তিন নারী বিয়ে করলেন এক পুরুষকে, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে বিতর্ক

ভারতের উত্তরপ্রদেশের আমরোহা জেলায় একই পুরুষকে বিয়ে করেছেন তিন নারী। ওই বিয়ের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়েছে। ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, একটি মন্দিরে তিন নারী একই পুরুষকে বিয়ে করছেন। হিন্দু ধর্মীয় রীতিতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে বরকে পবিত্র অগ্নিকুণ্ডের চারপাশে সাতবার ঘুরতে দেখা যায়। পরে তিনি তিন নারীর সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে দেন। एक दूल्हे को मिली 3 दुल्हनें!दुल्हन सरोज- \"लोग कह रहे है कि तू इन्हें प्यार कर पायेगा या नही कर पायेगा? इसका जबाब इनसे ही सुन लो.\"दूल्हा विकास- \"ये लोग आपस में इतना प्यार करे है, मेरे प्यार की तो इन्हें जरूरत ही नाय है.\" pic.twitter.com/ZfyGRbAkim — Farman Saifi (@FarmanSaifi1077) July 23, 2026 কারা এই চারজন? তিন নারী হলেন আমরোহার ধোরিয়া গ্রামের সরোজ, সাবিত্রী ও সন্তোষ। তাদের মধ্যে দুজন সহোদর বোন এবং তৃতীয়জন তাদের চাচাতো বা মামাতো বোন বলে জানা গেছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অনেক পোস্টে তিনজনকেই বোন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তিন নারীর স্বামী হিসেবে পরিচয় পাওয়া গেছে বিকাশ ওরফ

তিন নারী বিয়ে করলেন এক পুরুষকে, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে বিতর্ক

ভারতের উত্তরপ্রদেশের আমরোহা জেলায় একই পুরুষকে বিয়ে করেছেন তিন নারী। ওই বিয়ের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়েছে।

ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, একটি মন্দিরে তিন নারী একই পুরুষকে বিয়ে করছেন। হিন্দু ধর্মীয় রীতিতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে বরকে পবিত্র অগ্নিকুণ্ডের চারপাশে সাতবার ঘুরতে দেখা যায়। পরে তিনি তিন নারীর সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে দেন।

কারা এই চারজন?

তিন নারী হলেন আমরোহার ধোরিয়া গ্রামের সরোজ, সাবিত্রী ও সন্তোষ। তাদের মধ্যে দুজন সহোদর বোন এবং তৃতীয়জন তাদের চাচাতো বা মামাতো বোন বলে জানা গেছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অনেক পোস্টে তিনজনকেই বোন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

তিন নারীর স্বামী হিসেবে পরিচয় পাওয়া গেছে বিকাশ ওরফে বিক্কুর। তিনি আগে ওই নারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিডিও তৈরিতে ক্যামেরাম্যান হিসেবে কাজ করতেন। গত ছয় মাস ধরে তাদের ভিডিওতে তাকে স্বামী চরিত্রে দেখা যাচ্ছিল।

প্রথমে অনেকেই মনে করেছিলেন, ভিডিওগুলো কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট তৈরির জন্য বানানো হয়েছে। তবে পরে চারজনই ক্যামেরার সামনে এসে দাবি করেন, তাদের বিয়ে সত্যি হয়েছে এবং এটি কোনো ‘রিল’ বা প্রচারণামূলক ভিডিও নয়।

কেন একই পুরুষকে বিয়ে করলেন তিন নারী?

তিন নারী জানান, তারা ছোটবেলা থেকেই একসঙ্গে বড় হয়েছেন। তাই বিয়ের পর আলাদা হয়ে যাওয়ার বিষয়টি তারা মেনে নিতে পারছিলেন না।

তাদের ভাষ্য, পরিবার তাদের আলাদা আলাদা পুরুষের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এতে তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। এরপর তারা সিদ্ধান্ত নেন, আলাদা হওয়ার বদলে তিনজনই বিকাশকে বিয়ে করবেন এবং একসঙ্গে থাকবেন।

তারা আরও দাবি করেন, তিনজনই প্রাপ্তবয়স্ক এবং নিজেদের ইচ্ছা ও পারস্পরিক সম্মতিতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের ট্রল বা কটূক্তি না করারও অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।

তিন নারীর একজন বলেন, আমরা ছোটবেলা থেকে একসঙ্গে বড় হয়েছি। আলাদা হয়ে থাকার কথা কখনো ভাবিনি। যখন বুঝলাম বিয়ের পর আমাদের আলাদা হয়ে যেতে হবে, তখন আমরা এতটাই ভেঙে পড়েছিলাম যে আত্মহত্যার কথাও ভেবেছিলাম। পরে সিদ্ধান্ত নিই, মারা না গিয়ে আমরা একসঙ্গেই থাকবো এবং একজন পুরুষকে বিয়ে করবো। আমরা সবাই প্রাপ্তবয়স্ক এবং নিজেদের ইচ্ছায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

জানা গেছে, সরোজ বিএসসি বা বিটেক পর্যায়ে পড়াশোনা করছেন। সাবিত্রী ও সন্তোষ দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন।

বিকাশ জানান, তিন নারীর মধ্যে গভীর সম্পর্কের বিষয়টি তিনি জানতেন। তাদের ইচ্ছাকে সম্মান করেই তিনি এই বিয়েতে রাজি হয়েছেন।

মন্দির কর্তৃপক্ষের দাবি, বিয়ের বিষয়ে তারা কিছু জানেন না

ভিডিওগুলো উত্তরপ্রদেশের হাসানপুর এলাকার মা চামুণ্ডা মন্দিরে ধারণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে মন্দির কর্তৃপক্ষ এই বিয়ের বিষয়ে কোনো তথ্য থাকার কথা অস্বীকার করেছে।

তাদের দাবি, ভিডিও ধারণের সময় মন্দিরে সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছিল। ওই সময় কোনো পুরোহিত বা মন্দিরের কর্মী সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। ফলে এমন কোনো বিয়ে মন্দির প্রাঙ্গণে হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তারা কিছু জানেন না।

ভাইরাল ভিডিও ঘিরে আইনি বিতর্ক

ভিডিওগুলো ভাইরাল হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে। কয়েকটি হিন্দু সংগঠন এই বিয়ের বৈধতা এবং ধর্মীয় রীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে অনেকে বলছেন, সংশ্লিষ্ট সবাই যদি প্রাপ্তবয়স্ক হন এবং নিজেদের সম্মতিতে সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে তাদের ব্যক্তিগত জীবনের সিদ্ধান্তে অন্যদের হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়।

অনলাইনে সমালোচনা ও কটূক্তি বাড়তে থাকলে তিন নারী আরও একটি ভিডিও প্রকাশ করে নিজেদের সিদ্ধান্তের পক্ষে বক্তব্য দেন। হিন্দু পুরাণের প্রসঙ্গ টেনে তারা প্রশ্ন করেন, প্রাচীনকালে রাজা দশরথের তিন স্ত্রী ছিলেন। তাহলে সেটিকে কি অপমানজনক বলা হয়েছিল?

হিন্দু আইনে কী বলা আছে?

ভারতের হিন্দু ম্যারেজ অ্যাক্ট, ১৯৫৫ অনুযায়ী, কোনো হিন্দু পুরুষ বা নারী বৈধভাবে বিয়ে করতে পারবেন কেবল তখনই, যখন বিয়ের সময় তার কোনো জীবিত স্বামী বা স্ত্রী থাকবে না।

অর্থাৎ, একজন হিন্দু পুরুষ একই সময়ে একাধিক নারীকে আইনগতভাবে বিয়ে করতে পারেন না। প্রথম বিয়ে বহাল থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় বিয়ে করলে সেই বিয়ে আইনত অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

এ ধরনের ঘটনায় ভারতের ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর ৮২ নম্বর ধারা অনুযায়ী ফৌজদারি দায়ও তৈরি হতে পারে। এই ধারা বহুবিবাহ বা একই সময়ে একাধিক বৈধ বিয়ের বিষয়টি নিয়ে আইনি ব্যবস্থা নির্ধারণ করে।

তবে আমরোহার এই ভাইরাল বিয়ের ঘটনা নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

সূত্র: এনডিটিভি

এমএসএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow