ছাত্রীর খাতা হারিয়েছেন শিক্ষক, ১০ মাসেও হয়নি সমাধান
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রী আজমিরা খাতুন। ২০২৫ সালের মার্চ মাসে তিনি অনার্সের ফাইনাল পরীক্ষা দেন। এপ্রিল মাসে পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হলে তিনি সিজিপিএ ৩.৩৩ পেয়ে উত্তীর্ণ হন এবং মাস্টার্সে ভর্তি হয়ে ক্লাস শুরু করেন। ২০২৫ সালে জুলাই মাসে মাস্টার্স ১ম সেমিস্টার পরীক্ষা দেওয়ার পূর্বে তিনি যখন অনার্সের সার্টিফিকেট তুলতে যান, তখন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর থেকে জানানো হয়, ২য় বর্ষের ২য় সেমিস্টারের ‘জিই-২২০৪’ কোর্সটি অনুত্তীর্ণ থাকার কারণে তার সার্টিফিকেট দেওয়া যাবে না। আজমিরার দাবি, অনুত্তীর্ণ কোর্সের রিটেক পরীক্ষা ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে ফলাফল প্রকাশের আগে তিনি দিয়েছেন। ওই কোর্সে উত্তীর্ণ না হলে অনার্সের ফাইনাল পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হতো না এবং তিনি মাস্টার্সে ভর্তি হতে পারতেন না। এ ফলাফলের কাগজ নিয়ে আজমিরা খাতুন গত ১০ মাস ধরে কোর্স শিক্ষক, বিভাগের চেয়ারম্যান এবং পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরে বারবার ঘুরে কোনো সমাধান পাননি। আজমিরা খাতুন বলেন, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর থেকে এ খবর জানার পর তিনি কোর্স শিক্ষক খন্দকার আরিফুজ্জামান এ
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রী আজমিরা খাতুন। ২০২৫ সালের মার্চ মাসে তিনি অনার্সের ফাইনাল পরীক্ষা দেন। এপ্রিল মাসে পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হলে তিনি সিজিপিএ ৩.৩৩ পেয়ে উত্তীর্ণ হন এবং মাস্টার্সে ভর্তি হয়ে ক্লাস শুরু করেন। ২০২৫ সালে জুলাই মাসে মাস্টার্স ১ম সেমিস্টার পরীক্ষা দেওয়ার পূর্বে তিনি যখন অনার্সের সার্টিফিকেট তুলতে যান, তখন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর থেকে জানানো হয়, ২য় বর্ষের ২য় সেমিস্টারের ‘জিই-২২০৪’ কোর্সটি অনুত্তীর্ণ থাকার কারণে তার সার্টিফিকেট দেওয়া যাবে না।
আজমিরার দাবি, অনুত্তীর্ণ কোর্সের রিটেক পরীক্ষা ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে ফলাফল প্রকাশের আগে তিনি দিয়েছেন। ওই কোর্সে উত্তীর্ণ না হলে অনার্সের ফাইনাল পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হতো না এবং তিনি মাস্টার্সে ভর্তি হতে পারতেন না। এ ফলাফলের কাগজ নিয়ে আজমিরা খাতুন গত ১০ মাস ধরে কোর্স শিক্ষক, বিভাগের চেয়ারম্যান এবং পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরে বারবার ঘুরে কোনো সমাধান পাননি।
আজমিরা খাতুন বলেন, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর থেকে এ খবর জানার পর তিনি কোর্স শিক্ষক খন্দকার আরিফুজ্জামান এবং পরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নাজমুল ইসলামের কাছে যান। ওই দুই শিক্ষক তাকে বলেন, ওই কোর্সে ক্লাস টেস্ট এবং ক্লাসে উপস্থিতির নাম্বার যোগ না হওয়ার কারণে কোর্সে তিনি অনুত্তীর্ণ হন। তারা তাকে নিয়মিত মাস্টার্সের ক্লাস করতে বলেন এবং কোর্সটির ক্লাস টেস্ট এবং ক্লাসে উপস্থিতির নাম্বার যোগ করে তাকে পাশ করানো হবে বলে আশ্বস্ত করেন।
এ আশ্বাসের পর ৬ মাস অপেক্ষা করেও আজমিরা কোনো সমাধান না পেয়ে বিভাগের চেয়ারম্যান বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেন। লিখিত অভিযোগের পর চেয়ারম্যান জানান, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত কমিটি করা হয়েছে এবং তদন্ত কমিটির রিপোর্টের পর এ বিষয়ে সমাধান দেওয়া হবে। তদন্ত কমিটি গঠনের ৪ মাস হয়ে গেলেও আজমিরা এখনো কোনো সমাধান পাননি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফেব্রুয়ারি মাসে তদন্ত কমিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টারের কাছে তদন্ত করে রিপোর্ট প্রদান করেন। তদন্ত কমিটির রিপোর্টে, কোর্স শিক্ষক খন্দকার আরিফুজ্জামান আজমিরা খাতুনের দ্বিতীয় বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টারের রিটেকের খাতা হারিয়ে ফেলেন বলে জানা যায়। বিষয়টি বিভাগে ধামাচাপা দেওয়ার জন্য তদন্ত কমিটি গঠনের আগে কোর্স শিক্ষক এবং পরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান মিলে ক্লাস টেস্ট এবং ক্লাসে উপস্থিতির নাম্বার যোগ করে আজমিরা খাতুনকে পাশ করানোর চেষ্টা করেন বলে তদন্ত কমিটির তদন্তে উঠে আসে।
রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, পরীক্ষার ফলাফলের পর নতুন করে ফলাফল শিটে ক্লাস টেস্ট এবং ক্লাসে উপস্থিতির নাম্বার যোগ করার সুযোগ নাই।
ভুক্তভোগী ছাত্রী আজমিরা খাতুন বলেন, ‘আমি স্যারদের কাছে ১০ মাস ধরে একটা রেজাল্টের জন্য ঘুরছি, উনারা আমাকে কোনো সমাধান দিচ্ছেন না। এর মধ্যে আমার মাস্টার্সের ১ম সেমিস্টারের পরীক্ষা দেওয়া শেষ। আমি এখন কী করবো জানি না।’
সংশ্লিষ্ট কোর্স শিক্ষক খন্দকার আরিফুজ্জামান বলেন, ‘খাতা হারানোর ঘটনা ঘটেনি, আর যদি খাতা হারিয়ে যায় তাহলে মার্কস কীভাবে আসবে? আমি মার্কস দেখাচ্ছি, এক্সটার্নালের মার্কসও আছে।’
পরীক্ষা কমিটি ও বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘ওই ছাত্রী একটা সেমিস্টারে ফেল করেন। ভুলক্রমে তাকে পাশ দেখানো হয়েছে। বিভাগের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি এ ভুল করেছেন। বিভাগ থেকে যে ফলাফল পাঠানো হয়েছে, কন্ট্রোলার দপ্তরে সেটা চেক করা হয়নি। দুই জায়গাতে দায়িত্বের গাফিলতি পাওয়া গেছে।’
উল্লেখ্য, এর আগে ওই দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য দুই ছাত্রী পরীক্ষার হলে নকল করার অভিযোগে বহিষ্কৃত হন। পরে তাদের পরীক্ষায় পাশ করিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
What's Your Reaction?