গোলের আনন্দ থেকে সবুজের বার্তা: বিশ্বকাপ ঘিরে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনাকে কেবল মাঠের খেলা বা আনন্দ ও উল্লাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তা প্রকৃতির কল্যাণে নিয়োজিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ফুটবলপ্রেমীরা। ‘আর্জেন্টিনা ফ্যানস ফর নেচার’ নামক সংগঠনের উদ্যোগে আজ শনিবার (২০ জুন) সুবর্ণচরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও চারা বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার জন্য শুভকামনা জানিয়ে চার হাজার গাছের চারা রোপণের কর্মসূচি নিয়ে দেশব্যাপী এই আয়োজনের শুরু। কর্মসূচির অংশ হিসেবে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন জেলায় ২৬০০ গাছের চারা রোপণ ও বিতরণ করা হয়েছে। এ উপলক্ষে এদিন বিকেলে সুবর্ণচর উপজেলার গ্রিন ফিউচার স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রাঙ্গণে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন চন্দ্রকলি ফাউন্ডেশনের সভাপতি শাখাওয়াত উল্লাহ। আলোচনায় অংশ নেন- গ্রিন ফিউচার স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাডেমিক ডিরেক্টর মো. নুর নবী, সুবর্ণচর প্রেসক্লাবের সভাপতি কামাল উদ্দিন।  অনুষ্ঠানে আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের দুই শতাধিক সমর্থকের মধ্যে সর্বোচ্চ ১০টি করে ফলদ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়। সংগঠকরা জানান, বিশ্বকাপ উন্মাদনার ইতিবাচক জোয়

গোলের আনন্দ থেকে সবুজের বার্তা: বিশ্বকাপ ঘিরে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনাকে কেবল মাঠের খেলা বা আনন্দ ও উল্লাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তা প্রকৃতির কল্যাণে নিয়োজিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ফুটবলপ্রেমীরা।

‘আর্জেন্টিনা ফ্যানস ফর নেচার’ নামক সংগঠনের উদ্যোগে আজ শনিবার (২০ জুন) সুবর্ণচরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও চারা বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার জন্য শুভকামনা জানিয়ে চার হাজার গাছের চারা রোপণের কর্মসূচি নিয়ে দেশব্যাপী এই আয়োজনের শুরু। কর্মসূচির অংশ হিসেবে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন জেলায় ২৬০০ গাছের চারা রোপণ ও বিতরণ করা হয়েছে।

এ উপলক্ষে এদিন বিকেলে সুবর্ণচর উপজেলার গ্রিন ফিউচার স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রাঙ্গণে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন চন্দ্রকলি ফাউন্ডেশনের সভাপতি শাখাওয়াত উল্লাহ।

আলোচনায় অংশ নেন- গ্রিন ফিউচার স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাডেমিক ডিরেক্টর মো. নুর নবী, সুবর্ণচর প্রেসক্লাবের সভাপতি কামাল উদ্দিন। 

অনুষ্ঠানে আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের দুই শতাধিক সমর্থকের মধ্যে সর্বোচ্চ ১০টি করে ফলদ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

সংগঠকরা জানান, বিশ্বকাপ উন্মাদনার ইতিবাচক জোয়ারকে কাজে লাগিয়ে তারা তরুণ প্রজন্মকে পরিবেশ সচেতন করে তুলতে চান। প্রকৃতি ও গাছের সঙ্গে মিশে থেকে মানুষের মনোবল বৃদ্ধি ও পরিবেশকে আরও মনোরম করে তোলাই এই কর্মসূচির লক্ষ্য। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশকে সবুজে সাজিয়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন সমর্থকেরা।

কর্মসূচিতে ৫০টি ভিন্ন প্রজাতির এক হাজার গাছের চারা বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে আম, জাম, কাঁঠাল, নারকেল, ডেউয়া, গোলাপজাম, কাঠ বাদাম, বক্স বাদাম, চাপালিশ, মহুয়া, শজনে, জারুল, কৃষ্ণচূড়া, সোনালু, বহেরা, অর্জুন, আমলকী, ডালিম, বেল ও ঔষধি গুণের নিমগাছ। সংগঠনের নিয়ম অনুযায়ী, প্রত্যেকে সর্বোচ্চ ১০টি করে চারা সংগ্রহ করতে পারছেন। কমপক্ষে ২০০ সমর্থকের মধ্যে এই চারা বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন চন্দ্রকলির পক্ষ থেকে জানানো হয়, কেবল বিশ্বকাপ নয়, তারা যে কোনো সামাজিক ও পারিবারিক অনুষ্ঠানেও গাছ লাগাতে উদ্বুদ্ধ করে, যেমন বিয়ে, জন্মদিন কিংবা কারও মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মারক বৃক্ষরোপণ। এমনকি মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জন্ম নেওয়া শিশুদের পরিবারকে গত পাঁচ বছরে তারা প্রায় দুই হাজার চারা উপহার দিয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে তারা তালিকা তৈরি করে রাখে এবং বর্ষা আসা মাত্রই সেসব চারা বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে চন্দ্রকলির সভাপতি শাখাওয়াত উল্লাহ ঘোষণা দেন, আর্জেন্টিনা যদি এবারের বিশ্বকাপ জেতে, তবে দেশজুড়ে তার সংগঠনের উদ্যোগে আরও ৪০ হাজার গাছের চারা রোপণ করা হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow