তিন সন্তানকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ বাবা-মা

২ ছেলে ৩ মেয়ে নিয়ে দারিদ্র্যের মাঝেও সুখের স্বপ্ন দেখেছেন কৃষক ইউসুফ-হোসনেয়ারা দম্পতি। কে জানত একদিন তাদের এই স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে যাবে।  বড় মেয়ে রুজি আক্তার (১৮) ৯ম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়ে, পরে চিকিৎসক জানায় রুজির শরীরে দুরারোগ্য ব্যাধি ক্যানসার বাসা বেঁধেছে। লেখাপড়া ছেড়ে কয়েক বছর চিকিৎসার পর নিঃস্ব হয়ে পড়ে পরিবারটি। ২০১৯ সালে রুজি চিরবিদায় নেয়। শোক কেটে উঠাতে না উঠতেই ২০২২ সালে হঠাৎ বজ্রপাতে মৃত্যু ঘটে মেঝ ছেলে কোরআনে হাফেজ মো. ফোরকানের (১৭)। এর ২ বছর পর কিডনি রোগে আক্রান্ত হয় তৃতীয় ও একমাত্র পুত্র সন্তান মো. মিজান (১৭)।  ২ বছর চিকিৎসা শেষে বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে মিজানেরও মৃত্যু ঘটে। এভাবে পরপর ৩ সন্তানকে হারিয়ে চট্টগ্রামের আনোয়ারার রায়পুর ইউনিয়নের কৃষক ইউসুফ-হোসনেয়ারা দম্পতির স্বপ্ন বজ্রপাতে চুরমার হয়ে পড়েছে। এখন পরিবারের ছোট দুই কন্যা সন্তানকে নিয়েই বাকরুদ্ধ হয়ে বেঁচে আছে তাদের বাবা-মা। বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে তাদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, আত্মীয়-স্বজনরা সবাই উপস্থিত হলেও বাবা-মাকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা কেউ খোঁজে পাচ্ছে না। বাকরুদ্ধ হয়ে সবার দিকে থাকিয়ে সন্ত

তিন সন্তানকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ বাবা-মা

২ ছেলে ৩ মেয়ে নিয়ে দারিদ্র্যের মাঝেও সুখের স্বপ্ন দেখেছেন কৃষক ইউসুফ-হোসনেয়ারা দম্পতি। কে জানত একদিন তাদের এই স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে যাবে। 

বড় মেয়ে রুজি আক্তার (১৮) ৯ম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়ে, পরে চিকিৎসক জানায় রুজির শরীরে দুরারোগ্য ব্যাধি ক্যানসার বাসা বেঁধেছে। লেখাপড়া ছেড়ে কয়েক বছর চিকিৎসার পর নিঃস্ব হয়ে পড়ে পরিবারটি। ২০১৯ সালে রুজি চিরবিদায় নেয়।

শোক কেটে উঠাতে না উঠতেই ২০২২ সালে হঠাৎ বজ্রপাতে মৃত্যু ঘটে মেঝ ছেলে কোরআনে হাফেজ মো. ফোরকানের (১৭)। এর ২ বছর পর কিডনি রোগে আক্রান্ত হয় তৃতীয় ও একমাত্র পুত্র সন্তান মো. মিজান (১৭)। 

২ বছর চিকিৎসা শেষে বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে মিজানেরও মৃত্যু ঘটে। এভাবে পরপর ৩ সন্তানকে হারিয়ে চট্টগ্রামের আনোয়ারার রায়পুর ইউনিয়নের কৃষক ইউসুফ-হোসনেয়ারা দম্পতির স্বপ্ন বজ্রপাতে চুরমার হয়ে পড়েছে। এখন পরিবারের ছোট দুই কন্যা সন্তানকে নিয়েই বাকরুদ্ধ হয়ে বেঁচে আছে তাদের বাবা-মা।

বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে তাদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, আত্মীয়-স্বজনরা সবাই উপস্থিত হলেও বাবা-মাকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা কেউ খোঁজে পাচ্ছে না। বাকরুদ্ধ হয়ে সবার দিকে থাকিয়ে সন্তানকে খোঁজে পাওয়ার চেষ্টা করছে বাবা ইউসুফ ও মা হোসনেয়ারা বেগম।

প্রতিবেশী হাফেজ আবদুল খালেক জানান, একটা পরিবারে এমন দুঃস্বপ্ন নেমে আসবে আমরা কল্পনাও করিনি। বাবা-মাকে কীভাবে সান্ত্বনা দেব বুঝতেছি না।

নিহত মিজানের মামা মো. সাহাব উদ্দিন বলেন, মিজানের বাবা ইউসুফও অসুস্থ। সন্তানদের চিকিৎসার খরচ চালিয়ে তারা এখন নিঃস্ব। বড় ছেলে ফোরকান কোরআনে হাফেজ হওয়ার পর বাবা-মা স্বপ্ন দেখেছিল। সেই স্বপ্ন বেশিদিন থাকেনি। এখন ছোট ছেলেও চলে গেল।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ছৈয়দ নুর বলেন, তিন সন্তানকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ দরিদ্র পরিবারটির পাশে দাঁড়ানো সবার দায়িত্ব।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow