জীবনের শেষ প্রান্তেও শেখার অদম্য প্রেরণা : উপাচার্যের নেতৃত্বে বাউবির নতুন অভিযাত্রা
বাংলাদেশে শিক্ষা বিস্তারের ইতিহাসে কিছু প্রতিষ্ঠান নীরবে কাজ করেও অসাধারণ অবদান রেখে চলেছে। বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি) তেমনই একটি প্রতিষ্ঠান, যা গত তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষার আলো পৌঁছে দিচ্ছে সমাজের সেইসব মানুষের কাছে, যারা নানা প্রতিকূলতায় প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। কর্মজীবী মানুষ, গৃহিণী, প্রবাসী, চাকরিপ্রত্যাশী তরুণ-তরুণী কিংবা জীবনের শেষ প্রান্তে এসে জ্ঞানের পিপাসা মেটাতে আগ্রহী প্রবীণ নাগরিক— সবার জন্যই বাউবি হয়ে উঠেছে শিক্ষার এক নির্ভরযোগ্য আশ্রয়স্থল। উন্মুক্ত ও দূরশিক্ষণ পদ্ধতির মাধ্যমে দেশের সর্ববৃহৎ এ বিশ্ববিদ্যালয় কেবল ডিগ্রি প্রদানকারী একটি প্রতিষ্ঠান নয়; বরং এটি আজীবন শিক্ষার এক শক্তিশালী আন্দোলনের নাম। বয়স, পেশা, অবস্থান কিংবা আর্থ-সামাজিক সীমাবদ্ধতা এখানে শিক্ষাগ্রহণের পথে কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। ফলে শিক্ষা আজ আর নির্দিষ্ট শ্রেণি বা বয়সের মানুষের একচ্ছত্র অধিকার নয়; এটি হয়ে উঠেছে সবার জন্য উন্মুক্ত একটি মানবিক অধিকার। সম্প্রতি দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, গবেষক ও ইতিহাসবিদ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান বাংলা
বাংলাদেশে শিক্ষা বিস্তারের ইতিহাসে কিছু প্রতিষ্ঠান নীরবে কাজ করেও অসাধারণ অবদান রেখে চলেছে। বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি) তেমনই একটি প্রতিষ্ঠান, যা গত তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষার আলো পৌঁছে দিচ্ছে সমাজের সেইসব মানুষের কাছে, যারা নানা প্রতিকূলতায় প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। কর্মজীবী মানুষ, গৃহিণী, প্রবাসী, চাকরিপ্রত্যাশী তরুণ-তরুণী কিংবা জীবনের শেষ প্রান্তে এসে জ্ঞানের পিপাসা মেটাতে আগ্রহী প্রবীণ নাগরিক— সবার জন্যই বাউবি হয়ে উঠেছে শিক্ষার এক নির্ভরযোগ্য আশ্রয়স্থল।
উন্মুক্ত ও দূরশিক্ষণ পদ্ধতির মাধ্যমে দেশের সর্ববৃহৎ এ বিশ্ববিদ্যালয় কেবল ডিগ্রি প্রদানকারী একটি প্রতিষ্ঠান নয়; বরং এটি আজীবন শিক্ষার এক শক্তিশালী আন্দোলনের নাম। বয়স, পেশা, অবস্থান কিংবা আর্থ-সামাজিক সীমাবদ্ধতা এখানে শিক্ষাগ্রহণের পথে কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। ফলে শিক্ষা আজ আর নির্দিষ্ট শ্রেণি বা বয়সের মানুষের একচ্ছত্র অধিকার নয়; এটি হয়ে উঠেছে সবার জন্য উন্মুক্ত একটি মানবিক অধিকার।
সম্প্রতি দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, গবেষক ও ইতিহাসবিদ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তার বর্ণাঢ্য কর্মজীবন, গবেষণাধর্মী চিন্তাভাবনা এবং দূরদর্শী নেতৃত্ব বাউবির জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।
দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তিনি বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম শুরু করেছেন। তার নেতৃত্বে শিক্ষা কার্যক্রমের গুণগত মানোন্নয়ন, প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার উদ্যোগ ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারে আশাবাদের সঞ্চার করেছে।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, তিনি শিক্ষাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার বাউবির মূল দর্শনকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী শিক্ষার ধরণে যে পরিবর্তন এসেছে, সেখানে ডিজিটাল প্রযুক্তি, অনলাইন শিক্ষা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক শিক্ষণ পদ্ধতির ব্যবহার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ বাস্তবতাকে সামনে রেখে বাউবির শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
উপাচার্যের মহাপরিকল্পনার অন্যতম লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের জন্য সহজলভ্য, কার্যকর ও মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করা। তিনি মনে করেন, কর্মমুখী ও জীবনঘনিষ্ঠ শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে বাউবি আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই শিক্ষা প্রোগ্রামসমূহকে সময়োপযোগী করা, গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণ, শিক্ষাসামগ্রীর মানোন্নয়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালুর বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চল থেকে শুরু করে শহরের ব্যস্ত কর্মজীবী মানুষ পর্যন্ত অসংখ্য শিক্ষার্থী বাউবির মাধ্যমে তাদের অপূর্ণ শিক্ষাজীবন সম্পন্ন করার সুযোগ পাচ্ছেন। অনেকেই চাকরির পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছেন, আবার কেউ কেউ অবসরের পর ব্যক্তিগত জ্ঞানচর্চার তাগিদে ভর্তি হচ্ছেন। এই বাস্তবতাই প্রমাণ করে যে, বাউবি কেবল একটি বিশ্ববিদ্যালয় নয়; এটি আজীবন শিক্ষার এক নীরব বিপ্লব।
বিশেষ করে জীবন সায়াহ্নে এসে যারা শিক্ষার স্বপ্ন পূরণের সুযোগ খুঁজে পাননি, তাদের জন্য বাউবি আশার প্রদীপ হয়ে জ্বলছে। এখানে শিক্ষার কোনো নির্দিষ্ট বয়সসীমা নেই; রয়েছে শেখার অদম্য আগ্রহকে সম্মান জানানোর সুযোগ। জ্ঞানের পিপাসা মেটাতে একজন প্রবীণ নাগরিক যখন আবার বই হাতে নেন, তখন সেটি শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়; বরং একটি আলোকিত সমাজ গঠনের পথকে আরও সুদৃঢ় করে।
অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় আজ নতুন প্রত্যাশা ও সম্ভাবনার পথে এগিয়ে চলেছে। তার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বাউবি শুধু দেশের নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও উন্মুক্ত ও দূরশিক্ষণ ব্যবস্থার একটি অনুকরণীয় মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে বলে আশা করা যায়।
জ্ঞানভিত্তিক, দক্ষ এবং মানবিক বাংলাদেশ গঠনের অভিযাত্রায় বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় তাই নিঃসন্দেহে এক নীরব বিপ্লবের নাম— যে বিপ্লব মানুষের জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে শিক্ষার আলো পৌঁছে দিয়ে প্রমাণ করছে, শেখার কোনো শেষ নেই, শিক্ষারও কোনো বয়স নেই।
এ প্রসঙ্গে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, শিক্ষা কোনো সুযোগ নয়, মানুষের জন্মগত অধিকার। আর এ মানবাধিকার বাস্তবায়নে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
What's Your Reaction?