চমেক হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে মামলা

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে রোগী ও মৃত ব্যক্তির স্বজনদের জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, বাইরের গাড়ি প্রবেশে বাধা ও হামলার অভিযোগে চট্টগ্রাম অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমবায় সমিতির বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। রোববার (২১ জুন) পাঁচলাইশ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আশরাফ উদ্দিন সরদার বাদী হয়ে এ মামলা করেন।  মামলায় চট্টগ্রাম অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমবায় সমিতি ও অ্যাম্বুলেন্স চালকদের অজ্ঞাতনামা ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে। চট্টগ্রামের মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) এ জি এম মনিরুল হাসান সরকারের নির্দেশে পুলিশ এ আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে। পাঁচলাইশ থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম বলেছেন, সড়ক পরিবহন আইন ও দণ্ডবিধির ছয়টি ধারায় মামলাটি দায়ের হয়েছে। সুনির্দিষ্টভাবে কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি। আদালতের নির্দেশে তদন্তে এবং ভিডিও ফুটেজ যাচাইবাছাই করে ঘটনার সত্যতা পেয়ে মামলাটি করা হয়েছে। অজ্ঞাত ২০ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তদন্তে তাদের নাম-পরিচয় শনাক্ত করে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হবে। চমেক হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যের বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন তথ্য আমলে নেন সিএ

চমেক হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে মামলা

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে রোগী ও মৃত ব্যক্তির স্বজনদের জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, বাইরের গাড়ি প্রবেশে বাধা ও হামলার অভিযোগে চট্টগ্রাম অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমবায় সমিতির বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ।

রোববার (২১ জুন) পাঁচলাইশ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আশরাফ উদ্দিন সরদার বাদী হয়ে এ মামলা করেন। 

মামলায় চট্টগ্রাম অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমবায় সমিতি ও অ্যাম্বুলেন্স চালকদের অজ্ঞাতনামা ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে। চট্টগ্রামের মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) এ জি এম মনিরুল হাসান সরকারের নির্দেশে পুলিশ এ আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে।

পাঁচলাইশ থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম বলেছেন, সড়ক পরিবহন আইন ও দণ্ডবিধির ছয়টি ধারায় মামলাটি দায়ের হয়েছে। সুনির্দিষ্টভাবে কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি। আদালতের নির্দেশে তদন্তে এবং ভিডিও ফুটেজ যাচাইবাছাই করে ঘটনার সত্যতা পেয়ে মামলাটি করা হয়েছে। অজ্ঞাত ২০ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তদন্তে তাদের নাম-পরিচয় শনাক্ত করে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হবে।

চমেক হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যের বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন তথ্য আমলে নেন সিএমএম। এরপর গত ৯ জুন মহানগরীর ‘জাস্টিস অব দ্যা পিস’ হিসেবে তিনি একটি স্বপ্রণোদিত আদেশ দেন। রোগী ও লাশ পরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, বাইরের বৈধ গাড়ি প্রবেশে বাধা দেওয়া, চালকদের প্রাণনাশের হুমকিসহ বিভিন্ন অবৈধ ও অনৈতিক বিষয়ে জড়িতদের তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নিতে সিএমপির অতিরিক্ত উপকমিশনারকে (এডিসি-উত্তর) নির্দেশনা দেওয়া হয়।

আদালতের আদেশে এডিসি মোহাম্মদ হাসান মোস্তফা স্বপন ও পাঁচলাইশ জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার সোহেল পারভেজ যৌথ তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পান।

পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা গেছে, চমেক হাসপাতাল এলাকায় একটি অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়। তারা রোগী ও মৃত ব্যক্তির স্বজনদের কাছ থেকে কয়েক গুণ বেশি ভাড়া আদায় করে আসছে। এমনকি বাইরের কোনো বৈধ অ্যাম্বুলেন্স বা অন্য গাড়ি হাসপাতাল চত্বরে প্রবেশ করতে গেলে তারা বাধা দেয়। এ ছাড়া ফিটনেস ও রুট পারমিটবিহীন সাধারণ মাইক্রোবাসে নীল বাতি ও সাইরেন লাগিয়ে অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ৭ জুন বিকেলে চমেক হাসপাতালের পূর্ব গেটের ভেতরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) একটি মানববন্ধনে হামলার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীরা পালিয়ে যান। ওই হামলায় চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব আশিকুর রহমান আশিক, আসিফ চৌধুরী ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন মারুফসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।

এর আগে ফেসবুক ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিষয়টি আদালতের নজরে আসে। গত ৮ জুন চট্টগ্রামের চিফ মেট্রোপলিটন আদালত সিএমপির উত্তর বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনারকে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর পাঁচলাইশ থানাকে মামলা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

চট্টগ্রাম মহানগর আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা দীপেন দাশগুপ্ত বলেন, মামলার পাশাপাশি আদালতে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow