টিমটিম করে জ্বলছে চুলা, এক ঘণ্টার রান্না তিন ঘণ্টায়ও শেষ হচ্ছে না
মুন্নি আক্তার বসবাস করেন রাজধানীর লালবাগ এলাকায়। তার বাসায় লাইনের গ্যাস সংযোগ রয়েছে। তবে রান্নার সময় গ্যাসের চাপ কম থাকা বা একেবারেই গ্যাস না পাওয়ায় প্রায় প্রতিদিনই তাকে ভোগান্তি পোহাতে হয়। সময়মতো রান্নার কাজ শেষ করতে না পারা নিয়ে তার অসন্তুষ্টির শেষ নেই। কথা হলে লালবাগের এ বাসিন্দা জাগো নিউজকে জানান, সোমবার (২০ এপ্রিল) সকাল ৭টায় মেয়েকে নিয়ে স্কুলে যাওয়ার সময় গৃহপরিচারিকাকে পাটশাক রান্না করতে বলে যান। সকাল ১০টায় বাসায় ফিরে দেখেন, তখনও রান্না শেষ হয়নি। গৃহপরিচারিকা তাকে জানান, লাইনের গ্যাসের চাপ এতটাই কম যে সকাল থেকে চুলা টিমটিম করে জ্বলছে। এ কারণে তিন ঘণ্টায়ও শাক সেদ্ধ হয়নি। শুধু লালবাগ নয়, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তীব্র গ্যাস সংকটে প্রতিদিনের রান্নাবান্না দুঃসহ হয়ে উঠেছে। চুলায় আগুন জ্বলছে ঠিকই, কিন্তু চাপ এতটাই কম যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লাগলেও রান্না শেষ করা যাচ্ছে না—এমন অভিযোগ এখন ঘরে ঘরে। মুন্নি আক্তার বলেন, ‘এটি এখন প্রায় প্রতিদিনের চিত্র। দিনের বেলায় গ্যাসের চাপ এতো কম থাকে যে স্বাভাবিক সময়ের মধ্যে রান্না শেষ করা কঠিন হয়ে পড়ে।’ আরও পড়ুনবাসাবাড়িতে চুলা না জ্বলায় রান্নায় ভোগান্তিরা
মুন্নি আক্তার বসবাস করেন রাজধানীর লালবাগ এলাকায়। তার বাসায় লাইনের গ্যাস সংযোগ রয়েছে। তবে রান্নার সময় গ্যাসের চাপ কম থাকা বা একেবারেই গ্যাস না পাওয়ায় প্রায় প্রতিদিনই তাকে ভোগান্তি পোহাতে হয়। সময়মতো রান্নার কাজ শেষ করতে না পারা নিয়ে তার অসন্তুষ্টির শেষ নেই।
কথা হলে লালবাগের এ বাসিন্দা জাগো নিউজকে জানান, সোমবার (২০ এপ্রিল) সকাল ৭টায় মেয়েকে নিয়ে স্কুলে যাওয়ার সময় গৃহপরিচারিকাকে পাটশাক রান্না করতে বলে যান। সকাল ১০টায় বাসায় ফিরে দেখেন, তখনও রান্না শেষ হয়নি।
গৃহপরিচারিকা তাকে জানান, লাইনের গ্যাসের চাপ এতটাই কম যে সকাল থেকে চুলা টিমটিম করে জ্বলছে। এ কারণে তিন ঘণ্টায়ও শাক সেদ্ধ হয়নি।
শুধু লালবাগ নয়, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তীব্র গ্যাস সংকটে প্রতিদিনের রান্নাবান্না দুঃসহ হয়ে উঠেছে। চুলায় আগুন জ্বলছে ঠিকই, কিন্তু চাপ এতটাই কম যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লাগলেও রান্না শেষ করা যাচ্ছে না—এমন অভিযোগ এখন ঘরে ঘরে।
মুন্নি আক্তার বলেন, ‘এটি এখন প্রায় প্রতিদিনের চিত্র। দিনের বেলায় গ্যাসের চাপ এতো কম থাকে যে স্বাভাবিক সময়ের মধ্যে রান্না শেষ করা কঠিন হয়ে পড়ে।’
আরও পড়ুন
বাসাবাড়িতে চুলা না জ্বলায় রান্নায় ভোগান্তি
রাজধানীতে গ্যাসের জন্য হাহাকার, দিনে জ্বলছে না চুলা
গ্যাস নিয়ে ঝামেলায় আছি, রান্না করতে গেলে মেজাজ খারাপ হয়
সরেজমিনে রায়েরবাজার, মোহাম্মদপুর ও মিরপুরসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা হলে তারাও একই ধরনের ভোগান্তির কথা জানান। অনেকের অভিযোগ, গ্যাসের চাপ কম থাকায় ভাত ঠিকমতো সেদ্ধ হচ্ছে না, মাছ-মাংস রান্নায় দ্বিগুণ-তিনগুণ সময় লাগছে।
রায়েরবাজারের বাসিন্দা নাজমা আক্তার বলেন, ‘গ্যাস না থাকায় অনেক সময় রাত জেগে রান্না করতে হয়। বিকল্প হিসেবে এলপিজি ব্যবহার করতাম, কিন্তু গত এক মাসে দুই দফায় ১২ কেজির গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ৬০০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে। এতে খরচও অনেক বেড়েছে। এতো টাকা দিয়ে সিলিন্ডার কিনতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে।’
জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ দশমিক ৫ থেকে ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ঘনফুট। কিন্তু দৈনিক সরবরাহ মাত্র ২ দশমিক ৫ থেকে ২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ঘনফুট। ফলে প্রতিদিনের সরবরাহে ঘাটতি থাকছে প্রায় ১ থেকে ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ঘনফুট।
তিতাস গ্যাসের আওতাভুক্ত ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় পরিস্থিতি আরও স্পষ্টভাবে টের পাওয়া যাচ্ছে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এসব অঞ্চলে দৈনিক চাহিদা প্রায় ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট, কিন্তু সরবরাহ রয়েছে ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুটের মধ্যে। অর্থাৎ, প্রতিদিনই কয়েকশ মিলিয়ন ঘনফুট ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।
তিতাস গ্যাসের নিজস্ব উৎপাদন ক্ষেত্র থেকেও দৈনিক মাত্র ৩৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে, যা মোট চাহিদার তুলনায় খুবই সামান্য।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রের স্বাভাবিক উৎপাদন হ্রাস, এলএনজি সরবরাহে অস্থিরতা এবং বিতরণ লাইনে চাপজনিত সীমাবদ্ধতার কারণে এ সংকট তৈরি হয়েছে।
বাসাবাড়িতে সাধারণত সকালের দিকে রান্নাবান্নার কাজের ব্যস্ততা থাকে। এসময়ে চাহিদাও বাড়ে। কিন্তু চাহিদা বেড়ে গেলে পাইপলাইনে চাপ আরও কমে যায়। যে কারণে চুলায় আগুন জ্বলে টিমটিম করে।
আরও পড়ুন
দাম নিয়ে ‘অরাজকতার’ পর এলপিজি আমদানিতে বিপিসির তোড়জোড়
১২ কেজির গ্যাস সিলিন্ডারে ১৮ দিনে বাড়লো ৬০০ টাকা
গ্যাস সংকটের কারণে অনেক পরিবার এখন এলপিজি সিলিন্ডারের দিকে ঝুঁকছে। তবে বাজারে সিলিন্ডারের দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।
ভুক্তভোগীরা বলছেন, দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে নগরজীবনের এ সংকট আরও গভীর হবে। তারা জ্বালানি মন্ত্রণালয় ও তিতাস কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ চাইছেন।
তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসির মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) প্রকৌশলী কাজী মোহাম্মদ সাইদুল হাসানের কাছে তিতাস গ্যাসের চাহিদা, সরবরাহ ও সমস্যা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘কোনো পার্টিকুলার বাসায় গ্যাসের সমস্যা থাকলে স্থানীয় অফিসে যোগাযোগ করতে হবে৷ কারণ, বাসার লাইনেও সমস্যা থাকতে পারে।’
‘তিতাসের সব গ্রাহক মিলে বর্তমানে দৈনিক চাহিদা ১৯০০ এমএমসিএফডি’র বেশি। আমরা পাচ্ছি ১৫০০ এমএমসিএফডি। এটা ডিপেন্ড করে কোন কোন ফ্যাক্টরি বা বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু বা বন্ধ রাখা হচ্ছে তার ওপর’—বলেন তিতাসের এ কর্মকর্তা।
এমইউ/এমকেআর
What's Your Reaction?