গোপনে ভিডিও ধারণ, ভুয়া ডিজিএফআই কর্মকর্তা গ্রেপ্তার
নিজেকে কখনো গোয়েন্দা সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, কখনো রাষ্ট্রীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিতেন। কথাবার্তায় ছিল আত্মবিশ্বাস, হাতে ছিল পরিচয়পত্রও। সেই পরিচয়ের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছিলেন শাহিনুর ইসলাম (৩০)। শেষ পর্যন্ত তার সেই ছদ্মবেশ ফাঁস হলো পুলিশের হাতে। সোমবার (০৬ এপ্রিল) রাত ৮টায় রাজশাহী নগরের লক্ষ্মীপুর বক্ষব্যাধি হাসপাতাল এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে রাজশাহী মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ও গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) যৌথ দল। মঙ্গলবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন আরএমপির মুখপাত্র অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান জানান, শাহিনুর ইসলাম নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার ভরট্ট শিবনগর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে ডিজিএফআইয়ের (ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স) অ্যাসিস্ট্যান্ট ডাইরেক্টর (এডি) পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন স্থানে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছিলেন। এমনকি সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণ করতেন বলেও অভিযোগ পাওয়া যায়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ ক
নিজেকে কখনো গোয়েন্দা সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, কখনো রাষ্ট্রীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিতেন। কথাবার্তায় ছিল আত্মবিশ্বাস, হাতে ছিল পরিচয়পত্রও। সেই পরিচয়ের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছিলেন শাহিনুর ইসলাম (৩০)। শেষ পর্যন্ত তার সেই ছদ্মবেশ ফাঁস হলো পুলিশের হাতে।
সোমবার (০৬ এপ্রিল) রাত ৮টায় রাজশাহী নগরের লক্ষ্মীপুর বক্ষব্যাধি হাসপাতাল এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে রাজশাহী মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ও গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) যৌথ দল।
মঙ্গলবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন আরএমপির মুখপাত্র অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান জানান, শাহিনুর ইসলাম নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার ভরট্ট শিবনগর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে ডিজিএফআইয়ের (ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স) অ্যাসিস্ট্যান্ট ডাইরেক্টর (এডি) পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন স্থানে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছিলেন। এমনকি সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণ করতেন বলেও অভিযোগ পাওয়া যায়।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এ সময় তিনি নিজের পরিচয় প্রমাণে একটি আইডি কার্ড দেখান। তবে তার কথাবার্তায় অসংগতি ধরা পড়লে সন্দেহ ঘনীভূত হয়। একপর্যায়ে তিনি স্বীকার করেন, পরিচয়পত্রগুলো ভুয়া এবং তিনি প্রতারণার উদ্দেশ্যে এসব ব্যবহার করছিলেন।
গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে দুটি ভুয়া পরিচয়পত্র উদ্ধার করা হয়। একটিতে ‘অ্যাসিস্ট্যান্ট ডাইরেক্টর, ডিজিএফআই’ এবং অন্যটিতে ‘অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোগ্রামার, ডিজিএফআই’ লেখা ছিল। এছাড়া দুটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে।
তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে, শাহিনুর ইসলাম ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন নারীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতেন। পরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করতেন এবং গোপনে সেই দৃশ্য ভিডিও ধারণ করতেন। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিক নারীর আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও পাওয়া গেছে।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি এসব অপকর্মের কথা স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে। দীর্ঘদিন ধরে একই কৌশলে তিনি প্রতারণা চালিয়ে আসছিলেন।
এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে রাজপাড়া থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ ধরনের প্রতারণা রোধে তাদের নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে তারা সাধারণ মানুষকে এ ধরনের ভুয়া পরিচয়ধারীদের ব্যাপারে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
What's Your Reaction?