গুদামে নেওয়া হয় না, কর্মকর্তার নির্দেশে কৃষকের ধান যায় মিলে
কুড়িগ্রামের রাজারহাটে সরকারি খাদ্যগুদামে বোরো ধান সংগ্রহে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। গুদামে বস্তা সংকটের কথা বলে কৃষকদের ধান না নিয়ে একটি অটো রাইস মিলে ধান সরবরাহের জন্য টোকেন দেওয়ার অভিযোগ করেছেন দুই কৃষক। তাদের দাবি, রাইস মিলে ধান দেওয়ার সময় কোনো সরকারি কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন না। এছাড়া এক কৃষকের কাছ থেকে তিন বস্তা ধান কর্তনের (দাম না দেওয়া) অভিযোগও উঠেছে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাজারহাট উপজেলা খাদ্যগুদাম কর্মকর্তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন কৃষক শাহ আলম মিয়া ও চন্দন কুমার রায়। আরও পড়ুন সার সিন্ডিকেটের পকেটবন্দি প্রশাসন? অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বোরো মৌসুমে সরকারি নিয়মে কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহের কথা থাকলেও গুদামে ধান দিতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়েন কৃষকরা। গত ১৯ জুন গুদামে বস্তা সংকটের কথা উল্লেখ করে নোটিশ দেওয়া হয়। এরপর কয়েক দফা ধান নিয়ে গুদামে গেলেও বস্তা সংকট দেখিয়ে ধান নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন শাহ আলম মিয়া। পরে তিনি জানতে পারেন, গুদামের পরিবর্তে উমরমজিদ ইউনিয়নের ফরকেরহাটের একটি অটো রাইস মিলে ধান সরবরাহের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। গুদাম কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে একটি
কুড়িগ্রামের রাজারহাটে সরকারি খাদ্যগুদামে বোরো ধান সংগ্রহে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। গুদামে বস্তা সংকটের কথা বলে কৃষকদের ধান না নিয়ে একটি অটো রাইস মিলে ধান সরবরাহের জন্য টোকেন দেওয়ার অভিযোগ করেছেন দুই কৃষক।
তাদের দাবি, রাইস মিলে ধান দেওয়ার সময় কোনো সরকারি কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন না। এছাড়া এক কৃষকের কাছ থেকে তিন বস্তা ধান কর্তনের (দাম না দেওয়া) অভিযোগও উঠেছে।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাজারহাট উপজেলা খাদ্যগুদাম কর্মকর্তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন কৃষক শাহ আলম মিয়া ও চন্দন কুমার রায়।

সার সিন্ডিকেটের পকেটবন্দি প্রশাসন?
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বোরো মৌসুমে সরকারি নিয়মে কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহের কথা থাকলেও গুদামে ধান দিতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়েন কৃষকরা। গত ১৯ জুন গুদামে বস্তা সংকটের কথা উল্লেখ করে নোটিশ দেওয়া হয়। এরপর কয়েক দফা ধান নিয়ে গুদামে গেলেও বস্তা সংকট দেখিয়ে ধান নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন শাহ আলম মিয়া।
পরে তিনি জানতে পারেন, গুদামের পরিবর্তে উমরমজিদ ইউনিয়নের ফরকেরহাটের একটি অটো রাইস মিলে ধান সরবরাহের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। গুদাম কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে একটি টোকেন দিয়ে ওই মিলে ধান দিতে বলা হয়।
শাহ আলম মিয়ার অভিযোগ, টোকেন অনুযায়ী তিনি মিলে ধান দেন। সেখানে কোনো সরকারি কর্মকর্তা না থাকলেও ধানের আর্দ্রতা মেপে ধান গ্রহণ করা হয়। পরে গুদামে টোকেন জমা দেওয়ার পর তার বিল পাস হয়। তবে ধান দেওয়ার সময় তার কাছ থেকে তিন বস্তা ধান কর্তন করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
কৃষক শাহ আলম বলেন, ‘সরকারি গুদামে ধান দিতে গিয়ে কয়েকবার ঘুরেছি। পরে কর্মকর্তার দেওয়া টোকেন নিয়ে রাইস মিলে ধান দিয়েছি।’
অভিযোগকারী অপর কৃষক চন্দন কুমার রায় বলেন, তিনিও গুদামের পরিবর্তে ফরকেরহাটের অটো রাইস মিলে ধান দেওয়ার টোকেন পেয়েছেন। তার দাবি, এ প্রক্রিয়ায় আরও অনেক কৃষক ভোগান্তির শিকার হয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে রাজারহাট উপজেলা খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) হুমায়ুন কবীর কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
কুড়িগ্রাম জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ কাজী হামিদুল হক বলেন, ‘আমি বাইরে প্রশিক্ষণে আছি। তবে এ ঘটনায় উপজেলা থেকে একটি তদন্ত কমিটি করার কথা জেনেছি। বিস্তারিত জেনে পরে জানাবো।’
রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং ধান-চাল সংগ্রহ কমিটির সভাপতি তানজিলা তাসনিম অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্মকর্তাকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রোকনুজ্জামান মানু/এসআর/জেআইএম
What's Your Reaction?

