ট্যাপের পানিতে থাকা নাইট্রেট কি ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়? গবেষণা যা বলছে
আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ হলো পানি। কিন্তু সেই ট্যাপের পানিতেই যদি লুকিয়ে থাকে অদৃশ্য কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি? সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, আমেরিকানদের একটি বড় অংশ এমন পানি পান করছেন যাতে নাইট্রেটের মাত্রা উদ্বেগজনকভাবে বেশি।
ইনভায়রনমেন্টাল ওয়ার্কিং গ্রুপ এর একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, প্রায় ১৮ শতাংশ মানুষের ট্যাপের পানিতে নাইট্রেটের পরিমাণ প্রতি লিটারে ৩ মিলিগ্রামের বেশি, যা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
নাইট্রেট আসলে কী?
নাইট্রেট হলো নাইট্রোজেন এবং অক্সিজেনের সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌগ, যা প্রাকৃতিকভাবেই পরিবেশে পাওয়া যায়। তবে এর মূল উৎস হলো কৃষিকাজ, সেপটিক ট্যাংক এবং শহরাঞ্চলের বৃষ্টির পানির নিষ্কাশন ব্যবস্থা। এ ছাড়া প্রক্রিয়াজাত মাংস সংরক্ষণেও এটি ব্যবহৃত হয়।
ক্যান্সারের ঝুঁকি কতটুকু?
নাইট্রেট এবং ক্যান্সারের যোগসূত্র নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে বিতর্ক চলছে। কিছু গবেষণায় নাইট্রেটকে পাকস্থলীর ক্যান্সার এবং ক্যান্সারে মৃত্যুহার বৃদ্ধির সাথে যুক্ত করা হয়েছে। তবে গবেষণার ফলাফলগুলো মিশ্র; অনেক ক্ষেত্রে পাবলিক ওয়াটার সাপ্লাইয়ের নাইট্রেটের সাথে কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের স
আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ হলো পানি। কিন্তু সেই ট্যাপের পানিতেই যদি লুকিয়ে থাকে অদৃশ্য কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি? সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, আমেরিকানদের একটি বড় অংশ এমন পানি পান করছেন যাতে নাইট্রেটের মাত্রা উদ্বেগজনকভাবে বেশি।
ইনভায়রনমেন্টাল ওয়ার্কিং গ্রুপ এর একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, প্রায় ১৮ শতাংশ মানুষের ট্যাপের পানিতে নাইট্রেটের পরিমাণ প্রতি লিটারে ৩ মিলিগ্রামের বেশি, যা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
নাইট্রেট আসলে কী?
নাইট্রেট হলো নাইট্রোজেন এবং অক্সিজেনের সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌগ, যা প্রাকৃতিকভাবেই পরিবেশে পাওয়া যায়। তবে এর মূল উৎস হলো কৃষিকাজ, সেপটিক ট্যাংক এবং শহরাঞ্চলের বৃষ্টির পানির নিষ্কাশন ব্যবস্থা। এ ছাড়া প্রক্রিয়াজাত মাংস সংরক্ষণেও এটি ব্যবহৃত হয়।
ক্যান্সারের ঝুঁকি কতটুকু?
নাইট্রেট এবং ক্যান্সারের যোগসূত্র নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে বিতর্ক চলছে। কিছু গবেষণায় নাইট্রেটকে পাকস্থলীর ক্যান্সার এবং ক্যান্সারে মৃত্যুহার বৃদ্ধির সাথে যুক্ত করা হয়েছে। তবে গবেষণার ফলাফলগুলো মিশ্র; অনেক ক্ষেত্রে পাবলিক ওয়াটার সাপ্লাইয়ের নাইট্রেটের সাথে কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের সরাসরি কোনো যোগসূত্র পাওয়া যায়নি।
ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যান্সার নাইট্রেট গ্রহণকে ‘সম্ভবত মানুষের জন্য ক্যান্সার সৃষ্টিকারী’ হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করেছে। এটি এমন একটি তালিকায় রয়েছে যেখানে লাল মাংস বা কিছু নিষিদ্ধ কীটনাশক স্থান পেয়েছে। তবে এটি অ্যালকোহল বা তামাকের মতো ‘নিশ্চিত ক্যান্সার সৃষ্টিকারী’ তালিকায় নেই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেহেতু কৃষিনির্ভর এলাকায় নাইট্রেটের পাশাপাশি অন্যান্য ক্ষতিকারক উপাদানের সংস্পর্শে মানুষ আসে, তাই কেবল নাইট্রেটই ক্যান্সারের জন্য দায়ী কি না তা নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন।
শিশুদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি
প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে ক্যান্সারের ঝুঁকি নিয়ে বিতর্ক থাকলেও শিশুদের ক্ষেত্রে উচ্চমাত্রার নাইট্রেট অত্যন্ত বিপজ্জনক। এটি শিশুদের মধ্যে ‘ব্লু-বেবি সিনড্রোম’ নামক একটি প্রাণঘাতী রোগ তৈরি করতে পারে। এই ঝুঁকি এড়াতে এনভায়রনমেন্টাল প্রোটেকশন এজেন্সি পানিতে নাইট্রেটের আইনি সীমা নির্ধারণ করেছে প্রতি লিটারে ১০ মিলিগ্রাম।
নাইট্রেট মুক্ত থাকার উপায়
আপনার সরবরাহকৃত পানিতে নাইট্রেটের মাত্রা কেমন তা নিয়মিত পরীক্ষা করা জরুরি। তবে মনে রাখবেন:
পানি ফোটানো সমাধান নয়: পানি ফোটালে নাইট্রেট দূর হয় না, বরং তাপের ফলে পানির পরিমাণ কমে গিয়ে নাইট্রেটের ঘনত্ব আরও বেড়ে যেতে পারে।
সাধারণ ফিল্টার কার্যকর নয়: সাধারণ অ্যাক্টিভেটেড কার্বন ফিল্টার বা রিভার্স অসমোসিস নয় এমন ফিল্টার নাইট্রেট দূর করতে পারে না।
কার্যকর ব্যবস্থা: নাইট্রেট সরাতে হলে রিভার্স অসমোসিস (RO), আয়ন এক্সচেঞ্জ বা ডিস্টিলেশন ওয়াটার ট্রিটমেন্ট সিস্টেম ব্যবহার করতে হবে। যদিও এই পদ্ধতিগুলো ব্যয়বহুল এবং এগুলোর সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন।
আপনার এলাকার পানির মান সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং প্রয়োজনে যথাযথ ফিল্টার ব্যবহার করা আপনার ও আপনার পরিবারের দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তথ্যসূত্র: ভেরিওয়েল হেলথ