জরুরি বৈঠকে উয়েফা, আসছে ৫৫ দেশের বিশ্বকাপ বয়কটের সিদ্ধান্ত!

বিশ্বকাপের স্বত্ব বা মালিকানার একাংশ বেসরকারি খাতে বিক্রির বিতর্কিত উদ্যোগ নিয়েছে আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা ফিফা। এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে ইউরোপীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা। পরিস্থিতি পর্যালোচনায় বৃহস্পতিবার বিকেলে সদস্য ৫৫টি দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে এক জরুরি বৈঠকে বসতে যাচ্ছে উয়েফা। চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এই বিতর্কিত পরিকল্পনার কথা নিশ্চিত করার পরপরই ফুটবল বিশ্বে তীব্র প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। উয়েফা ফিফার এই পদক্ষেপকে ‘সীমা লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছে। জরুরি এই বৈঠকে ফিফার বিরুদ্ধে ইউরোপীয় দেশগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে তা নির্ধারণ করা হবে। আলোচনায় থাকা কঠোর পদক্ষেপগুলোর একটি হলো ফিফাকে বয়কট করা। এটি বাস্তবায়িত হলে ইউরোপের কোনো দেশই হয়তো পরবর্তী পুরুষ বিশ্বকাপে অংশ নেবে না। বিবিসি স্পোর্টসের তথ্যমতে, উয়েফাভুক্ত দেশগুলো ভালোভাবে জানে যে বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ালে অর্থনৈতিকভাবে ফিফা চরম ক্ষতির মুখে পড়বে। জরুরি বৈঠকের আগে এক বিবৃতিতে উয়েফা জানিয়েছে, ‘আজ আমরা ফিফার সেই নির্দিষ্ট সময়সীমা (ডেডলাইন) সম্পর্কে জেনেছি, যেখানে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনগুল

জরুরি বৈঠকে উয়েফা, আসছে ৫৫ দেশের বিশ্বকাপ বয়কটের সিদ্ধান্ত!

বিশ্বকাপের স্বত্ব বা মালিকানার একাংশ বেসরকারি খাতে বিক্রির বিতর্কিত উদ্যোগ নিয়েছে আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা ফিফা। এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে ইউরোপীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা। পরিস্থিতি পর্যালোচনায় বৃহস্পতিবার বিকেলে সদস্য ৫৫টি দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে এক জরুরি বৈঠকে বসতে যাচ্ছে উয়েফা।

চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এই বিতর্কিত পরিকল্পনার কথা নিশ্চিত করার পরপরই ফুটবল বিশ্বে তীব্র প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। উয়েফা ফিফার এই পদক্ষেপকে ‘সীমা লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছে। জরুরি এই বৈঠকে ফিফার বিরুদ্ধে ইউরোপীয় দেশগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে তা নির্ধারণ করা হবে।

আলোচনায় থাকা কঠোর পদক্ষেপগুলোর একটি হলো ফিফাকে বয়কট করা। এটি বাস্তবায়িত হলে ইউরোপের কোনো দেশই হয়তো পরবর্তী পুরুষ বিশ্বকাপে অংশ নেবে না। বিবিসি স্পোর্টসের তথ্যমতে, উয়েফাভুক্ত দেশগুলো ভালোভাবে জানে যে বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ালে অর্থনৈতিকভাবে ফিফা চরম ক্ষতির মুখে পড়বে।

জরুরি বৈঠকের আগে এক বিবৃতিতে উয়েফা জানিয়েছে, ‘আজ আমরা ফিফার সেই নির্দিষ্ট সময়সীমা (ডেডলাইন) সম্পর্কে জেনেছি, যেখানে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনগুলোকে হয় তাদের প্রস্তাব সমর্থন করতে বলা হয়েছে, নয়তো এককালীন বড় অঙ্কের অর্থ পাওয়ার সুযোগ হারানোর হুমকি দেওয়া হয়েছে।’

ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি আরও যোগ করে, ‘ফিফার এই কৌশলই তাদের মূল উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেয়। তবে ফুটবলের নানা অংশীদারদের সাথে কথা বলে উয়েফা বুঝতে পেরেছে যে, ফিফার এই চক্রান্তের বিরুদ্ধে শক্তিশালী এবং ক্রমবর্ধমান প্রতিরোধ গড়ে উঠছে। ফিফা আমাদের খেলাকে ব্যবহার করে নিজেদের এবং বন্ধুদের পকেট ভরাতে পারে না। খেলাটির সঠিক বিকাশ আমরা করতে পারি। এখন সময় এসেছে অ্যাসোসিয়েশন, ক্লাব, লিগ, খেলোয়াড় এবং ভক্তদের অগ্রাধিকার দেওয়ার।’

ফিফা কেবল বিশ্বকাপে বেসরকারি বিনিয়োগ আনার পরিকল্পনাই করেনি, বরং তাদের প্রস্তাব প্রক্রিয়াকরণ নিয়ে উঠে এসেছে ‘ঘুষ দেওয়ার’ মতো গুরুতর অভিযোগ। ফুটবল ফেডারেশনগুলোকে পাঠানো এক চিঠিতে ফিফা জানিয়েছিল, আগামী ১৯ সেপ্টেম্বরের নির্দিষ্ট সময়সীমার আগে যারা চুক্তি স্বাক্ষর করবে, তারা পরবর্তীতে চুক্তি করা দেশগুলোর চেয়ে অনেক বেশি অর্থ পাবে।

এছাড়া এই বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের পরিচয় নিয়েও বড় ধরণের বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিনিয়োগটির নেতৃত্বে রয়েছে 'থ্রাইভ ইটারনাল' নামের একটি ফান্ড, যার মালিক জোশুয়া কুশনার। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কন্যা ইভানকা ট্রাম্পের দেবর।

গত গ্রীষ্মের বিশ্বকাপ চলাকালীন ট্রাম্পের সাথে ইনফান্তিনোর সখ্য নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল, যেখানে খেলোয়াড় ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ড সংক্রান্ত বিতর্কে মার্কিন প্রেসিডেন্টের হস্তক্ষেপের অভিযোগও উঠেছিল।

বিশ্বকাপ বয়কটের যেকোনো সিদ্ধান্ত মূলত ইউরোপের বড় ফুটবল শক্তিগুলোর ওপর নির্ভর করছে, যেখানে ইংল্যান্ড এবং ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন অত্যন্ত প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করবে।

পরিস্থিতি নিয়ে ইংল্যান্ডের এফএ (FA) এক বিবৃতিতে স্পষ্ট জানিয়েছে: ‘এই প্রস্তাব সম্পর্কে আমরা একেবারেই অবগত ছিলাম না। মূল প্রস্তাবটি আসলে কী এবং এর সাথে কী কী শর্ত যুক্ত রয়েছে, সে সম্পর্কে আমাদের কাছে কোনো বিস্তারিত তথ্য নেই। এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত সীমিত তথ্যের ভিত্তিতে আমরা প্রক্রিয়ার অভাব ও পরিচালনা পদ্ধতির দুর্বলতা নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। ফিফার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সম্পূর্ণ এবং স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশ পেলে আমরা আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্টভাবে তুলে ধরব এবং পরবর্তী মন্তব্য করব।’

এমএমআর

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow