টেকসই মেরামতের অভাবে বেহাল শাবিপ্রবির সড়ক

দীর্ঘদিন ধরে টেকসই মেরামতের অভাবে বেহাল দশা তৈরি হয়েছে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) ছেলেদের আবাসিক হলের সংযোগ সড়ক। সড়কের পিচ উঠে তৈরি হওয়া ছোট-বড় খানাখন্দের কারণে নিয়মিত ঘটছে দুর্ঘটনা। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করছেন এই পথে চলাচলকারীরা। সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, শাবিপ্রবির ক্যাম্পাস থেকে ছেলেদের আবাসিক হলে যাতায়াতের জন্য একটি মাত্র সংযোগ সড়ক রয়েছে। এই সড়ক ব্যবহার করে তিনটি আবাসিক হলের দেড় হাজারের অধিক শিক্ষার্থীর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন টিলারগাঁও ও নয়াবাজার এলাকার মেসের শিক্ষার্থীরা চলাচল করেন। সড়কটির শাহপরাণ হল টিলা ও মসজিদ সংলগ্ন এলাকা, মেডিকেল সেন্টার থেকে শিক্ষাভবন-বি পর্যন্ত রাস্তার পিচ ঢালাই উঠে গিয়ে অসংখ্য ছোট-বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে, সিলেটের ২০২২ সালের বন্যায় শাবিপ্রবির অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো তলিয়ে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ২০২৪ সালের প্রথমদিকে সিলেট সিটি করপোরেশন কর্তৃক এক কিলোমিটার সড়ক নতুনভাবে ঢালাই দেওয়া হয়। ওই বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব অর্থায়নে অন্যান্য সড়কগুলোর ছোট-বড় খানাখন্দগুলো মেরামত করা হয়। গত দেড় বছরে বিশ্বব

টেকসই মেরামতের অভাবে বেহাল শাবিপ্রবির সড়ক

দীর্ঘদিন ধরে টেকসই মেরামতের অভাবে বেহাল দশা তৈরি হয়েছে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) ছেলেদের আবাসিক হলের সংযোগ সড়ক। সড়কের পিচ উঠে তৈরি হওয়া ছোট-বড় খানাখন্দের কারণে নিয়মিত ঘটছে দুর্ঘটনা। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করছেন এই পথে চলাচলকারীরা।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, শাবিপ্রবির ক্যাম্পাস থেকে ছেলেদের আবাসিক হলে যাতায়াতের জন্য একটি মাত্র সংযোগ সড়ক রয়েছে। এই সড়ক ব্যবহার করে তিনটি আবাসিক হলের দেড় হাজারের অধিক শিক্ষার্থীর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন টিলারগাঁও ও নয়াবাজার এলাকার মেসের শিক্ষার্থীরা চলাচল করেন। সড়কটির শাহপরাণ হল টিলা ও মসজিদ সংলগ্ন এলাকা, মেডিকেল সেন্টার থেকে শিক্ষাভবন-বি পর্যন্ত রাস্তার পিচ ঢালাই উঠে গিয়ে অসংখ্য ছোট-বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, সিলেটের ২০২২ সালের বন্যায় শাবিপ্রবির অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো তলিয়ে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ২০২৪ সালের প্রথমদিকে সিলেট সিটি করপোরেশন কর্তৃক এক কিলোমিটার সড়ক নতুনভাবে ঢালাই দেওয়া হয়। ওই বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব অর্থায়নে অন্যান্য সড়কগুলোর ছোট-বড় খানাখন্দগুলো মেরামত করা হয়। গত দেড় বছরে বিশ্ববিদ্যালয়টির বিভিন্নস্থানে শুরু হওয়া চলমান ১৭টি নির্মাণাধীন স্থাপনার কাজের জন্য প্রতিদিন শতাধিক ভারী যানবাহন চলাচল করে থাকে।

এদিকে ভারী যানবাহন চলাচলের ফলে শাবিপ্রবির অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গত বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব অর্থায়নে কিলোরোড মেরামত করা হলেও ২০২২ এর বন্যার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরবর্তী সময়ে ছেলেদের আবাসিক হলের সংযোগ সড়কটি নতুনভাবে ঢালাই দেওয়া হয়নি। এতে করে সড়কটি দিয়ে চলাচলকারী ইজিবাইক, মোটরসাইকেল, বাইসাইকেলসহ শিক্ষক-কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত বাহন চালনায় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ইব্রাহিম হোসেন মুন্না বলেন, ভাঙা সড়কে সাইকেল চালাতে গেলে ভারসাম্য হারিয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে অন্য যানবাহনের সঙ্গে সংঘর্ষের সম্ভাবনাও তৈরি হয়। এই সড়কে চলাচলের কারণে কয়েকদিন পরপর সাইকেলের চাকা, রিম ও ব্রেক নষ্ট হয়ে যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে চলাচলকারী অন্তত ৫ জন ইজিবাইক চালকের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, রাস্তার বেহাল দশার কারণে ইজিবাইকের বেয়ারিং, চাকা নষ্টসহ বিভিন্ন ক্ষতি হয়। এছাড়া এই সড়কে এখন আগের মতো শিক্ষার্থীরা ইজিবাইকে উঠতে চান না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. এম. সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, সিলেট সিটি করপোরেশন গোলচত্বর থেকে ছাত্রহল পর্যন্ত সড়কে কাজ করে দেবেন। আমরা আরসিসি ঢালাই করে দেওয়ার জন্য বলেছি। ক্যাম্পাসে অনেকগুলো প্রকল্প চলমান থাকায় এই মুহূর্তে সেটি সম্ভব না, শিক্ষার্থীদের একটু ধৈর্য ধরতে হবে। তবে যাতায়াতের উপযুক্ত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থায়নে আপাতত ভাঙা স্থানগুলো মেরামত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, সিটি করপোরেশন বিশ্ববিদ্যালয়ের সড়ক সাধারণত করে না। তবে কোনো সড়ক সিটি করপোরেশনের আওতায় থাকলে আমরা সেটি করে দেবো। প্রধান প্রকৌশলী থেকে জানতে চাইবো- বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো সড়ক করা হয়েছে কি-না।

এসএইচ জাহিদ/এনএইচআর/এমএস

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow