তামাকের ফাঁদে শ্রমজীবী মানুষ : এক অদৃশ্য সংকট
বিশ্ব শ্রমিক দিবস এলেই আমরা শ্রমজীবী মানুষের অধিকার, ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও সামাজিক সুরক্ষার বিষয়গুলো নতুন করে সামনে আনি। একটি দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি এই শ্রমিকরাই। তাদের নিরলস পরিশ্রমেই গড়ে ওঠে শিল্প-কারখানা, এগিয়ে চলে উন্নয়ন। দেশের জন্য যাদের এত অবদান, তাদের স্বাস্থ্য নিয়ে আলোচনা হয় না বললেই চলে। বাংলাদেশের খেটে খাওয়া মানুষদের বড় একটি ধূমপায়ী বা তামাক জাতীয় নেশা বা ব্যবহারে অভ্যস্ত। এই তামাক ও ধূমপানের কারণে বিশ্বে প্রতি বছর প্রায় ৮০ লক্ষের বেশি মানুষ মারা যায়। বাংলাদেশেও প্রতি বছর প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটে তামাকজনিত রোগে। হৃদরোগ, ক্যানসার, স্ট্রোক ও শ্বাসতন্ত্রের নানা জটিলতা। এই ভয়াবহ পরিসংখ্যানের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষের ওপর। বাস্তবতা হলো, নিম্ন আয়ের বা দিনমজুর শ্রেণির শ্রমিকদের মধ্যে তামাক গ্রহণের হার তুলনামূলকভাবে বেশি। কঠোর পরিশ্রম, মানসিক চাপ, সামাজিক অভ্যাস কিংবা সচেতনতার অভাব-বিভিন্ন কারণে তারা ধূমপান বা অন্যান্য তামাকজাত দ্রব্যের দিকে ঝুঁকে পড়েন। কিন্তু এই সাময়িক প্রশান্তির আড়ালে লুকিয়ে থাকে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝ
বিশ্ব শ্রমিক দিবস এলেই আমরা শ্রমজীবী মানুষের অধিকার, ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও সামাজিক সুরক্ষার বিষয়গুলো নতুন করে সামনে আনি। একটি দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি এই শ্রমিকরাই। তাদের নিরলস পরিশ্রমেই গড়ে ওঠে শিল্প-কারখানা, এগিয়ে চলে উন্নয়ন। দেশের জন্য যাদের এত অবদান, তাদের স্বাস্থ্য নিয়ে আলোচনা হয় না বললেই চলে।
বাংলাদেশের খেটে খাওয়া মানুষদের বড় একটি ধূমপায়ী বা তামাক জাতীয় নেশা বা ব্যবহারে অভ্যস্ত। এই তামাক ও ধূমপানের কারণে বিশ্বে প্রতি বছর প্রায় ৮০ লক্ষের বেশি মানুষ মারা যায়। বাংলাদেশেও প্রতি বছর প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটে তামাকজনিত রোগে। হৃদরোগ, ক্যানসার, স্ট্রোক ও শ্বাসতন্ত্রের নানা জটিলতা।
এই ভয়াবহ পরিসংখ্যানের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষের ওপর। বাস্তবতা হলো, নিম্ন আয়ের বা দিনমজুর শ্রেণির শ্রমিকদের মধ্যে তামাক গ্রহণের হার তুলনামূলকভাবে বেশি। কঠোর পরিশ্রম, মানসিক চাপ, সামাজিক অভ্যাস কিংবা সচেতনতার অভাব-বিভিন্ন কারণে তারা ধূমপান বা অন্যান্য তামাকজাত দ্রব্যের দিকে ঝুঁকে পড়েন। কিন্তু এই সাময়িক প্রশান্তির আড়ালে লুকিয়ে থাকে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি। মুখগহ্বরের ক্যানসার, ফুসফুসের রোগ, হৃদরোগসহ নানা জটিল অসুখের প্রধান কারণ তামাক। ফলে যে শ্রমিক নিজের পরিবার চালাতে দিনরাত পরিশ্রম করছেন, তিনিই অজান্তে নিজের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছেন।
শ্রমিক দিবসে তাই শুধু মজুরি ও অধিকার নিয়েই সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। তাদের সুস্থ জীবনের অধিকার নিয়েও সমান গুরুত্ব দিয়ে কথা বলা জরুরি। তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, কর্মক্ষেত্রে ধূমপানমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা, এবং সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রদান-এসব বিষয়কে শ্রমিক কল্যাণের অংশ হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।
এখানে সামাজিক সংগঠন, গণমাধ্যম এবং রাষ্ট্রের সম্মিলিত উদ্যোগ অপরিহার্য। সচেতনতামূলক প্রচারণা, তামাক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নীতি বাস্তবায়ন, এবং শ্রমিকদের জন্য বিকল্প স্বাস্থ্যসম্মত অভ্যাস গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি শ্রমিকদেরও নিজেদের জীবনের মূল্য উপলব্ধি করে ক্ষতিকর অভ্যাস থেকে সরে আসার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।
একটি সুস্থ, নিরাপদ ও উৎপাদনশীল শ্রমশক্তি গড়ে তুলতে হলে শ্রমিকদের অধিকার ও স্বাস্থ্য-দুটোকেই সমান গুরুত্ব দিতে হবে। বিশ্ব শ্রমিক দিবস কেবল দাবিদাওয়া তোলার দিন নয়, বরং সচেতনতা জাগানোরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। তাই শ্রমিকের ন্যায্য প্রাপ্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের তামাকমুক্ত, সুস্থ ও নিরাপদ জীবন গড়ে তোলার অঙ্গীকারই হোক আমাদের সম্মিলিত প্রতিশ্রুতি।
লেখক : জনস্বাস্থ্য ও ক্যানসার প্রতিরোধ গবেষক, সভাপতি : ওয়ার্ল্ড ক্যানসার সোসাইটি বাংলাদেশ
What's Your Reaction?