দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ভেন্টিলেটর ‘ভেন্টাস’র সফল ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল

বাংলাদেশের চিকিৎসাবিজ্ঞানে এক নতুন মাইলফলক স্থাপিত হলো। দেশের গবেষক ও প্রকৌশলীদের উদ্ভাবিত সাশ্রয়ী মূল্যের মেকানিক্যাল ভেন্টিলেটর ‘ভেন্টাস’ -এর সফল ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল সম্পন্ন হয়েছে। সম্প্রতি জাতীয় নিউরোসায়েন্স ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) এক সংকটাপন্ন রোগীর ওপর এই যন্ত্রটির কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়। উদ্ভাবক দলের তথ্যমতে, একজন রোগীর ওপর প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে যন্ত্রটির কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করা হয়। ট্রায়াল চলাকালে রোগীর অক্সিজেন স্যাচুরেশন, রক্তচাপ, হৃদ্‌স্পন্দন, শ্বাস-প্রশ্বাসের হার এবং চেতনার মাত্রার মতো গুরুত্বপূর্ণ শারীরবৃত্তীয় সূচকগুলো নিবিড় পর্যবেক্ষণ করা হয়। ট্রায়াল শেষে আর্টেরিয়াল ব্লাড গ্যাস বিশ্লেষণের মাধ্যমে যন্ত্রটির পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করা হয়, যা প্রত্যাশিত ফলাফল দিয়েছে। আরও পড়ুন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী / তরুণদের স্বাস্থ্য ও দক্ষতায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার রোগীর বৈধ অভিভাবকের পূর্ণ সম্মতি এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের উপস্থিতিতে এই পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। এসময় জাতীয় নিউরোসায়েন্স ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালকসহ নিউরোঅ্যানেসথেসি

দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ভেন্টিলেটর ‘ভেন্টাস’র সফল ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল

বাংলাদেশের চিকিৎসাবিজ্ঞানে এক নতুন মাইলফলক স্থাপিত হলো। দেশের গবেষক ও প্রকৌশলীদের উদ্ভাবিত সাশ্রয়ী মূল্যের মেকানিক্যাল ভেন্টিলেটর ‘ভেন্টাস’ -এর সফল ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল সম্পন্ন হয়েছে।

সম্প্রতি জাতীয় নিউরোসায়েন্স ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) এক সংকটাপন্ন রোগীর ওপর এই যন্ত্রটির কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়।

উদ্ভাবক দলের তথ্যমতে, একজন রোগীর ওপর প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে যন্ত্রটির কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করা হয়। ট্রায়াল চলাকালে রোগীর অক্সিজেন স্যাচুরেশন, রক্তচাপ, হৃদ্‌স্পন্দন, শ্বাস-প্রশ্বাসের হার এবং চেতনার মাত্রার মতো গুরুত্বপূর্ণ শারীরবৃত্তীয় সূচকগুলো নিবিড় পর্যবেক্ষণ করা হয়। ট্রায়াল শেষে আর্টেরিয়াল ব্লাড গ্যাস বিশ্লেষণের মাধ্যমে যন্ত্রটির পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করা হয়, যা প্রত্যাশিত ফলাফল দিয়েছে।

রোগীর বৈধ অভিভাবকের পূর্ণ সম্মতি এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের উপস্থিতিতে এই পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। এসময় জাতীয় নিউরোসায়েন্স ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালকসহ নিউরোঅ্যানেসথেসিয়া, ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন।

এই উদ্ভাবনী প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব দিয়েছেন নিউরোসায়েন্স হাসপাতালের আইসিইউ কনসালটেন্ট ডা. আসিফ উর রহমান, কার্ডিওলজির পোস্টগ্র্যাজুয়েট ট্রেইনি ডা. সিফায়েত ইনাম স্বাক্ষর এবং প্রকৌশলী বায়েজিদ শুভ। দীর্ঘ সাত বছরের কঠোর গবেষণা ও প্রচেষ্টার ফসল এই ‘ভেন্টাস’।

ডা. আসিফ উর রহমান বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য হলো স্বল্প খরচে দেশের প্রতিটি প্রান্তের সংকটাপন্ন রোগীর কাছে ভেন্টিলেটর সেবা পৌঁছে দেওয়া। দীর্ঘ সাত বছরের পরিশ্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ আজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা পেলে প্রয়োজনীয় বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন ও অনুমোদনের মাধ্যমে আমরা ভেন্টাস-কে দেশের চিকিৎসাসেবার মূলধারায় যুক্ত করতে চাই।

প্রাথমিক পরীক্ষায় সফল হলেও যন্ত্রটির নিরাপত্তা, দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা এবং প্রচলিত বিদেশি ভেন্টিলেটরের সঙ্গে তুলনামূলক মান যাচাইয়ের জন্য আরও বিস্তৃত ক্লিনিক্যাল মূল্যায়নের প্রয়োজন রয়েছে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। উদ্ভাবক দলটি এখন সরকারি ও সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের প্রক্রিয়ার দিকে নজর দিচ্ছে।

চিকিৎসকদের মতে, ভেন্টাসের মতো দেশীয় প্রযুক্তির ভেন্টিলেটর বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করা সম্ভব হলে দেশের স্বাস্থ্যখাত বড় ধরনের স্বনির্ভরতা অর্জন করবে। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জন্য আইসিইউ সেবা অনেক বেশি সহজলভ্য হয়ে উঠবে।

এসইউজে/কেএসআর

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow