ঢাকায় ছোট শিশুদের মধ্যে শিগেলা সংক্রমণ, প্রচলিত টেস্টে শনাক্ত অর্ধেক

  রাজধানী ঢাকায় ছোট শিশুদের মধ্যে শিগেলা সংক্রমণ ব্যাপকহারে শনাক্তের বাইরে থেকে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। প্রচলিত ল্যাবরেটরি পদ্ধতির সীমাবদ্ধতার কারণে প্রকৃত রোগীর একটি বড় অংশ ধরা পড়ছে না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় আইসিডিডিআর,বি-র গবেষকরা এ তথ্য তুলে ধরেন। রোববার (৯ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আইসিডিডিআর,বি-র ‘এন্টারিক্স ফর গ্লোবাল হেলথ শিগেলা সার্ভেইল্যান্স স্টাডি’ শীর্ষক গবেষণা থেকে প্রাপ্ত এই চাঞ্চল্যকর তথ্য ও সুপারিশমালা উপস্থাপন করা হয়। প্রচলিত টেস্ট বনাম আধুনিক ‘কিউপিসিআর’ টেস্ট গবেষণায় দেখা গেছে, প্রথাগত মল কালচার পদ্ধতির চেয়ে জিনভিত্তিক অধিক সংবেদনশীল ‘কিউপিসিআর’ ল্যাবরেটরি টেস্টে দ্বিগুণেরও বেশি শিগেলা সংক্রমণ শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে। প্রথাগত কালচার পদ্ধতিতে যেখানে প্রতি ১০০ জন শিশুর মধ্যে প্রায় ৫.৯ জনের শিগেলা শনাক্ত হয়, সেখানে ‘কিউপিসিআর’টেস্টে একই নমুনায় দ্বিগুণ অর্থাৎ ১১.৬ শতাংশ সংক্রমণ ধরা পড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিগেলা জীবাণু শুধু সাধারণ ডায়রিয়াই নয়, বরং রক্তামাশয়, তীব্র জ্বর এবং দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতার সৃষ্টি করে। যা শিশুদের শারীরিক

ঢাকায় ছোট শিশুদের মধ্যে শিগেলা সংক্রমণ, প্রচলিত টেস্টে শনাক্ত অর্ধেক

 

রাজধানী ঢাকায় ছোট শিশুদের মধ্যে শিগেলা সংক্রমণ ব্যাপকহারে শনাক্তের বাইরে থেকে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। প্রচলিত ল্যাবরেটরি পদ্ধতির সীমাবদ্ধতার কারণে প্রকৃত রোগীর একটি বড় অংশ ধরা পড়ছে না।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় আইসিডিডিআর,বি-র গবেষকরা এ তথ্য তুলে ধরেন।

রোববার (৯ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আইসিডিডিআর,বি-র ‘এন্টারিক্স ফর গ্লোবাল হেলথ শিগেলা সার্ভেইল্যান্স স্টাডি’ শীর্ষক গবেষণা থেকে প্রাপ্ত এই চাঞ্চল্যকর তথ্য ও সুপারিশমালা উপস্থাপন করা হয়।

প্রচলিত টেস্ট বনাম আধুনিক ‘কিউপিসিআর’ টেস্ট

গবেষণায় দেখা গেছে, প্রথাগত মল কালচার পদ্ধতির চেয়ে জিনভিত্তিক অধিক সংবেদনশীল ‘কিউপিসিআর’ ল্যাবরেটরি টেস্টে দ্বিগুণেরও বেশি শিগেলা সংক্রমণ শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে। প্রথাগত কালচার পদ্ধতিতে যেখানে প্রতি ১০০ জন শিশুর মধ্যে প্রায় ৫.৯ জনের শিগেলা শনাক্ত হয়, সেখানে ‘কিউপিসিআর’টেস্টে একই নমুনায় দ্বিগুণ অর্থাৎ ১১.৬ শতাংশ সংক্রমণ ধরা পড়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিগেলা জীবাণু শুধু সাধারণ ডায়রিয়াই নয়, বরং রক্তামাশয়, তীব্র জ্বর এবং দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতার সৃষ্টি করে। যা শিশুদের শারীরিক বৃদ্ধিতে বড় ধরনের বাধা বা স্টান্টিংয়ের কারণ হতে পারে।

অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ ক্ষমতার উচ্চ হার (এএমআর)

গবেষণার সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো শিগেলা জীবাণুতে অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা দ্রুত কমে যাওয়া। বাংলাদেশে পরীক্ষা করা প্রতি ১০টি শিগেলা নমুনার মধ্যে ৬টিই একাধিক অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা (Multi-drug resistance) গড়ে তুলেছে। এছাড়া, প্রতি ১০টির মধ্যে ১টিতে দেখা মিলেছে ব্যাপক মাত্রার ড্রাগ রেজিস্ট্যান্স বা এক্সডিআর, যা চিকিৎসকদের জন্য এই রোগ নিরাময় অত্যন্ত কঠিন করে তুলছে।

আইসিডিডিআর,বি-র সিনিয়র সায়েন্টিস্ট ড. ফেরদৌসী কাদরী এবং ড. ফারহানা খানম যৌথভাবে গবেষণার মূল ফলাফল ও সুপারিশমালা উপস্থাপন করেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিকল্পনা ও গবেষণা পরিচালক ডা. শাহ নেওয়াজ দেওয়ান-এর স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু হওয়া উক্ত সভায় আরও বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমি, পরিচালক (প্রশাসন), স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, অধ্যাপক ডা. ফোয়ারা তাসনিম, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন), স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এছাড়াও রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ, আইএফআরসি, সিটি কর্পোরেশনসহ বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

আইসিডিডিআর,বি-র জরুরি সুপারিশসমূহ

রোগের বিস্তার রোধ এবং চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য করতে আইসিডিডিআর,বির পক্ষ থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে

১। অ্যান্টিবায়োটিকের অযৌক্তিক ব্যবহার রোধ এবং এর প্রতিরোধ ক্ষমতা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা।

২। ডায়রিয়া চিকিৎসায় ওরাল স্যালাইন, জিংক এবং সঠিক অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার নিশ্চিত করা।

৩। আধুনিক ডায়াগনস্টিক পরীক্ষার সুযোগ ও পরিধি বাড়ানো।

৪। শৈশবের রোগ ব্যবস্থাপনায় স্বাস্থ্যকর্মীদের আরও উন্নত ও কার্যকর প্রশিক্ষণ প্রদান।

এসইউজে/এসএনআর

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow