গাছে গাছে আমের মুকুল, মনোহরগঞ্জে বইছে সুখের ঘ্রাণ
কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে এখন বসন্তের ছোঁয়ায় গাছে গাছে ফুটেছে আমের মুকুল। চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে মুকুলের পাগল করা ঘ্রাণ। প্রকৃতি যেন নিজেকে নতুন রূপে সাজিয়েছে। বাতাসে ভেসে বেড়ানো মুকুলের মৌ মৌ গন্ধ মানুষকে বিমোহিত করছে। পল্লিকবি জসিম উদ্দিন-এর কবিতার সেই চিরচেনা পঙ্ক্তি “আয় ছেলেরা আয় মেয়েরা মামার বাড়ি যাই” যেন বাস্তব রূপ নিতে চলেছে। আর মাত্র কয়েক মাস পরেই পাকা আমে ভরে উঠবে গাছ, বইবে সুখের ঘ্রাণ।
উপজেলার মৈশাতুয়া ইউনিয়নের খানাতুয়া গ্রামের আমচাষী ও বাগান মালিক মো. আনোয়ার হোসেন জানান, তিনি ও তাঁর ছোট ভাই মাসুদ মিয়া মিলে তিন বিঘা জমিতে প্রায় ১০০টি উন্নত জাতের আমগাছ রোপণ করেছেন। এতে তাদের প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। গাছ বড় হতে সময় লাগায় গত বছরগুলোতে তেমন লাভ হয়নি, তবে খরচের বড় একটি অংশ উঠে এসেছে।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘এ বছর গাছে প্রচুর মুকুল এসেছে। সঠিক পরিচর্যা করছি। ঝড়-বৃষ্টি না হলে বাম্পার ফলনের আশা করছি।’
মনোহরগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ মো. আব্দুল মতিন বলেন, ‘প্রতিটি গাছে মুকুল দেখে মন ভরে যায়। তবে এখন দরকার সঠিক পরিচর্যা। কৃষি কর্মক
কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে এখন বসন্তের ছোঁয়ায় গাছে গাছে ফুটেছে আমের মুকুল। চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে মুকুলের পাগল করা ঘ্রাণ। প্রকৃতি যেন নিজেকে নতুন রূপে সাজিয়েছে। বাতাসে ভেসে বেড়ানো মুকুলের মৌ মৌ গন্ধ মানুষকে বিমোহিত করছে। পল্লিকবি জসিম উদ্দিন-এর কবিতার সেই চিরচেনা পঙ্ক্তি “আয় ছেলেরা আয় মেয়েরা মামার বাড়ি যাই” যেন বাস্তব রূপ নিতে চলেছে। আর মাত্র কয়েক মাস পরেই পাকা আমে ভরে উঠবে গাছ, বইবে সুখের ঘ্রাণ।
উপজেলার মৈশাতুয়া ইউনিয়নের খানাতুয়া গ্রামের আমচাষী ও বাগান মালিক মো. আনোয়ার হোসেন জানান, তিনি ও তাঁর ছোট ভাই মাসুদ মিয়া মিলে তিন বিঘা জমিতে প্রায় ১০০টি উন্নত জাতের আমগাছ রোপণ করেছেন। এতে তাদের প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। গাছ বড় হতে সময় লাগায় গত বছরগুলোতে তেমন লাভ হয়নি, তবে খরচের বড় একটি অংশ উঠে এসেছে।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘এ বছর গাছে প্রচুর মুকুল এসেছে। সঠিক পরিচর্যা করছি। ঝড়-বৃষ্টি না হলে বাম্পার ফলনের আশা করছি।’
মনোহরগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ মো. আব্দুল মতিন বলেন, ‘প্রতিটি গাছে মুকুল দেখে মন ভরে যায়। তবে এখন দরকার সঠিক পরিচর্যা। কৃষি কর্মকর্তারা যদি নিয়মিত পরামর্শ দেন এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হয়, তাহলে এ বছর চাহিদা অনুযায়ী আম পাওয়া যাবে।’
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ৪ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়ে থাকে, যেখানে উৎপাদন প্রায় ৯৫ মেট্রিক টন। চলতি বছর ৬ হেক্টর জমিতে আম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার সম্ভাব্য উৎপাদন ধরা হয়েছে ১৪৫ মেট্রিক টন।
উপজেলা কৃষি অফিসার গোলাম সরোয়ার তুষার জানান, ভালো ফলনের জন্য ফুল আসার আগে এবং মটর দানার মতো গুটি অবস্থায় কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করতে হবে। ফল ঝরে পড়া রোধে প্রতি লিটার পানিতে ২০ গ্রাম বোরন সার বা বোরিক অ্যাসিড মিশিয়ে স্প্রে করার পরামর্শ দেন তিনি। এতে ফলন ভালো হবে এবং পোকামাকড়ের আক্রমণ কমবে।
সব মিলিয়ে মনোহরগঞ্জে এখন আমের মুকুলে মুকুলে স্বপ্নের সুবাস। কৃষকের মুখে হাসি ফুটবে- এমন প্রত্যাশায় দিন গুনছেন কৃষকরা।