জুলাই পরবর্তী বাংলাদেশে দায়মুক্তির সংস্কৃতি চলতে দেওয়া হবে না
জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে নতুন আইনের আড়ালে পুরোনো দায়মুক্তির সংস্কৃতি কোনোভাবেই চলতে দেওয়া হবে না বলে মনে করে বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি। সেইসঙ্গে গুম প্রতিরোধে কেবল আইন প্রণয়ন করে রাষ্ট্রের দায়িত্ব শেষ করা যাবে না; বরং গুম, বেআইনি আটক, বিচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ড ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তিকে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) নেজামে ইসলাম পার্টির আমির (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুল কাইয়ুম সোহবানী ও মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইযহার স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়। বিবৃতিতে তারা বলেন, আইন প্রণয়ন তখনই অর্থবহ, যখন তা অপরাধীর পরিচয় ও রাজনৈতিক অবস্থান বিবেচনা না করে কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হয়। অন্যথায় আইন কেবল কাগজের অক্ষর হয়ে থাকবে এবং জনগণের মধ্যে রাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থা সম্পর্কে আস্থাহীনতা আরও গভীর হবে। তারা বলেন, অতীতে ক্ষমতার দাপটে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করে যারা গুম, নির্যাতন, বেআইনি আটক ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো গুরুতর অপরাধ সংঘটিত করেছে, তাদের কাউকে রাজনৈতিক পরিচয়, প্
জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে নতুন আইনের আড়ালে পুরোনো দায়মুক্তির সংস্কৃতি কোনোভাবেই চলতে দেওয়া হবে না বলে মনে করে বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি। সেইসঙ্গে গুম প্রতিরোধে কেবল আইন প্রণয়ন করে রাষ্ট্রের দায়িত্ব শেষ করা যাবে না; বরং গুম, বেআইনি আটক, বিচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ড ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তিকে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) নেজামে ইসলাম পার্টির আমির (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুল কাইয়ুম সোহবানী ও মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইযহার স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়।
বিবৃতিতে তারা বলেন, আইন প্রণয়ন তখনই অর্থবহ, যখন তা অপরাধীর পরিচয় ও রাজনৈতিক অবস্থান বিবেচনা না করে কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হয়। অন্যথায় আইন কেবল কাগজের অক্ষর হয়ে থাকবে এবং জনগণের মধ্যে রাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থা সম্পর্কে আস্থাহীনতা আরও গভীর হবে।
তারা বলেন, অতীতে ক্ষমতার দাপটে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করে যারা গুম, নির্যাতন, বেআইনি আটক ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো গুরুতর অপরাধ সংঘটিত করেছে, তাদের কাউকে রাজনৈতিক পরিচয়, প্রশাসনিক প্রভাব কিংবা ক্ষমতার পুরোনো সম্পর্কের কারণে দায়মুক্তি দেওয়া চলবে না। অপরাধী যদি ক্ষমতাবান হয়, তাহলে তার বিচার আরও জরুরি; আর অপরাধী যদি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ছত্রছায়ায় থাকে, তাহলে তার বিচার রাষ্ট্রের নৈতিকতার পরীক্ষাও বটে।
তারা বলেন, জুলাইয়ের গণআকাঙ্ক্ষা ছিল একটি জবাবদিহিমূলক, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা। সেই আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়ন করতে হলে অতীতের অপরাধের বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহারের সব পথ বন্ধ করতে হবে।
নেতৃদ্বয় সতর্ক করে বলেন, জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে নতুন আইনের আড়ালে পুরোনো দায়মুক্তির সংস্কৃতি কোনোভাবেই চলতে দেওয়া হবে না। বিচারহীনতা অপরাধীদের উৎসাহিত করে এবং রাষ্ট্রের প্রতি জনগণের আস্থা ধ্বংস করে। একই সঙ্গে প্রতিহিংসার রাজনীতিও গ্রহণযোগ্য নয়; সুষ্ঠু তদন্ত, যথাযথ প্রমাণ ও ন্যায়সংগত বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমেই অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারা আরও বলেন, গুম প্রতিরোধে প্রণীত আইন দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন, স্বাধীন তদন্ত, ভুক্তভোগী পরিবারের ন্যায়বিচার এবং দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। এবার জনগণ শুধু আইন দেখতে চায় না—আইনের বাস্তব প্রয়োগ দেখতে চায়। কারণ অপরাধীর বিচার না হলে আইন যত কঠোরই হোক, তা জনগণের কাছে অর্থহীন।
What's Your Reaction?