গৌরনদী ইউএনওর বিরুদ্ধে ১৫ লাখ টাকার লিগ্যাল নোটিশ
লিখিত অনুমোদন নিয়ে কাজের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করার পরও শেষ মুহূর্তে কাজ অন্য প্রতিষ্ঠানকে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বরিশালের গৌরনদী পৌরসভার বিরুদ্ধে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসকের কাছে ১৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছে একটি বেসরকারি সংস্থা। জানা গেছে, টার্গেট পিপল ফর ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (টিপিডিও) নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আলীর পক্ষে বরিশাল জজকোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন মিজান গত মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) এ নোটিশ পাঠান। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের ১২ মার্চ গৌরনদী পৌরসভার হোল্ডিং নম্বর প্লেট স্থাপনের কাজের জন্য টিপিডিও আবেদন করে। আবেদনটি গ্রহণ করে পৌর প্রশাসন তাদের লিখিতভাবে কাজের অনুমোদন দেয়, যা পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা (PNO)মারফত প্রদান করা হয়। তবে একই সময়ে পৌরসভার অ্যাসেসমেন্ট কার্যক্রম শুরু হওয়ায় কাজটি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ১২ মার্চ পুনরায় কাজ শুরুর আবেদন করলে ১৫ মার্চ টিপিডিওকে আবারও কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। এই অনুমতির ভিত্তিতে সংস্থাটি কাজ বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নেয়। তারা প্রতি
লিখিত অনুমোদন নিয়ে কাজের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করার পরও শেষ মুহূর্তে কাজ অন্য প্রতিষ্ঠানকে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বরিশালের গৌরনদী পৌরসভার বিরুদ্ধে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসকের কাছে ১৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছে একটি বেসরকারি সংস্থা।
জানা গেছে, টার্গেট পিপল ফর ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (টিপিডিও) নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আলীর পক্ষে বরিশাল জজকোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন মিজান গত মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) এ নোটিশ পাঠান।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের ১২ মার্চ গৌরনদী পৌরসভার হোল্ডিং নম্বর প্লেট স্থাপনের কাজের জন্য টিপিডিও আবেদন করে। আবেদনটি গ্রহণ করে পৌর প্রশাসন তাদের লিখিতভাবে কাজের অনুমোদন দেয়, যা পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা (PNO)মারফত প্রদান করা হয়। তবে একই সময়ে পৌরসভার অ্যাসেসমেন্ট কার্যক্রম শুরু হওয়ায় কাজটি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ১২ মার্চ পুনরায় কাজ শুরুর আবেদন করলে ১৫ মার্চ টিপিডিওকে আবারও কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।
এই অনুমতির ভিত্তিতে সংস্থাটি কাজ বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নেয়। তারা প্রতি প্লেট ১০০ টাকা হিসেবে প্রায় ১০ হাজার হোল্ডিং নম্বর প্লেট তৈরি করে। পাশাপাশি জনবল নিয়োগ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি সংগ্রহ করা হয়।
কিন্তু কাজ শুরুর আগেই সংস্থাটি জানতে পারে, পূর্বে অনুমোদিত এই কাজ অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে দেওয়া হয়েছে। নোটিশে দাবি করা হয়, এ বিষয়ে কোনো কারণ বা ব্যাখ্যা টিপিডিওকে জানানো হয়নি। ফলে প্রস্তুত প্লেট, জনবল ও সরঞ্জাম ব্যয়সহ তাদের প্রায় ১৫ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
লিগ্যাল নোটিশে প্রশাসনের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, পূর্ব অনুমোদন থাকা সত্ত্বেও কেন কাজটি অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছে দেওয়া হলো এবং কী কারণে টিপিডিওকে কাজ থেকে বিরত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ১৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ বলেন, পৌরসভায় বিভিন্ন ওয়ার্ডের বাসাবাড়িতে নেমপ্লেট স্থাপনের জন্য এক বছর আগে জনসেবা ডেভলপমেন্ট সোসাইটি ও টিপিডিও নামের স্থানীয় দুইটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) আবেদন করে। আবেদনের পর যাচাই-বাছাই শেষে চলতি বছরের মার্চে পৌরসভার মাসিক সভায় সর্বসম্মতিক্রমে জনসেবা ডেভলপমেন্ট সোসাইটিকে নেমপ্লেট স্থাপনের অনুকূলে রেজুলেশন পাস করা হয়। নেমপ্লেট স্থাপনের জন্য নাগরিকদের বাধ্য করা যাবে না এবং ২৫০ টাকার অধিক নাগরিকদের কাছ থেকে নেওয়া যাবে না সহ আরও অনেক শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে এসব শর্ত মেনে নিয়েই ওই এনজিও গত এক সপ্তাহ আগে কাজ শুরু করে।
অভিযোগ করে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ বলেন, নেমপ্লেট স্থাপনের কাজ না পেয়ে টিপিডিও’র নির্বাহী পরিচালক ক্ষিপ্ত হয়ে শুনেছি পৌর প্রশাসকের বিরুদ্ধে উকিল নোটিশ পাঠিয়েছে। আমরা পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ওই নোটিশের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন মিজান বলেন, ‘লিখিত অনুমোদনের ভিত্তিতে আমার মক্কেল কাজের জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ করে কাজটি অন্যত্র দেওয়ায় তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই আইনগতভাবেই ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে।’
জনসেবা ডেভলপমেন্ট সোসাইটি’র নির্বাহী পরিচালক মিজানুর রহমান আকবর বলেন, আমার আবেদনের প্রেক্ষিতে যাচাই-বাছাই শেষে নেমপ্লেট স্থাপনের কাজটি আমাকে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে পৌর কর্তৃপক্ষের সকল শর্ত মেনে নিয়ে কাজ শুরু করেছি। কাজ শুরুর পর থেকে কাজ না পাওয়া টিপিডিওর নির্বাহী পরিচালক বিভিন্নভাবে আমাকে হয়রানি করে আসছে। আমার সঙ্গে না পেরে সর্বশেষ পৌর প্রশাসকের বিরুদ্ধে উকিল নোটিশ পাঠিয়েছে বলে শুনেছি।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মো. ইব্রাহীম বলেন, পৌরসভা থেকে একটি আবেদন পেয়েছি, তখন যাচাই-বাছাইয়ের তেমন সুযোগ ছিল না। কেউ অভিযোগ করলে তা বিবেচনায় নেওয়া হবে। তাদের অফিসে আসতে বলা হয়েছে। পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকলে কাজ দেওয়ার বিষয়টি দেখা হবে। যাদের কাজ দেওয়া হয়েছে তারা আমার কোনো আত্মীয় নন।
শাওন খান/এফএ/এমএস
What's Your Reaction?