প্রভাবশালী চক্র। স্থানীয়দের অভিযো
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়নের ঝুরঝুরি খালটি নামেই টিকে আছে। দীর্ঘদিনের অবহেলা ও অব্যবস্থাপনায় হারিয়েছে পানি নিষ্কাশনের কার্যকারিতা। খালের মুখ অবরুদ্ধ থাকা ও প্রভাবশালী চক্রের জবরদখলের কারণে প্রতি বর্ষা মৌসুমে সৃষ্টি হচ্ছে স্থায়ী জলাবদ্ধতা। ফলে ভেটখালী, তারানীপুর ও মানিকখালী বিলের প্রায় হাজার বিঘা ধানের জমি ও সবজি ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। এতে আবাদের চরম অনিশ্চয়তায় পড়ে নিঃস্ব হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছেন স্থানীয় শত শত কৃষক পরিবার।
সরেজমিনে অনুসন্ধান চালিয়ে দেখা গেছে, ভেটখালী বাজার, ভেটখালী গ্রাম, তারানীপুর ও মানিকখালী বিলের বৃষ্টি ও উপচে পড়া পানি গড়িয়ে জমা হয় ঝুরঝুরি খালে। তবে খালের শেষ সীমানায় পটুয়াখালী-ভেটখালী প্রধান সড়ক এবং অজিত বাছার ও সরজিৎ বাছারের বসতভিটা থাকায় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। পানি নিষ্কাশনের কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা না থাকায় বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ, পুকুর, বসতভিটা ও কাঁচা রাস্তাঘাট মাসের পর মাস পানির নিচে তলিয়ে থাকছে।
অন্যদিকে স্থায়ী এই সংকটকে কাজে লাগিয়ে খালের এক বড় অংশ জবরদখল করে মৎস্য ঘের পরিচালনা করছে একটি প্রভাবশালী চক্র।
স্থানীয়দের অভিযোগ, তারানীপুর গ্রামের আবুল কাসেমের ছেলে মো. সমসের, মৃত অমেদ আলী শেখের ছেলে মো. মজিদ কারিগর ও সোরা গ্রামের আলহাজ এশার আলী মোল্যার ছেলে মো. আশরাফ আলী মোল্যাসহ বেশ কয়েকজন ব্যক্তি খালের সরকারি জমি দখল করে ঘেরে বেড়িবাঁধ দিয়ে রেখেছেন। খালের পাশেই বসবাস করে প্রান্তিক মুণ্ডা সম্প্রদায়। জলাবদ্ধতার কারণে এই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পরিবারগুলোর জীবনযাত্রা এখন চরম দুর্দশাগ্রস্ত।
ভোগান্তির কথা জানিয়ে তারানীপুর গ্রামের বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঝুরঝুরি খাল দখল ও পানি প্রবাহ বন্ধ থাকায় আমরা প্রতি বছরই বর্ষায় নিঃস্ব হচ্ছি। এ বছর পানির জন্য ধানের বীজতলা পর্যন্ত তৈরি করতে পারছি না। বসতভিটার চারপাশ পানিতে থৈ থৈ করছে। এভাবে চলতে থাকলে এই অঞ্চলের কৃষকদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে যাবে এবং এলাকার দারিদ্র্য চরম রূপ নেবে।
আরেক কৃষক মো. আবু সাঈদ বলেন, ঝুরঝুরি খালটি কিছুদিন আগে কেবল আংশিক খনন করা হয়েছিল। এরপর আবার ভেটখালী-তারানীপুর পাঞ্জেগানা মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় একটি অপরিকল্পিত কালভার্ট নির্মাণ করায় পানি অপসারণের পথ আরও সংকুচিত হয়ে জলাবদ্ধতা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। আমরা দ্রুত জবরদখল মুক্ত করে খালের শেষ সীমানা পর্যন্ত মুখ উন্মুক্ত করার জোর দাবি জানাচ্ছি।
প্রান্তিক জনগোষ্ঠী মুণ্ডা সম্প্রদায়ের প্রিয়তোষ মুণ্ডা নিজের দুশ্চিন্তার কথা তুলে ধরে জানান, বর্ষা এলেই আমাদের দুর্ভোগের শেষ থাকে না। ধান ও সবজি সব নষ্ট হয়ে যায়, কাঁচা ঘরবাড়ি ধসে পড়ার উপক্রম হয়। শুধু তাই নয়, ঘরের চারপাশে থৈ থৈ পানির কারণে ছোট ছোট শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে আমাদের সারাক্ষণ আতঙ্কে দিন কাটাতে হয়।
এদিকে খাল দখলের বিষয়ে অভিযুক্ত মো. সমসের অবশ্য নিজের সাফাই গেয়ে দাবি করেন, সরকার যদি খাল পুনঃখনন করে পানি সরানোর ব্যবস্থা করে, তাহলে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। আমরাও চাই খালের পানি নিষ্কাশন স্বাভাবিক হোক।
বিষয়টি স্বীকার করে রমজাননগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ আল মামুন স্পষ্ট করে জানান, ইতোপূর্বে ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে ঝুরঝুরি খালের আংশিক খনন করা হয়েছিল। তবে খালের সীমানার ওপর চলাচলের প্রধান সড়ক ও কিছু ব্যক্তিগত বসতভিটা থাকায় খালটিকে মানিকখালী খালের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত করা সম্ভব হয়নি।
কৃষক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর এই ভোগান্তি নিয়ে শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামসুজ্জাহান কনক আশ্বাস দিয়ে বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সরেজমিনে খালের বিষয়টি তদন্ত করা হবে এবং পানি নিষ্কাশন সুগম করতে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এফএ/এএসএম
What's Your Reaction?