ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের লিংক রোডের বেহাল দশা

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের লিংক রোডখ্যাত নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের পাশ দিয়ে ভবনাথপুর এলাকায় যাওয়ার সংযোগ সড়কটি এখন বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে জমে থাকা ঘোলা পানিতে ঢেকে যাচ্ছে খানাখন্দ। এতে মূল রাস্তা আর গর্তের পার্থক্য বুঝতে না পেরে প্রায়ই বিপাকে পড়ছেন চালকরা। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, নারী ও বয়স্ক মানুষের পারাপার চরম দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। গুরুত্বপূর্ণ এই লিংক রোডের বেহাল দশার কারণে উপজেলার কয়েক লাখ মানুষসহ হাজারো শিক্ষার্থী ও পথচারী প্রতিদিন চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। সোনারগাঁ থানা, উপজেলা পরিষদ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পৌরসভা ও বারদী ইউনিয়নসহ জনবহুল বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াতের এটি অন্যতম প্রধান এবং ব্যস্ততম রুট। চলমান বর্ষার অতিবৃষ্টিতে সড়কটির পিচ ও খোয়া উঠে তৈরি হয়েছে বড় বড় মরণঘাতী গর্ত। কোথাও কোথাও সড়কের একাংশ ধসে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল ঠেকেছে চরম ঝুঁকিতে। সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের যান চলাচল করছে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। এলাকার বাসিন্দা হযরত আলী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে র

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের লিংক রোডের বেহাল দশা
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের লিংক রোডখ্যাত নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের পাশ দিয়ে ভবনাথপুর এলাকায় যাওয়ার সংযোগ সড়কটি এখন বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে জমে থাকা ঘোলা পানিতে ঢেকে যাচ্ছে খানাখন্দ। এতে মূল রাস্তা আর গর্তের পার্থক্য বুঝতে না পেরে প্রায়ই বিপাকে পড়ছেন চালকরা। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, নারী ও বয়স্ক মানুষের পারাপার চরম দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। গুরুত্বপূর্ণ এই লিংক রোডের বেহাল দশার কারণে উপজেলার কয়েক লাখ মানুষসহ হাজারো শিক্ষার্থী ও পথচারী প্রতিদিন চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। সোনারগাঁ থানা, উপজেলা পরিষদ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পৌরসভা ও বারদী ইউনিয়নসহ জনবহুল বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াতের এটি অন্যতম প্রধান এবং ব্যস্ততম রুট। চলমান বর্ষার অতিবৃষ্টিতে সড়কটির পিচ ও খোয়া উঠে তৈরি হয়েছে বড় বড় মরণঘাতী গর্ত। কোথাও কোথাও সড়কের একাংশ ধসে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল ঠেকেছে চরম ঝুঁকিতে। সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের যান চলাচল করছে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। এলাকার বাসিন্দা হযরত আলী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি বেহাল পড়ে থাকলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তবে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে মানুষের মনে আশার সঞ্চার হয়েছে। পিরোজপুর তার নিজের ইউনিয়ন হওয়ায় দ্রুত এই সংযোগ সড়কটি সংস্কারে তিনি কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন বলেই এলাকাবাসীর জোরালো প্রত্যাশা। দুর্বিষহ এই যাতায়াত নিয়ে সিএনজিচালক আবুল হোসেন জানান, প্রতিদিন এই সড়কে গাড়ি চালাতে গিয়ে খানাখন্দের ধাক্কায় গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়েও সবসময় আতঙ্কে থাকতে হয়। দ্রুত এই বেহাল দশা থেকে মুক্তি না মিললে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করছেন তারা। ভোগান্তির কথা জানিয়ে কলেজছাত্রী আফরিজ সুলতানা বলেন, নিয়মিত এই পথ দিয়ে কলেজে যাওয়া-আসা করতে হয়। বৃষ্টির দিনে কষ্টের সীমা থাকে না, গর্তের পানিতে কাদা মেখে ভিজে যাওয়ার পাশাপাশি হোঁচট খেয়ে আঘাত পাওয়ার ভয় থাকে সবসময়। স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটির সংস্কার না হওয়ার কারণে ইতোমধ্যে এখানে বেশ কয়েকটি ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে এবং আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীসহ সাধারণ পথচারী। দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা না করা হলে বড় ধরনের প্রাণহানির শঙ্কাও করছেন তারা। ​এ বিষয়ে পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বলেন, জনবহুল এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন অগণিত মানুষ চলাচল করেন। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে কথা হয়েছে এবং তারা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। উপজেলা প্রকৌশলী মো. সোহেল হোসাইন জানান, সড়কের এই বেহাল পরিস্থিতির বিষয়টি তাদের দপ্তরের জানা আছে। এরই মধ্যে সড়কটি সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাব পাস হলেই দ্রুততম সময়ের মধ্যে মেরামতের কাজ শুরু হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দ্রুত সংস্কারের মাধ্যমে লাখো মানুষের দীর্ঘদিনের যন্ত্রণার অবসান ঘটবে এবং এড়ানো সম্ভব হবে যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এমনটাই এখন সবার প্রত্যাশা।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow