দয়াল দত্তের ৩টি কবিতা
রক্তাক্ত মঞ্চ মার্চের সন্ধ্যা নেমেছিল নরম আলোর মতো, গানের সুরে ভেসেছিল মাটির গভীর ব্যথা— হঠাৎ আকাশ ফেটে আগুন ঝরে পড়ল, মানুষের চিৎকার ছাপিয়ে নীরব হলো ব্যথা। মঞ্চের ওপর ছড়িয়ে রইলো ছিন্ন স্বপ্ন, কাঁপতে থাকা বাতাস বললো— ‘এ কেমন উৎসব?’ হাসির ভেতর লুকিয়ে ছিল মৃত্যু, ফুলের মালায় গন্ধ ছিল রক্তের। মায়ের কোলে ফিরল না যে সন্তান, তার বইখানা খোলা রইল টেবিলের কোণে। কারও সিঁথির সিঁদুর মুছে গেল ধোঁয়ায়, কারও কণ্ঠস্বর থেমে গেল চিরতরে। তবু জানো— রক্তে ভেজা সেই মাটি আজও গান গায়, কারণ স্বপ্নকে বোমা মারে না, সত্যকে আগুন পোড়ায় না। যারা চলে গেছে, তাদের নাম লেখা আছে বাতাসে— প্রতিটি সুরে, প্রতিটি প্রতিবাদে, প্রতিটি নতুন সূর্যের আলোয়। আজও যখন মার্চ আসে, মাটির ভেতর থেকে শোনা যায় এক ডাক— ‘আমরা হারাইনি, আমরা রয়ে গেছি তোমাদের সাহসে।’ মা মা আমার জীবনের প্রথম আলো। পৃথিবীর রঙ, মানুষের মায়া, ভালো-মন্দের পার্থক্য— সবকিছু প্রথম শিখেছি তার কাছেই। ছোটবেলায় মায়ের হাতের আঙুল ধরে যখন হাঁটতে শিখেছিলাম, তখন বুঝিনি সেই হাতের ভরসাটাই একদিন আমার পুরো পৃথিবী হয়ে উঠবে। মা শিখিয়েছেন শিষ্টাচার, শিখ
রক্তাক্ত মঞ্চ
মার্চের সন্ধ্যা নেমেছিল নরম আলোর মতো,
গানের সুরে ভেসেছিল মাটির গভীর ব্যথা—
হঠাৎ আকাশ ফেটে আগুন ঝরে পড়ল,
মানুষের চিৎকার ছাপিয়ে নীরব হলো ব্যথা।
মঞ্চের ওপর ছড়িয়ে রইলো ছিন্ন স্বপ্ন,
কাঁপতে থাকা বাতাস বললো—
‘এ কেমন উৎসব?’
হাসির ভেতর লুকিয়ে ছিল মৃত্যু,
ফুলের মালায় গন্ধ ছিল রক্তের।
মায়ের কোলে ফিরল না যে সন্তান,
তার বইখানা খোলা রইল টেবিলের কোণে।
কারও সিঁথির সিঁদুর মুছে গেল ধোঁয়ায়,
কারও কণ্ঠস্বর থেমে গেল চিরতরে।
তবু জানো—
রক্তে ভেজা সেই মাটি আজও গান গায়,
কারণ স্বপ্নকে বোমা মারে না,
সত্যকে আগুন পোড়ায় না।
যারা চলে গেছে,
তাদের নাম লেখা আছে বাতাসে—
প্রতিটি সুরে, প্রতিটি প্রতিবাদে,
প্রতিটি নতুন সূর্যের আলোয়।
আজও যখন মার্চ আসে,
মাটির ভেতর থেকে শোনা যায় এক ডাক—
‘আমরা হারাইনি,
আমরা রয়ে গেছি তোমাদের সাহসে।’
মা
মা আমার জীবনের প্রথম আলো। পৃথিবীর রঙ, মানুষের মায়া, ভালো-মন্দের পার্থক্য— সবকিছু প্রথম শিখেছি তার কাছেই। ছোটবেলায় মায়ের হাতের আঙুল ধরে যখন হাঁটতে শিখেছিলাম, তখন বুঝিনি সেই হাতের ভরসাটাই একদিন আমার পুরো পৃথিবী হয়ে উঠবে।
মা শিখিয়েছেন শিষ্টাচার, শিখিয়েছেন মানুষের প্রতি সম্মান আর ভালোবাসা। ভুল করলে কখনো বকেছেন, আবার পরম মমতায় বুকে টেনে নিয়েছেন। তার চোখে রাগের থেকেও বেশি ছিল দুশ্চিন্তা, যেনো আমি কোনো কষ্ট না পাই।
মায়েরা অদ্ভুত রকমের মানুষ— নিজের কষ্টগুলো তারা লুকিয়ে রাখে। রাতের পর রাত জেগে সন্তানের জ্বর দেখে, নিজের ক্ষুধা ভুলে সন্তানের পেট ভরায়, নিজের স্বপ্নগুলো চুপচাপ ত্যাগ করে সন্তানের স্বপ্নপূরণ করতে চায়।
মায়ের ভালোবাসা নিঃস্বার্থ, গভীর আর অনন্ত। জীবনের শেষ শক্তিটুকু থাকলেও মা সন্তানের জন্য দিয়ে যান। সন্তানের মুখে একটুখানি হাসি দেখলেই যেন তার সব কষ্ট দূর হয়ে যায়।
এই পৃথিবীতে অনেক সম্পর্ক আছে, অনেক ভালোবাসা আছে— কিন্তু মায়ের মায়া, মায়ের মমতা আর মায়ের ত্যাগের মতো গভীর কিছু নেই।
মা আছেন বলেই পৃথিবীটা এত আপন, এত উষ্ণ, এত ভালোবাসায় ভরা।
অমর সেই আহ্বান
একটি ফুল থেকে আজকের শীতল ছায়া,
প্রিয় বাংলাদেশ— স্বাধীন সার্বভৌম মায়া।
নিভৃত আকাশে উঠেছিল এক বজ্রকণ্ঠের ডাক,
কাঁপিয়ে দিয়েছিল ঘুমিয়ে থাকা বাংলার প্রতিটি প্রাণ একসাথে এক পাক।
একটি ভাষণের আবেদনে কী অপূর্ব সাড়া,
মাঠে-ঘাটে জেগে উঠেছিল মুক্তির অগ্নিধারা।
শত বছরের বঞ্চনা ভেঙে জেগে উঠল মন,
স্বাধীনতার স্বপ্নে জ্বলে উঠল সমগ্র ভূখণ্ড।
রক্তে লেখা পথ, অশ্রুতে ভেজা দিন,
তবু মাথা নত নয়—এই ছিল জাতির ঋণ।
সবুজের বুকে লাল সূর্যের জাগরণ,
শহীদের রক্তে লেখা স্বাধীনতার ঘোষণা।
আজও সেই আহ্বান বাতাসে বাজে নিরন্তর,
সাহস শেখায়, জাগায় প্রাণে অগ্নিঝর।
প্রিয় বাংলাদেশ, তোমার ইতিহাস দীপ্তিমান—
এক বজ্রকণ্ঠের ডাকে জেগেছিল সমগ্র বাঙালিয়ান।
What's Your Reaction?